সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

ইরানে উত্তপ্ত মরুর বুকে ২৫০ কিলোমিটারের ম্যারাথন

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ১, ২০১৮ 

news-image

উত্তপ্ত মরুর বুকে শুরু হলো টানা নয় দিনের দূরপাল্লার দৌড় প্রতিযোগিতা ‘ইরানিয়ান সিল্ক রোড আল্ট্রাম্যারাথন ’। তৃতীয়বারের মতো এই দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ইরানের লুত মরুভমির বুকে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়া লুত মরুভূমি পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের ওপরে সবচেয়ে উষ্ণতম জায়গা। দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই ম্যারাথনের আয়োজন করেছে ইরান। 

তেহরান টাইমসের খবরে বলা হয়, তৃতীয় ‘ইরানিয়ান সিল্ক রোড আল্ট্রাম্যারাথন’ অংশ নিয়েছেন দেশি বিদেশি ১৮জন দৌড়বিদ। ২৫০ কিলোমিটারের দূরপাল্লার ম্যারাথন শনিবার ২৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। টানা নয় দিনের এই দুঃসাহসিক দৌড়প্রতিযোগিতা শেষ হবে ৭ অক্টোবর্।

ইতালি, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও ইরান থেকে মোট ১৮ জন প্রতিযোগী ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে দুটি ফরমেটে। যার একটি ২৫০ কিলোমিটারের, অপরটি ১৫০ কিলোমিটারের। তবে উভয় ফরমেটে অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের জন্য রাস্তা ও সময় থাকছে একই।

লুত মরুভূমি ‘পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম জায়গা’র তকমাটা প্রথমবারের মতো অর্জন করে ২০০৫ সালে। সেসময় সেখানে ৭০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে আসে। এতে সাত বছরের তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করা হয়। এই সাত বছরের মধ্যে পাঁচ বছরই অঞ্চলটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

ইরানের কেরমান প্রদেশের পর্যটন বিভাগের প্রধান গোলামরেজা ফাররোখি গত সপ্তাহে বলেন, নিঃসন্দেহে এই ধরনের ইভেন্টের আয়োজনে অঞ্চলটি অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করবে।

তিনি জানান, পর্যটন ইভেন্টটি শুরু হবে শাহদাদ জেলার মালেকাবাদ থেকে। ২৫০ কিলোমিটারের ম্যারাথনটি সেখানকার মাহান এয়ারের ক্যাম্প এলাকা থেকে শুরু হবে। অতঃপর শফিয়াবাদ দুর্গ, ডলফিন উপত্যকা, গন্দম বরিয়ান, রুদশুর, হাওযে-ই নাদর কারভানসারাই মধ্যদিয়ে জাভার গ্রামে গিয়ে এটি শেষ হবে।

ইভেন্টে ট্যুর গাইড ও পথ নির্দেশক হিসেবে থাকবেন ৪০জন। সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও সহায়তা করবেন বলে জানান কেরমান প্রদেশের পর্যটন বিভাগের প্রধান।

আয়োজকদের তথ্যমতে, দুটি বিভাগে দৌড়প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ দুই ফরমেটে হলো- ‘ইনটেগরাল ২৫০ কিলোমিটার’ ও ‘লাইট ১৫০ কিলোমিটার’। প্রথম ফরমেটে রয়েছে মোট ৬টি ধাপ। এতে দিনে ৩৫/৪৫ কিলোমিটার দৌড়াতে হবে। দ্বিতীয় ফরমেটে ৬ ধাপে দিনে ২০/৩০ কিলোমিটার দৌড়াতে হবে।

লাইট বিভাগে যেসব অ্যাথলেট অংশ নেবেন তারা প্রথম চেকপয়েন্ট পর্যন্ত সরাসরি পরিবহনের সুবিধা পাবেন। অতঃপর সেখান থেকে তারা প্রাত্যহিক ধাপের ম্যারাথন শুরু করবেন। তবে উভয় বিভাগের প্রতিযোগিতার জন্য একই পথ, একই তাঁবু ক্যাম্প ব্যবহার করা হবে। সময়ের পরিমাণও একই।

প্রতি ধাপের ম্যারাথন শেষে অ্যাথলেটদের তাঁবুর তৈরি শিবিরে নেওয়া হবে। সেখানে তারা রাত্রি যাপন করবেন। ২৫০ কিলোমিটারের ম্যারাথনে অংশ নেওয়া অ্যাথলেটরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল প্রায় ৩টা পর্যন্ত মাঠ থেকে মাঠ দৌড়াবেন।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত নিরাপদে ম্যারাথনটি অনুষ্ঠিত হবে। দশ কিলোমিটার অন্তর অন্তর চেকপয়েন্ট থাকবে। অ্যাথলেটদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য এসব চেকপয়েন্ট ও তাঁবুতে থাকবেন মেডিকেল ও নার্সিং স্টাফ। সূত্র: তেহরান টাইমস।