শুক্রবার, ২৫শে মে, ২০১৮ ইং, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের বিরুদ্ধে দেয়া হুমকি বাস্তবায়নের ক্ষমতা কারো নেই

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২৪, ২০১৮ 

news-image

আট বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের সাফল্য ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আজকের ইরান এমন এক শক্তিশালী অবস্থানে এসে পৌঁছেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে দেয়া হুমকি বাস্তবায়নের ক্ষমতা কারোই নেই।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে বলেছেন, “এ পর্যন্ত যেসব উন্নতি সম্ভব হয়েছে তার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে যাতে আগামী দিনের সমর শক্তি বর্তমানের চেয়ে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ হতে পারে।”

সেনাবাহিনীকে আরো উন্নত ও শক্তিশালী করার জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যে গুরুত্বারোপ করেছেন তা থেকে বোঝা যায় শত্রুর অব্যাহত হুমকি মোকাবেলায় সামরিক বাহিনীকে আরো আধুনিকায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি এ ব্যাপারে বলেছেন, “শত্রুদের গভীর চক্রান্ত ও অব্যাহত হুমকির কারণে ইরানও সামরিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে এবং এ কারণে ইরান ব্যাপক সামরিক সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাবাহিনীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ কারণে কোনো বিরতি ছাড়াই সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ইরান। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরান আজ পর্যন্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালায়নি। তবে ইরানের কর্মকর্তারা এটাও পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে তেহরান।

ইরানের সামরিক নীতি কেবল আত্মরক্ষামূলক এবং শত্রুর হুমকি মোকাবেলায় নিজস্ব শক্তির ওপর ভর করে দেশটি শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে ইরানের সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসিসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় থাকায় শত্রুর হুমকি মোকাবেলায় ইরান অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট ইরানের সেনাবাহিনীর অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ যা দেশটির শক্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং শত্রুরা হতাশ হয়ে পড়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, “আমাদের দেশ ও জনগণকে রক্ষার জন্য যে অস্ত্রের প্রয়োজন হবে তাই আমরা তৈরি করব এবং নির্দ্বিধায় তা শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করব।”

যাইহোক, সামরিক ক্ষেত্রে ইরান যে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে তা নিজস্ব প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞদের দ্বারাই সম্ভব হয়েছে। এ কারণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অতীতের মূল্যবান অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।-পার্সটুডে।