শনিবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

English

ইরানে জনপ্রিয় হচ্ছে পাখি-দেখা পর্যটন

পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০২০ 

news-image

ইরানে পাখি-দেখা পর্যটনের প্রসার ঘটছে। সম্প্রতি একদল পাখিপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও গবেষক একটি বার্ড-ওয়াচিং সফরকে কেন্দ্র করে একত্রে হন। ইরানের কেন্দ্রীয় ইসফাহান প্রদেশের লেনজান কাউন্টির বাক-বাহাদোরানের নিকটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা ব্যতিক্রমী এই সফরটি সম্পন্ন করেন। নানা প্রজাতির পাখিদের আবাসস্থল হওয়ায় ইরানে দিন দিন বাড়ছে এই ধরনের পর্যটকদের সংখ্যা।


তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় বার্ড-ওয়াচিং কমিটির আয়োজনে এবছর এটিই ছিল ওই শহরের প্রথম পাখি-দেখার ভ্রমণ। রোববার লেনজান পর্যটন প্রধান আহমাদ ফাথি জানান, করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে আরোপিত বিধিনিষেধ মেনেই পাখি-দেখার এই সফরের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, লেনজান বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও কয়েকটি ঐতিহাসিক কবুতর টাওয়ারের আবাসস্থল। এ কারণে শহরটি পাখি পর্যবেক্ষকদের কাছে পর্যটনের একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে এই ধরনের পর্যটন ওই অঞ্চলের বিদ্যমান প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পত্তি যথাযথ সংরক্ষণেও সাহায্য করবে।

আহমাদ ফাথি আরও জানান, জায়ানদেহ নদীর তীরে লেনজানে বহু বাগান ও মূল্যবান প্রকৃতি রয়েছে। যা ইকোট্যুরিজমের একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে সাহায্য করবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার পর এই ধরনের ভ্রমণের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইরানে এ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচশ প্রজাতির পাখি শনাক্ত ও নিবন্ধিত হয়েছে। বার্ড-ওয়াচিং হচ্ছে পাখিদের তাদের নিজস্ব আবাসস্থলে জীবন্ত পর্যবেক্ষণ করা। এটি সময় কাটানোর জনপ্রিয় একটি উপায় ও বৈজ্ঞানিক স্পোর্ট হিসেবে প্রসিদ্ধ। বিশ শতক ব্যাপী এটি বিকশিত হয়।

ইরানে দক্ষিণ কাসপিয়ান সাগরের অববাহিকা পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিখ্যাত একটি স্বর্গ রাজ্য। সাধারণত এখানে মধ্য মে পর্যন্ত উত্তুরে অতিথি পাখিদের আধিপত্য থাকে। এসময় অভিবাসন মৌসুম শেষ হয়ে আসে। শরতকালের মাঝামাঝি কাসপিয়ান সাগরের দক্ষিণ বালুকাময় তীরে ৭০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দশ লক্ষাধিক অভিবাসী পাখির সমাগম ঘটে।

ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলান, গোলেস্তান ও মাজান্দারান বিভিন্ন ধরনের সতেজ পানির লেক, জলাভূমি ও উপহ্রদে সমৃদ্ধ। এই তিন প্রদেশ পেলিকানস, ফ্ল্যামিংগো, হাঁস, রাজহাঁস, কুটস এবং অন্যান্য কিছু প্রজাতির পরিযায়ী পাখির প্রধান গন্তব্য।


এদিকে, গত বুধবার ইরানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় আরদেবিল প্রদেশে পাখি-দেখার ওপর অনলাইন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দেশটিতে প্রথম এই ধরনের সেমিনার আয়োজন করা হয়। এতে একদল পাখি উদ্যমী, শিক্ষার্থী ও গবেষক যোগ দেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তায় সেমিনারটি আয়োজন করে প্রাদেশিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও হস্তশিল্প দপ্তর। সূত্র: তেহরান টাইমস।