বুধবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সভা-সমাবেশ

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২২, ২০১৮ 

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৯তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার

গত ০৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৩৯তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও জাতীয় জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে ‘স্বাধীনতা, জাতীয় অগ্রগতি ও সক্ষমতা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রদর্শিত হয় ও ছয় দিনব্যাপী ইরানি চলচিত্র প্রদর্শণীর উদ্বোধন করা হয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৯ তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক জনাব ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত সেমিনার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী, প্রখ্যাত অভিনেতা ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এনামুল হক ও ডেফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যন্সেলর প্রফেসর ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। বাংলাদেশে সফররত ইরানি ক্বারী মুহাম্মদ জাওয়াদ হোসাইনীর সুললিত কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান। স্বাগত ভাষণ দেন ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ইরানের রয়েছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস। ইরান এক প্রাচীন সভ্যতার দেশ। ইরানি জাতির ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম, সহিষ্ণুতা, অধ্যবসায়, ইরানের আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেম এবং তাঁদের প্রতি ইরানি জনগণের আস্থার ফলেই আন্তর্জাতিক বিশ্বের অসহযোগিতা সত্ত্বেও ইরান বহুদূর এগিয়ে গেছে। ইরানের রয়েছে আধ্যাত্মিক শক্তি, প্রকৃত ইসলামের সৌন্দর্য ও শিক্ষা, গোঁড়ামিমুক্ত ধর্মবিশ্বাস, মানবিক মূল্যবোধ, সমৃদ্ধ ইতিহাস, উন্নত সংস্কৃতি, শিল্প-বিজ্ঞানে সাফল্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ। ইরানের ইসলামি বিপ্লব সবকিছুকেই ধারণ করেছে। সেখানে রয়েছে গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সুবিচার ও সাম্য, ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ও পরধর্ম সহিষ্ণুতা। একই সাথে ধর্ম-নৈতিকতা ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিক্ষায় শিক্ষিত ইরানের আলেমগণ সত্যিকার অর্থেই একেকজন আধুনিক ও প্রজ্ঞাবান দার্শনিক ও চিন্তাবিদ। ইসলাম অন্ধ ধর্মানুসারীদের কোন ধর্ম নয়। ইসলামে রয়েছে আত্মশুদ্ধি বা আত্মার মুক্তিবিধান এবং সেইসাথে বুদ্ধির মুক্তিবিধান। উগ্র গোঁড়া বা সংকীর্ণ চিন্তার ধর্ম সেটি নয়। তাই ইরানে যে সমাজ কায়েম হয়েছে তাকে বলতে পারি ধর্মবিশ্বাস ও নৈতিকতাযুক্ত আধুনিক বা প্রগতিশীল সমাজ। ইরানের প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব শত বাধার পরও যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবকটি বিভাগেই সফলতা অর্জিত হচ্ছে। আমরা একে সাধুবাদ জানাই।
ইরান একটি সুসভ্য দেশ। হাজার হাজার বছরের সভ্যতার নিদর্শন রয়েছে ইরানে। ইতিহাসখ্যাত পারস্য সভ্যতার কথা কে না জানে! ইরানি জনগণ আজ থেকে প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী আগে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এরপর বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে এসে পুনরায় করেছে ইসলামি সাংস্কৃতিক বিপ্লব। কিন্তু ইসলাম-পূর্ব যুগের হাজার হাজার বছর আগের অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তারা ধরে রেখেছে। ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে তারা ধ্বংস করে নি। ইতিহাসের পাঠোদ্ধারের জন্য এ সবগুলোকে তারা অক্ষত রেখেছে। ইরানের জাদুঘরগুলো সমৃদ্ধ। সেখানে ইসলামি যুগের নিদর্শন যেমন স্থান পেয়েছে তেমনি প্রাক ইসলামি যুগের নিদর্শনগুলোও সযতেœ সংরক্ষিত রয়েছে। অটুট রয়েছে হাজার হাজার বছর আগের পুরাকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো। পারস্য সংস্কৃতির সাথে ইসলামি জীবনবোধের সংমিশ্রণে সেখানে গড়ে উঠেছে স্বতন্ত্র পারস্য সভ্যতা ও সংস্কৃতি। এই শাশ্বত বোধ বিশ্বাসকেও তারা ধরে রেখেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লব নামের এক গণবিপ্লবের মাধ্যমে আড়াই হাজার বছরের রাজতন্ত্র উচ্ছেদ হয়ে গেছে। আমরা ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আর ইরানের বিপ্লবটি ছিল রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে। ইরান রাজতান্ত্রিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট স্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতাকে উদ্ধার করেছে রাজতন্ত্র উৎখাতের মাধ্যমে এবং তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধ করেছে। আর এখনো তাদেরকে নানামুখি আগ্রাসন ও অপকৌশলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ব ক্রমাগত ইরানকে অসহযোগিতা করে যাচ্ছে। এত অসহযোগিতা, প্রতিবন্ধকতা, শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের পরও ইরান যেভাবে এগিয়েছে ও এগিয়ে যাচ্ছে, যদি বহির্বিশ্বের অসহযোগিতা না থাকত তবে ইরান আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত।
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। স্বাধীনতা সব মানুষকে সামনে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। রাজতান্ত্রিক সমাজে একটি রাজবংশ তাদের আত্মীয়-স্বজন ও গুটি কয়েক কায়েমী স্বার্থবাদী রাজানুগত ব্যক্তি মিলে-মিশে দেশটাকে শোষণ করে। দেশের সম্পদ এরা মিলে-মিশে ভোগ করে। আবার স্বৈরতন্ত্র বা কোন গোত্র বা গোষ্ঠীর শাসনও জনগণকে শোষণ করে। মার্কিন তাঁবেদার রেযা শাহ পাহলভীর রাজতান্ত্রিক শাসনের শৃঙ্খল ভাঙতে তাদেরকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। অনেক প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে।
পৃথিবীর ইতিহাসে যতগুলো বিপ্লব হয়েছে, যেমন ফরাসী বিপ্লব, রুশ বলসেভিক বিপ্লব, চৈনিক বিপ্লব তন্মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বৈশিষ্ট্য ছিল একটু ভিন্ন। প্রত্যেকটি বিপ্লবই গণমানুষের মুক্তিবিধানে সচেষ্ট হয়েছে। কিছুটা সফল হয়েছে, কিছুটা ব্যর্থ হয়েছে। তবে ইরানের বিপ্লবকে অনেকাংশেই সফল বলা যায়। দেশপ্রেমিক ইরানি জনতা ইরানকে সকল প্রতিকূলতার ভেতর দিয়েও বিশ্বে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ইরানে বিপ্লব শুধু শহরের মানুষের জীবনকেই বদলায় নি; বরং ইরানি জনতার উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রাম-গ্রামান্তরকেও স্পর্শ করেছে। আসলে গ্রামের মানুষের উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন- যা ইরানে হয়েছে। শত অবরোধ-অসহযোগিতার পরও ইরানের মাথাপিছু আয় ১৬০০০ ডলার এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বার্ষিক জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার শতকরা ১২ ভাগ। এটা বিস্ময়কর অগ্রগতি।
ইরানি চলচিত্র ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বলেন, ইরানি সিনেমা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও অভিনন্দিত। ইরানি সিনেমা জীবনবোধে উদ্দীপ্ত ও নানা বিষয়ে গণসচেতনতামূলক। সমাজ ও মানবজীবনের ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে ইরান সিনেমার মাধ্যমে শিল্পসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলে। এসব সিনেমার মানবিক আবেদন ও অভিনয়ের মান এতই উন্নত যে, অস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রতি বছরই ইরান ঘরে তুলছে। ইরানি সিনেমা প্রমাণ করেছে মারদাঙ্গা, উত্তেজনা. অশ্লীলতা ও যৌনাবেদন ছাড়াও বিশ্বসেরা চলচিত্র নির্মাণ করা সম্ভব। দেশপ্রেম, মানবতা, সততা, ইসলামের শিক্ষা, চরিত্র গঠনমূলক ও ইতিহাসভিত্তিক নানা সিনেমা ইরানে নির্মিত হচ্ছে।
