রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের মহিলা মুজতাহিদ ও মুফাসসির নুসরাত আমীনের জীবন ও কর্ম

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৫ 

news-image

সাইয়্যেদা খানুম নুসরাত আমীন ইরানের একজন যশস্বিণী বিদুষী মহিলা আলেমের নাম। আহলে বাইতের মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ মহিলা আলেম হিসাবে তাঁর বিরাট খ্যাতি রয়েছে। ইরানের শীর্ষস্থানীয় আয়াতুল্লাহগণ তাঁকে মহিলা মুজতাহিদ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তিনি কুরআন ও হাদীস গবেষণা করে ধর্মীয় বিধান ও সিদ্ধান্ত দান বা ইজতিহাদ করার অধিকারী একমাত্র মহিলা আলেম। তাঁর সমগ্র জীবন প্রমাণ করে যে, তিনি আল্লাহর একজন বড় অলি ছিলেন।

১৮৮৬ সালে তিনি ইরানের ইসফাহানে এক ধর্মীয় পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আলী আমীনুত তুজ্জার ইসফাহানী ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ ও দানশীল ব্যক্তি। তাঁর মাতা ছিলেন অতিশয় ধার্মিক ও মানুষের কল্যাণকামী মহিলা। বাবা-মার তিন ছেলের পরে খানুম নুসরাত আমীনের জন্ম হয়।

তখনকার সামাজিক পরিবেশ-পরিস্থিতি এমন ছিল যে, খুব কম পরিবারই কন্যাসন্তানদের মক্তবে বা মাদ্রাসায় পাঠাত। এমতাবস্থায় তাঁর মহীয়সী মা তাঁকে চার বছর বয়সে কুরআন মজীদ পড়া এবং বিদ্যা শিক্ষার জন্য মক্তবে পাঠান। খানুম নুসরাত আমীন শৈশব থেকেই একাকী থাকা এবং চিন্তা-গবেষণার মধ্যে সময় কাটানোতে আগ্রহী ছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি চাচাত ভাই হাজী মীর্জা ওরফে মুঈনুত তুজ্জারের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। তিনি ইসফাহানের একজন নামকরা ব্যবসায়ী ছিলেন। এরপর থেকে তিনি সাংসারিক কাজকর্মে নিয়োজিত হন। কিন্তু সংসার জীবন কিছুতেই তাঁর জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। আর এই জ্ঞানচর্চা তাঁর সাংসারিক কাজেও বিঘ্ন সৃষ্টি করেনি। তিনি সব সময় বলতেন, ‘দাম্পত্য জীবন এক আইনগত ব্যাপার। স্ত্রীর ওপর স্বামীর কর্তব্য রয়েছে। কাজেই এ ব্যাপারে কোনমতেই ত্রুটি করা উচিত নয়।’

খানুম নুসরাত আমীন ৮ সন্তানের মা হন। কিন্তু ৭টি সন্তানই তাঁর জীবদ্দশায় অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করে। কেবল ১টি ছেলেই জীবিত ছিল। সন্তানবিয়োগ সম্পর্কে খানুম নুসরাত আমীনের প্রতিক্রিয়া ছিল : ‘আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন, তিনিই নিয়ে গেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দা সে সবকিছুকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলে মনে করে। কাজেই আল্লাহ তাআলা তার জন্য যা পছন্দ করেন, তা-ই তার জন্য মঙ্গলজনক।’

কিন্তু জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে এই বিদুষী মহিলার অধ্যবসায় এত ব্যাপক ছিল যে, তিনি বলতেন, কোন কিছুই তাঁকে ক্লাস ত্যাগে বাধ্য করতে পারবে না, এমনকি সন্তানের মৃত্যুও।

