রবিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক: শেখ হাসিনা

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ 

news-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন।বুধবার ঢাকা সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ।পরে, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বাংলা ভাষায় অনেক ফারসি শব্দ থাকার কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে রক্ত ঝরাচ্ছে। আর এ থেকে সুবিধা ভোগ করছে অন্যরা। মুসলমানদের মধ্যে সমস্যা ও সংঘাত নিজেরাই দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এর জন্য কোনো রক্তপাতের প্রয়োজন নেই।

মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে সংঘাত বন্ধে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা- ওআইসি’কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের মধ্যে সংঘাত বন্ধে ওআইসির এগিয়ে আসা উচিত। এসময় বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

দুই দেশের মধ্যকার সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান-বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সাক্ষাতে ইরানের ওপর আমেরিকার অবরোধ আরোপের পর দেশটির বর্তমান অবস্থার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ।

ইরান, সৌদি আরবসহ সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ঐক্য চাই। সৌদি আরবসহ সব প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই। কোনো বৈরিতা চাই না।

মুসলিম দেশগুলোকে অস্ত্রের পেছনে অর্থ খরচ না করে তা জনকল্যাণে ব্যয় করার আহ্বান জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অস্ত্রের জন্য টাকা খরচ করতে চাই না। এ টাকা দিয়ে জনকল্যাণ করতে চাই।’

এ সময় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন জাওয়াদ জারিফ।

এ সাক্ষাতকালে ইরানি প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাফার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন। জ্বালানি খাতসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর নানা দিক আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পার্সটুডে।