শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের ভৌগোলিক পরিচিতি

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৩ 

news-image

 আজকের ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ইতিহাসের বৃহত্তর ইরানের অংশবিশেষ মাত্র। শুধু তা-ই নয় ভৌগোলিকভাবে যা ইরান মালভূমি তারও মাত্র শতকরা ৬৩.৪ ভাগ নিয়ে বর্তমান ইরান গঠিত যার আয়তন ১৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ১৯৫ বর্গ কিলোমিটার। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আয়তন এশিয়া মহাদেশের আয়তনের ২৭ ভাগের এক ভাগ এবং বিশ্বের স্থলভাগের ৯০ ভাগের একভাগ। ইরানের অবস্থান উত্তর গোলার্ধে-২৫ থেকে ৪০ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ এবং ৪৪ থেকে সাড়ে ৬৩ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। এ থেকে সুস্পষ্ট যে, ভূপৃষ্ঠে ইরানের অবস্থান নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। উচ্চতর অক্ষাংশে সাধারণত সারা বছর শীতল আবহওয়া থাকলেও ইরান মালভূমি হওয়া সত্ত্বেও ইরানের আবহওয়া তদ্রূপ নয়। আবশ্যই ইরানের কতক এলাকায় শীতকাল খুবই ঠাণ্ডা, তবে তা যতটা না সংশ্লি­ষ্ট অক্ষাংশ অবস্থানের কারণে, তার চেয়ে অনেক বেশি একারণে যে, ঐ সব জায়গা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে অনেক বেশি উঁচু। ইরানের উত্তর ও দক্ষিণ দুই দিকে সমুদ্রের অবস্থান। ইরানের উত্তরে কাস্পিয়ান সাগর যা আসলে এক বিশালায়তন হ্রদ; ইরানীদের নিকট এটি দারইআয়ে খাযার (খাযার সাগর) এবং দারইয়ায়ে মাযান্দারান (মাযান্দারান্ সাগর) নামে পরিচিত। আর ইরানের দক্ষিণে রয়েছে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর (আরব সাগর)। এভাবে ইরান উত্তরে ও দক্ষিণে বিশাল উপকূল ও পানিসীমার অধিকারী। ইরানের প্রতিবেশী দেশসমূহ হচ্ছে পশ্চিমে ইরাক ও তুরস্ক, উত্তরে আযারবাইজান ও তুর্কমেনিস্তান এবং পূর্বে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান।

ইরান হচ্ছে এমন একটি দেশ যা মানব জাতির সুপ্রাচীন ও প্রাগৌতিহাসিক সভ্যতার অধিকারী এবং অপর কতক সুপ্রাচীন ও প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার মাঝখানে অবস্থিত। ইরানের এক দিকে অদূরেই চীন ও সিন্ধু সভ্যতার অবস্থান, অন্য দিকে বাইনান্নাহরাইন (দুই নদীর মধ্যবর্তী দেশ মেসোপটেমিয়া বা ইরাক) এবং নীল নদ কেন্দ্রিক (মিশরীয়) সভ্যতার অবস্থান। একারণে মানব সভ্যতা গঠন ও বিকাশ বিস্তারের ইতিহাসে ইরান সব সময়ই একটি উন্নততর ও সুবিধাজনক অবস্থানের অধিকারী ছিল। তেমনি পূর্বের দুই সভ্যতা ও পশ্চিমের দুই সভ্যতার মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পারিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার কাজটিও সব সময়ই ইরানের মধ্য দিয়েই হয়েছে যা ইরানের ভূমিকা, মর্যাদা ও অবস্থানের গুরুত্ব অধিকতর বৃদ্ধি করেছে। তৈল আবিষ্কার ও উত্তোলন শুরু হবার পর ইরানের সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থানের সাথে নতুন অর্থনৈতিক অবস্থানও যুক্ত হয়েছে, যা ইরানের গুরুত্বকে আরো বৃদ্ধি করেছে এবং ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশের তুলনায় অধিকতর গুরুত্বের অধিকারী করেছে।

ইরানের সর্বোত্তর জায়গা হচ্ছে অরারাত পর্বতের পাদদেশ এবং সর্ব দক্ষিণ জায়গা হচ্ছে গাভাতার, সর্ব পশ্চিমের জায়গা তুরস্ক সীমান্তবর্তী বযারগান এবং সর্ব পূর্বের জায়গা পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কুহাক। ইরানের সর্বপশ্চিম ও সর্বপূর্ব স্থানদ্বয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান এক ঘণ্টা আঠারো মিনিট।

 

সূত্র : ড. মোহাম্মাদ মাহ্দী তাওয়াসসোলী প্রণীত আজকের ইরান, জনাব নূর হোসেন মজিদী কর্তৃক অনূদিত।