খানুম নুসরাত আমীনের অন্যতম শিক্ষক মরহুম মীর সাইয়্যেদ আলী নাজাফাবাদী বলেন : ‘একদিন শুনলাম যে, তার সন্তান মারা গেছে। মনে করলাম, এবার সে পড়াশুনায় ক্ষান্ত দেবে। কিন্তু হলো তার বিপরীত। দুদিন পর এক লোককে আমার কাছে পাঠালো যাতে পড়ানোর জন্য আমি তার বাসায় যাই। লেখাপড়ার প্রতি তার এ আগ্রহ দেখে আমি সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে যাই।’

এই অধ্যবসায়ী বিদুষী মহিলা অক্লান্ত সাধনার মাধ্যমে আরবি ব্যাকরণ, (নাহু-সারফ), বালাগাত, তাফসীর, ইলমে হাদীস, ফিকাহ, উসূল, দর্শন ও ইরফান প্রভৃতি বিষয় অধ্যয়ন করেন। তখনকার দিনে সামাজিক পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য বিদ্যমান সমস্যাদি ডিঙিয়ে তিনি উচ্চতর স্তর পর্যন্ত পড়াশুনা অব্যাহত রাখেন। এ সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেন : ‘সবসময়ই আল্লাহর দয়া আমার সাথি ছিল এবং পড়াশুনার সময় অনাবিল আনন্দ ও নূরানী অবস্থা আমার নসীব হতো।’

অনতিবিলম্বে খানুম নুসরাত আমীনের আধ্যাত্মিক প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এ পর্যায়ে তিনি আধ্যাত্মিক বিষয়াদি উদ্ঘাটন ও প্রত্যক্ষ করতে থাকেন। তিনি আল্লাহর দিকে সফরের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করেন।

তিনি পাহলভী আমলের দূষিত পরিবেশ এবং পর্দাহীনতা ও অশ্লীলতার ছোঁয়া থেকে আত্মরক্ষার জন্য অধিকাংশ পড়াশুনা নিজ ঘরে এবং আল্লামা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আলী নাজাফাবাদী ও শেখ মুর্তাজা মাজাহেরীর সান্নিধ্যে আনজাম দেন। ৪০ বছর বয়সে তাঁর অধ্যবসায় এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মারজায়ে তাকলীদ, বিশেষত আয়াতুল্লাহ আল উযমা মুহাম্মাদ কাজেম শিরাজী বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রশ্নাদি উত্থাপনের পর তাঁকে শরীয়তের হুকুম-আহকামের ফায়সালা ও সিদ্ধান্ত দেয়ার অনুমতি প্রদান করেন। খানুম নুসরাত আমীন আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ রেযা নাজাফী ইসফাহানী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মাজাহেরী নাজাফী ইসফাহানী থেকে হাদীস রেওয়ায়াতের অনুমতি লাভ করেন। এছাড়া আয়াতুল্লাহ আল-উযমা মারআশী নাজাফী ও হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন জুহাইর আল হাসনুও তাঁকে হাদীস রেওয়ায়াতের অনুমতি দেন।

খানুম নুসরাত আমীনকে ফিকাহ, উসূল ও হিকমত শিক্ষাদানকারী আয়াতুল্লাহ আগা সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আলী নাজাফাবাদী বলেছিলেন : ‘আমি এ উদ্দেশ্যে এ নারীকে শিক্ষা দান করছি যেন পরবর্তীকালে তা আমার স্মৃতি হয়ে থাকে।’

যে সময় বিভিন্ন মহলে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল যে, আসলেই কি নারী পুরুষের সমপর্যায়ের মানুষ? মানবীয় পূর্ণতার জামা কি সবসময় পুরুষদের গায়েই শোভা পাবে, না এই পূর্ণতা মেয়েদের ভাগ্যেও রয়েছে? সে সময়েই এ বিদুষী মহিলার জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক পদমর্যাদা এমন স্তরে পৌঁছে যে, শীর্ষস্থানীয় আলেম ও আধ্যাত্মিক সাধকগণ তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়াকে সৌভাগ্য বলে মনে করতেন।

