বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে বিবৃতি ছাড়াই শেষ হল নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ১৬, ২০১৬ 

news-image

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন আহবানে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরান যে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে তা উস্কানিমূলক এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। বৈঠকে আমেরিকার এ বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন।

তবে ইরান বিরোধী কোনো বিবৃতি প্রকাশ না করেই দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শেষ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক মহাসচিব হামিদ বাইদি নেজাদ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে ইরান বিরোধী বিবৃতি প্রকাশিত না হওয়ার ঘটনাকে নিরাপত্তা পরিষদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইসরাইলের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের প্রতিনিধি ড্যানি দানোন নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানানোর আহবান জানিয়েছিলেন।

হামিদ বাইদি নেজাদ আরো বলেছেন, আমেরিকাসহ আরো কয়েকটি দেশের মতামতকে উপেক্ষা করে নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়েই বৈঠক শেষ করেছে। তিনি বলেন, এমনকি নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তিও দেয়নি। তবে আমেরিকার অনুরোধে এ ধরণের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কিংবা শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কোনো প্রস্তাব দেননি মার্কিন কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কর্মসূচি জাতিসংঘের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন করেনি। এই প্রস্তাব অনুযায়ী পরমাণু সমঝোতার পরও ইরান বৈধ সামরিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে পারবে। তা ছাড়া, আন্তর্জাতিক আইনেও প্রতিরক্ষার জন্য প্রচলিত সামরিক তৎপরতায় কোনো বাধা নেই। কিন্তু তারপরও কয়েকটি দেশের ইরান বিরোধী পদক্ষেপ প্রতিরক্ষা বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।

এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এ ছাড়া, ইরান পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তাররোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি যা কিনা প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে গণ্য এবং এটি প্রতিরক্ষা নীতিরই অংশ।

ইরান বহু বছর ধরে নানান হুমকির সম্মুখীন। কিন্তু তারপরও দেশটি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। এখনও ইরান প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে হুমকির সম্মুখীন। ইরানের সমরাস্ত্রের লক্ষ্য কেবল প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মোটেও হুমকি নয়।

জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি যেমনটি বলেছেন, যারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরোধিতা করছে তারাই গত বছর কোটি কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলোর কাছে।

সূত্র: আইআরআইবি