রবিবার, ১৬ই জুন, ২০১৯ ইং, ২রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েযী দেহনাভীর পরিচিতি

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৬ 

বাংলাদেশে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েযী দেহ্নাভী সম্প্রতি আগমন করেছেন এবং গত ১৪ জানুয়ারি বঙ্গভবনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব আবদুল হামিদের সাথে সাক্ষাৎ করে স্বীয় পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।
ড. আব্বাস ভায়েযী ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি জন্মসূত্রে ইরানী। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপন করার পরে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং এরপর তেহরানের উন্মুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি তেহরানের পলিটিক্যাল থট্, হিউম্যানিটিস্ অ্যান্ড্ কালচারাল স্টাডিজ রিসার্চ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া তিনি দ্বীনী শিক্ষাকেন্দ্রেও অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে সনদ ও হুজ্জাতুল ইসলাম খেতাব লাভ করেন।
কর্মজীবনে তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মূল্যায়ন ও তত্ত্বাবধান বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল পদে ও এরপর একই বিভাগের উপপ্রধান পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিলেক্শন কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইরানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আফ্রিকা ডেস্কে বিশেষজ্ঞ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইরানের বাইরে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে; তিনি জিম্বাবুয়েতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ছিলেন এবং পরে তানযানীয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পূর্বে তিনি ইউনিভার্সিটি অব্ ম্যারিন্ সায়েন্সেস্-এর ইংরেজি ভাষার শিক্ষক, নোওশেহ্র্ ইউনিভার্সিটি অব্ ম্যারিন্ সায়েন্সেস্-এর আদর্শিক ও রাজনৈতিক দফতরের প্রধান এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও ধর্মতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ও গবেষণামূলক লেখালেখি ও অনুবাদের ক্ষেত্রেও তাঁর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর লেখা গবেষণামূলক প্রবন্ধসমূহের মধ্যে রয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভূ-রাজনৈতিক তত্ত্ব’, ‘আবদুর রাহমান কাওয়াকেবীর রাজনৈতিক চিন্তাধারা, লিবার‌্যালিজ্ম্ ও নিও-লিবার‌্যালিজ্ম্’, ‘নির্ভরশীলতা ও ধর্মীয় আবেদন তত্ত্ব’, ‘অ্যারিস্টোটল্ ও সমাজতত্ত্ব’, ‘শায়খ মুরতাযা আনসারীর চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক চরিত্র-বৈশিষ্ট্য’, ‘ইবনে খাল্দূন্ : ঐতিহাসিক দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিক’, ‘ইসলাম ও জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণা : মিল ও অমিল’, ‘ইরানে সেক্যুলারিজ্ম্’, ‘সেক্যুলারিজ্ম্ ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান’ এবং ‘৯-১১-র পরবর্তী সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও তার সমাধান’। এছাড়া তিনি ‘সোভিয়েত ইউনিয়নে ইসলাম’ শীর্ষক একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধের ফারসি অনুবাদ করেন এবং ‘ফারাবী ও ইবনে খালদূনের দৃষ্টিকোণ থেকে কওম পরিচিতি’ ও ‘ইসলামের তাত্ত্বিক সমাজতত্ত্ব’ শীর্ষক দু’টি গবেষণামূলক গ্রন্থের গ্রন্থসমালোচনা লিখেন।
ড. আব্বাস ভায়েযী ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তাঁর ওপরে বিভিন্ন সময়ে অর্পিত অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন। এ সবের মধ্যে ছিল : তত্ত্বাবধায়ক সংগঠনসমূহের কাউন্সিলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্বকরণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিভিল্ রাইট্স্ কমিশনের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জননিরাপত্তা ও সিভিল রাইট্স্ সংরক্ষণ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্য ও সেকটোর‌্যাল স্ট্যাটিস্টিক্স্ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন বিষয়ক সমন্বয় কাউন্সিলের সদস্য, সিলেকশন কমিটির সদস্য, সিলেকশন সায়েন্টিফিক বোর্ডের সদস্য, প্রশাসনিক অপরাধ বিষয়ক বোর্ডের সদস্য, অভিযোগ কমিশনের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য, স্বশাসিত সংস্থাসমূহের বোর্ড অব্ ট্রাস্টির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ড. আব্বাস ভায়েযী দেহ্নাভী বিবাহিত এবং দুই সন্তানের পিতা।