শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের প্রাচীন এই ভূগর্ভস্থ শহরটি এখন আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ 

news-image

বিশালায়তনের এই ভূগর্ভস্থ শহরটি প্রাচীনকালে ব্যবহার হতো প্রতিরক্ষার কাজে। বহিঃশত্রুদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে এখানকার অধিবাসীরা আশ্রয় নিত শহরটির অভ্যন্তরে। এখন জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য প্রস্তুত মধ্য ইরানের এই শহরটি।

ইরান, এমনকি পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে এটিকে সবচেয়ে বড় ভূগর্ভস্থ শহর হিসেবে ধারণা করা হয়। শহরটিতে দুই মৌসুমে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞরা এপর্যন্ত ৪শ বর্গমিটার ভূগর্ভস্থ স্থান এবং উত্তরণ পথ খনন করেছেন।

ইরানের তাফতেশ শহরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ শহরটি কয়েক বছর আগে একটি নির্মাণ কাজের সময় আকস্মিকভাবে আবিষ্কার হয়। বলা হয়ে থাকে, ১৩ শতকের শুরুর দিকে মঙ্গল আক্রমণের সময় স্থানীয় অধিবাসীরা এখানে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের মতে, হাতে খোদাই করা মাটির নিচের এই আকর্ষণীয় শহরটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি শীর্ষ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। তবে এখানে ইকো-লজ সহ আরও অধিক আবাসিক সুবিধা তৈরি করতে হবে।

অ্যাকাডেমিক গবেষণার ভিত্তিতে বলা যায়, হাতে তৈরি ট্রোগ্লোডাইটিক স্থাপত্য সাইটের সৃষ্টি নির্ভর করে জলবায়ু এবং ভৌগোলিক অবস্থা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং ধর্ম সহ কয়েকটি বাস্তবিক বিষয়ের ওপর, যেগুলোর সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে গভীর বন্ধন রয়েছে। এই স্থাপত্যটিকে বাহ্যিক অবয়ব, অভ্যন্তরীণ স্থান এবং কার্যপ্রণালীর (ধর্মীয়, সমাধিক্ষেত্র, আবাসিক এবং আশ্রয়স্থান) দিক দিয়ে বিভিন্ন আকৃতিতে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে।

হস্তনির্মিত ট্রোগ্লোডাইটিক স্থাপত্য একটি স্বতন্ত্র ধরনের স্থাপত্য। এটি নির্মাণে বড় ধরনের কোনো নির্মাণ উপকরণ প্রয়োজন হয় না এবং পরিবেশগত চাপও কম থাকে। এই ধরনের স্থাপত্য বিস্তৃত গবেষণা এবং বিশ্লেষণের জন্য অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

যেহেতু স্থান তৈরির ক্ষেত্রে এতে পদ্ধতিগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে একটি ট্রোগ্লোডাইটিক স্থাপত্য নির্মাণে কোনো অগ্রাধিকারের বিষয়ও নেই যে, তা ছাদ থেকে শুরু করতে হবে অথবা মেঝে থেকে শুরু করতে হবে। অভ্যন্তরীণ স্থান তৈরির ক্ষেত্রে পাথরের ব্লক, শিলা ও মাটির স্তূপ নিয়ে কাজ করার জন্য কুড়াল, হাতুড়ি, বাটালি এবং স্লেজহ্যামার ইত্যাদি হাতিয়ারের প্রয়োজন হতো।

ইরানে নানা জলবায়ুর কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে এই স্থাপত্যের অনেক চমৎকার নিদর্শন রয়েছে। অনন্য এই স্থাপত্যের সাথে প্রচলিত স্থাপত্য কাঠামো এবং নির্মাণ পদ্ধতির পার্থক্য রয়েছে। এটি সবসময় মেঝেতে অথবা দেওয়ালে পাহাড় ও উপত্যকার সুবিধা নিতে পারে। বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে এটাই ছিল একটা ভালো উপায়। সূত্র: তেহরান টাইমস।