এখানে উল্লেখ করা যায় যে, তাঁর স্বামী আলেম ছিলেন না এবং তাঁর সমকক্ষও ছিলেন না। স্বামীর লেখাপড়া ছিল প্রাথমিক স্তরের। কিন্তু এই বিদুষী মহিলা আলেম কখনো স্বামীর কাছে নিজের বড়াই করেননি। তাঁর বিনয় ও নম্রতা এমন পর্যায়ে ছিল যে, সমসাময়িকদের মাঝে গিয়ে কেউ তাঁকে সহজে চিনতে পারত না।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অবদান

খানুম নুসরাত আমীন সমকালীন সমাজ ব্যবস্থা দ্বারা প্রভাবিত নারী সমাজের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয়ায় খুবই ব্যথিত ছিলেন। তিনি বলতেন : ‘মহিলারা যদি তাদের মর্যাদা বুঝতে পারত, তারা যদি জানত যে, এ বিশ্ব ব্যবস্থায় তাদের কী ভূমিকা রয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি কী রহমত করেছেন তাহলে তারা সমাজে এতখানি নিগৃহীত হতো না।’

সমাজ ও ধর্মের প্রতি এই দায়িত্ববোধের কারণেই এ মহীয়সী ‘মক্তবে ফাতেমা’ নামে একটি মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা নারী সমাজের জন্য এক জ্ঞানগত ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। যার ফলে শিক্ষানুরাগী মহিলারা ফিকাহ, উসূল, হিকমাত, আধ্যাত্মিকতা, দর্শন ও নীতিবিজ্ঞান প্রভৃতি ইসলামী বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞানচর্চায় ব্রতী হয়। এই তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষা বিতরণের ক্ষেত্রে এই মাদ্রাসার ভূমিকা খুবই প্রশংসনীয়। এ মাদ্রাসার সকল ব্যয়ভার খানুম নুসরাত আমীন নিজেই বহন করতেন। তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর গৃহীত ব্যবস্থা অনুযায়ী ব্যয় নির্বাহ হতে থাকে।

যেহেতু অনেক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক পুরুষ ছিলেন এবং স্কুলে বোরকা পরিধান নিষিদ্ধ ছিল তাই ধর্মীয় পরিবারগুলোই স্কুলে গিয়ে মেয়েদের পড়াশুনা করতে দিত না। এ কারণে তিনি বালিকাদের জন্য একটি পৃথক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বই-পুস্তক ও প্রবন্ধ লিখে, ইসলামী শিক্ষার ক্লাস চালু ও তাফসীর মাহফিলের মাধ্যমে আর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব ও দিক-নির্দেশনা দিয়ে বিরাট সাংস্কৃতিক অবদান রাখেন। তিনি যদিও ঘরে বসেই পড়াশুনা ও জ্ঞান-গবেষণায় রত ছিলেন, কিন্তু সময়ের দাবিতে ইসলামের জন্য বিপদাশঙ্কা দেখা দিলে তিনি ঘরের বাইরেও পা রাখেন এবং ‘বিশ্ব ইসলামী কেন্দ্র’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাপ্তাহিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে নিয়মিত বক্তৃতা প্রদান করতেন।

মহীয়সী নুসরাত আমীনের কয়েকটি উপদেশ

খানুম নুসরাত আমীন সবসময় মহিলাদের উপদেশ দিতেন : ‘আপনারা সর্বক্ষণ জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট হোন।’ বিশেষত তিনি মহিলা সমাজ থেকে বিদগ্ধ আলেম ও মুজতাহিদ তৈরির জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিতেন।

যেসব মহিলা ঘরের বাইরে কর্মজীবনে জড়িত হতে চাইতেন, তাঁদের প্রতি খানুম আমীনের উপদেশ ছিল- ‘ইসলামী হিজাব পুরোপুরি পালন এবং শরীয়তের হুকুম-আহকামগুলো সঠিকভাবে অনুসরণের মাধ্যমে কর্মস্থলে উপস্থিত হবেন। অন্যথায় আপনাদের কাজ ও আমল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সহায়ক হবে না।’

