সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরানে এগিয়ে আসছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: অতীত থেকে বর্তমান

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২৬, ২০১৭ 

news-image

আগামী ১৯ মে ইরানে ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত ১১ এপ্রিল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নাম নিবন্ধনের কাজ শুরু হয় এবং ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলে। এরপর ইরানের অভিভাবক পরিষদ প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার অভিযানে নামবেন এবং ২০ দিন ধরে এ প্রচার অভিযান চলবে।

ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর ৩৮ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ চার বছর এবং প্রতি চার বছর পরপর নির্বাচন দেয়া হয়।

ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর প্রথম বিপ্লব বার্ষিকীর ১৭দিন আগে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ১১ দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এর মধ্যে ৭ জন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পর্যন্ত যে ১১টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে কেবল প্রথম দফা নির্বাচনের সময় অভিভাবক পরিষদ ছিল না। এরপর থেকে বাকী নির্বাচনে প্রার্থী যাচাই বাছাইয়ের কাজ অভিভাবক পরিষদই আঞ্জাম দিয়েছে।

ইরানের যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিল তা  হচ্ছে  প্রেসিডেন্ট আহমাদি নেজাদের সময়। ফার্সি ১৩৮৮ সালের ওই নির্বাচনে ৮৫ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছিলেন। সবচেয়ে কম সংখ্যক ভোটার অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট রাফসানজানির সময়। ফার্সি ১৩৭২ সালের ওই নির্বাচনে ৫০.৬৬ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছিলেন। ফার্সি ১৩৮৮  সালে প্রেসিডেন্ট আহমাদি নেজাদ দুই কোটি ৪০ লাখ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেছিলেন অন্যদিকে ফার্সি ১৩৭২ সালের নির্বাচনে এক কোটি ভোট পেয়ে রাফসানজানি বিজয়ী হয়েছিলেন।

তবে ফার্সি ১৩৮৪ সালের নির্বাচনে রাফসানজানি  ও আহমাদি নেজাদ কেউই পর্যাপ্ত সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়িয়েছিল।ওই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আহমাদি  নেজাদ বিজয়ী হন। এ পর্যন্ত তিন জন প্রেসিডেন্ট তাদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। প্রথম প্রেসিডেন্ট বনি সাদর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫০০ দিন পর অপসারিত হয়েছিলেন। এরপর দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাঈ দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন।

এরপর তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসাবে হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম চার বছরের মেয়াদ শেষ করলেও পরবর্তী চার বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। কারণ ইসলামী বিপ্লবের স্থপতি ইমাম খোমেনি(র.) পরলোক গমন করায় নতুন রাহবার বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসাবে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীকে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর রাফসানজানি পরবর্তী নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সূত্র: পার্সটুডে।