পড়াশুনায় আগ্রহী মেয়েদের তিনি বলতেন : ‘পাঠ্য জীবনের কষ্টগুলো সহ্য করে যাও। যে কোন কিছুর বিনিময়ে পড়াশুনা অব্যাহত রাখ। কেননা, সমাজ জীবনের বিভিন্ন স্তরে ভালো ও যোগ্য লোকের অভাব প্রচণ্ডভাবে অনুভূত হচ্ছে।’

সাংসারিক কাজকর্মে জড়িত মহিলাদের প্রতি খানুম আমীনের উপদেশ ছিল, যে কোন সুযোগে তাঁরা পড়াশুনা করবেন। যাতে অজ্ঞতার কারণে তাঁদের দ্বারা পরিবারের অধিকার লঙ্ঘন না হয়। অথবা আল্লাহ না করুন তাঁরা এমন ভুল করে না বসেন যার ক্ষতিপূরণ পরবর্তীকালে সম্ভবপর না হয়। তিনি প্রায় সময় বলতেন : ‘নিজের অবস্থার প্রতি নজর রাখ। প্রথমে নিজের সাথেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবে, এরপর প্রতিদিন তার ওপর নজর রাখবে। পরিশেষে আত্মজিজ্ঞাসা করবে। যখন তোমার দ্বারা কোন অন্যায় কাজ হয়ে যায় সাথে সাথে নাফ্‌সকে তিরস্কার করবে।’

নুসরাত আমীনের লেখা গ্রন্থসমূহ

খানুম নুসরাত আমীনের বইগুলো তাঁর সুমহান ব্যক্তিত্ব ও উন্নত হৃদয়ের পরিচায়ক। অনুরূপভাবে এই মহীয়সী নারীকে চেনার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে তাঁর রচনাবলি। তিনি যেহেতু নিজেকে সবসময় গোপন রাখতে চাইতেন সেহেতু তাঁর রচনাবলি বানুয়ে ইসফাহানী অর্থাৎ খানুম ইসফাহানী বা খানুম ইরানী এই ছদ্মনামে লিখতেন। তাঁর কিতাবগুলোর নাম ও সেগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এখানে উল্লেখ করা হলো :

১. আরবাইনুল হাশেমিয়া : এটি আরবি ভাষায় লেখা তাঁর প্রথম গ্রন্থ। এই গ্রন্থে আল্লাহ তাআলার তাওহীদ ও গুণাবলি এবং শরীয়তের হুকুম ও চরিত্র সম্পর্কে দার্শনিক, আধ্যাত্মিক ও ফিকাহগত বিশ্লেষণসহ চল্লিশটি হাদীসের ব্যাখ্যা রয়েছে। কিতাবটি আরবি থেকে ফারসিতে অনুবাদ করেন খানুম হুমায়ুনী। কিতাবটির বিষয়বস্তু এতই সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ যে, নাজাফের আলেমগণ এবং কয়েকজন ঘনিষ্ঠ স্থানীয় আয়াতুল্লাহ ‘মারজা’ বিভিন্ন প্রশ্ন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত সব কঠিন পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি মুজতাহিদের পদমর্যাদা লাভ করেন।

২. কিতাবুশ শাত্তাত : এ গ্রন্থটিও আরবি ভাষায় লেখা এবং বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাব সম্বলিত। অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী কাজী তাবাতাবায়ী এবং অধ্যাপক সাইয়্যেদ হাসান আল হুসাইনীর মতো ব্যক্তিত্বরা তাঁর কাছে যেসব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন এবং তার জবাবে তিনি যা লিপিবদ্ধ করেন তাই এ বইতে সন্নিবেশিত হয়েছে।

৩. মাআদ ইয়া আখেরীন সেইরে বাশারিয়াত : এটি আখেরাত বা পরকাল সম্পর্কিত একটি উপদেশমূলক কিতাব।

৪. আন নাফাহাতুর রাহমানিয়া ফিল ওয়ারেদাতিল কালবিয়া : এই কিতাবটিতে আল্লাহর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যা আল্লাহর পথে আধ্যাত্মিক পরিভ্রমণকালে এই আল্লাহ ওয়ালা নারী লাভ করেন। তিনি নিজের অন্তরে যেসব কাশ্ফ প্রত্যক্ষ করেছেন তা আরবি ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছেন।

৫. আখলাক : কিতাবটি ইবনে মুসকুভিয়ার طهارة الاعراق কিতাবের একটি সংক্ষিপ্ত অনুবাদ। খানুম আমীন এ কিতাবের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামতগুলো টীকা আকারে উপস্থাপন করেন। কিতাবটি জ্ঞানগত, বাস্তব কর্মগত ও চরিত্র সম্পর্কিত।

৬. মাখজানুল এরফান : এটি ১৫ খণ্ডে সমাপ্ত পবিত্র কুরআন মজীদের তাফসীর। এই তাফসীর লেখার পর এই বিদুষী নারীই ইসলামের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা মুফাসসিরের মর্যাদায় অভিষিক্ত হন- যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কুরআন মজীদের বিশদ তাফসীর সমাপ্ত করেন।

৭. ‘রাভেশে খোশবাখতী ওয়া তাওসীয়ে বে খা’হারানে ঈমানী : গ্রন্থটিতে জীবনে সৌভাগ্যের অর্থ এবং তা লাভের উপায়সমূহ খুব সহজ ও সরল ভাষায় বর্ণনা করার চেষ্টা করা হয়েছে ঈমানদার বোন ও নারীদের উদ্দেশ্যে। এতে সৌভাগ্যের দু’টি প্রধান স্তম্ভ অর্থাৎ দেহের ও মনের সুস্থতা এবং চিন্তা ও আত্মার প্রশান্তি আর এ দুটি মূল স্তম্ভের উৎস যে পরকালে বিশ্বাস এবং সচ্চরিত্রতা তা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। গ্রন্থের শেষভাগে ইমামগণকে উসিলা হিসাবে গ্রহণ করা, শাফায়াতের গুরুত্ব এবং কুমন্ত্রণা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, নারীর বৈশিষ্ট্য, বিশেষত তার মর্যাদা, চরিত্র ও চারিত্রিক মূলনীতি প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

৮. মাখজানুল লায়ালী দার মানাকেবে মাওলাল মাওলা আলী আলাইহিস সালাম : একটি ভূমিকা, ১০টি অধ্যায় ও ১টি উপসংহারের সমন্বয়ে লিখিত এই গ্রন্থটি হযরত আলী (আ.)-এর গুণাবলি সম্পর্কিত। তিনি সহজভাবে সবার জন্য বোধগম্য ভাষা ব্যবহার করেছেন এই গ্রন্থে।

৯. সেইর ওয়া সুলুক দার রাভেশে আউলিয়া ওয়া তারিকে সাইরে সুয়াদা : কাশ্‌ফ, শুহুদ ও সাইর ইলাল্লাহ সম্পর্কিত এ গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের এক স্থানে তিনি লিখেন- ‘যতক্ষণ নিজ থেকে বিলীন না হবে ততক্ষণ তার মধ্যে স্থিতি লাভ করবে না। যতক্ষণ নিজের কাছে যা আছে সবই হারিয়ে না ফেলবে ততক্ষণ সেই পবিত্র হেরেমে প্রবেশাধিকার পাবে না। যতক্ষণ আশার প্রদীপ নিয়ে দূর-দূরান্তে সফর না করবে ততক্ষণ নিরাপদে নির্বিঘ্নে আপন ঘরে তোমার স্থায়িত্ব হবে না।’

খানুম নুসরাত আমীন ৯৭ বছর বয়সে ১৯৮৩ সালে ইন্তেকাল করেন।