ইরানের সাথে রয়েছে বাংলাদেশের হাজার বছরের পুরোনো সম্পর্ক এবং এখনো তা অটুট রয়েছে। একসময় এদেশের দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফারসি। বাংলা ভাষায় সাত হাজারেরও অধিক শব্দ রয়েছে ফারসি। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় ও সাহিত্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেক ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন। নজরুল ফারসি জানতেন। আমাদের দেশের আরো অনেক জ্ঞানী-গুণী ফারসি জানতেন। ইরানের কবি রুমী, জামি, ওমর খৈয়াম, ফেরদৌসী, শেখ সা’দী আমাদের দেশেও সমাদৃত। আমরা বাংলাদেশী বাঙ্গালীরা শতকার ৯০ ভাগ মুসলমান। কাজেই ধর্মের দিক দিয়েও আমাদের সাথে ইরানের মিল রয়েছে। ইরান ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ বন্ধুত্ব সব সময় অটুট থাকবে বলে আমি মনে করি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক জনাব ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, উন্নত সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বিশ্বসেরা সাহিত্য, খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ ইরান ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর আরো উন্নত হয়েছে ও উজ্জ্বল হয়েছে তাদের কুটনৈতিক সফলতা। আমাদের দেশের সাথে ইরানের সম্পর্ক আগেও ছিল, তবে তা বিপ্লবের পর আরো বেড়েছে। ইরানের জনতা ইসলাম ধর্ম যেমন বোঝে তেমনি বোঝে দেশজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গ্রহণযোগ্য মূল্যবোধগুলোকে। আমাদের দেশের সাথে যেমন ইরানের সম্পর্ক আছে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়নেও ইরানি নেতৃত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ইরানের সবচেয়ে প্রশংসনীয় ও বুদ্ধিদীপ্ত কাজ হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সাথে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিনিময়ের কাজটি। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উত্তম সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো গ্রহণ করছে এবাং তাদের উত্তমগুলোও বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দিচ্ছে। আমাদের জাতীয় জাদুঘরে আন্তর্জাতিক গ্যালারিতে বিভিন্ন দেশের মতো ইরানেরও একটি সমৃদ্ধ কর্নার রয়েছে। সেখানে ফেরদৌসীর ‘শাহনামা’র পুরোনো কপি রয়েছে। সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে আমরা সেই কর্নারকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারি।
ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী বলেন, সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত পাপেট রেযা শাহ পাহলভী ইরানের জাতীয় সম্পদ অপব্যবহার ও অপচয় করত এবং তা আমেরিকার নির্দেশে ও নিয়ন্ত্রণে তাদের স্বার্থেই তা ব্যবহৃত হতো। তাই বিপ্লবের আগে আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম। সাম্রাজ্যবাদীরা পাপেট শাসকদের মাধ্যমে আমাদের তেলসম্পদসহ জাতীয় সম্পদ শুষে নিত ও লুটে-পুটে খেত । বিনিময়ে তাদেরকে দিত নিরাপদে দেশের জনগণকে শোষণ করে তাদের ভোগবিলাসের মসনদকে টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা। সেইসব ক্রীড়নক শাসককে তারা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করত তাদেরই সা¤্রাজ্যবাদী স্বার্থে। কিন্তু ইমাম খোমেইনী (র)-এর নেতৃত্বে বিপ্লবের পর ইরানি জনগণ দেশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং দেশের সম্পদ ও সকল সুযোগ জনগণের উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। মূলত এ বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা প্রকৃতরূপে স্বাধীন হই ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারপ্রাপ্ত হই। আমাদের এই জাগরণ ছিল সা¤্রাজ্যবাদীদের স্বার্থের বিপরীত তাই সা¤্রাজ্যবাদীদের তা সহ্য হচ্ছিল না। তারা আমাদের বিরুদ্ধে আট বছর মেয়াদী যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় তাদের আরেক পাপেট পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ইরাকের সাদ্দামকে দিয়ে। এছাড়াও ইরানের ভেতর তৈরি করেছিল গুপ্ত ঘাতক। তারা আমাদের অনেক জনগণকে হত্যা করেছে। এছাড়া চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধেও অনেক লোক নিহত হয়। বিপ্লবের আগে আমাদের দেশ যেভাবে উন্নত থাকার কথা ছিল সেভাবে ছিল না, তদুপরি আমাদের ওপর যুদ্ধাঘাতে অনেক লোক নিহত হয় ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় শহর লোকালয় শিল্পকারখানা। শিক্ষার হারও কম ছিল। আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশ থেকে অনেক ডাক্তার ইরানে গিয়েছিল। তারা সেখানে চিকিৎসাসেবাসহ পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু আজ আমরা উন্নত চিকিৎসা সেবা দানে সক্ষম। তৈরি হয়েছে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ। ঔষধ শিল্পেও আমরা এগিয়েছি। বর্তমানে আমাদের জনগণের শতকরা ৯৮ ভাগ শিক্ষিত। সাম্রাজ্যবাদী অবারোধ সত্ত্বেও আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তি শুধু অবরোধ আরোপ করেই বসে থাকে নি। তারা ইরানকে বিপর্যস্ত করার জন্য ও আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য, আমাদের শান্তিপূর্ণ মানবিক বিকাশের কার্যক্রমকে রুদ্ধ করার জন্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে রহিত করার জন্য আমাদের চারপাশে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসীমানায় দায়েশসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপকে তৈরি করেছে। আমরা ধৈর্যের সাথে সকল ষড়যন্ত্র ও অপপ্রয়াসের মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছি। আমরা পরমাণু কর্মসূচিকে জ্বালানি শক্তি হিসেবে ও শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে চাই। এই সব কথা বারবার বলার পরও তারা আমাদের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে আমাদেরকে কটাক্ষ করে নানা অপপ্রচার ও অপকথা ছড়াতে লাগল। অবশেষে তারা নিউক্লিয়ার ইস্যুতে আমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলো। আমাদের বিরুদ্ধে তাদের অপপ্রচারগুলো ভুল প্রমাণিত হলো।
বিপ্লবের আগে তারা আমাদের যুবসমাজের চরিত্রকে ধ্বংস করার জন্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালায়। সমাজে মাদকের প্রসার ঘটায়। ইসলামের পবিত্র জীবনবিধান, ঈমানী চিন্তাচেতনা ও আমাদের নিজস্ব ইরানি জাতীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে। হলিউডের চলচ্চিত্রের প্রসার ঘটিয়ে সন্ত্রাস, মাদক ও নৈতিকতাহীন চালচলনকে উৎসাহিত করে। ইসলামি ও ইরানি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে অবদমিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা তা হতে দেই নি। তিনি বলেন, অবরোধ আমাদের কোন ক্ষতি করে নি; বরং আমাদেরকে সংযমী, আত্মপ্রত্যয়ী, পরিশ্রমী, আত্মশক্তিতে বলিয়ান ও দেশপ্রেমের পথে অটল করেছে।
আমরা সব সময় ন্যায় ও মানবাধিকারের পক্ষে। নির্যাতিত জাতিসমূহের পক্ষে। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের অপরাপর স্থানের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে। আমরা সকল দেশের বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু কোন শক্তির প্রভুত্ব নয়। ইহুদীবাদী ইসরাইল ও সা¤্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার সত্ত্বেও আমরা ইসলামের মানবতাবাদী চেতনা নিয়ে আমাদের সঠিক অবস্থানকে বিশ্ববাসী ও বিশ্বমিডিয়ার কাছে তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি যে, ইরান বিশ্বশান্তির পক্ষে। আমরা সকল প্রকার সন্ত্রাসের বিপক্ষে। স্বাধীনতা, সক্ষমতা ও অগ্রগতির পক্ষে।
স্বাগত বক্তব্যে সম্মানিত মেহমানবৃন্দ ও সুধিম-লীকে অভিবাদন জানিয়ে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালাচারাল কাউন্সেলর জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসাইনী উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রত্যেক জাতির নিজস্ব দিবস থাকে। আপনাদের মহান ভাষা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো আমাদের কাছে ১১ ফেব্রুয়ারি বা ২২ বাহমান দিবসটি তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিসহ দুনিয়াকাঁপানো ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ১০টি প্রভাত ছিল ইরানের জাতীয় জীবনে দশটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ দশ দিনে পর্যায়ক্রমে আমরা চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে এগিয়ে গেছি। বিপ্লবের উক্ত দিবসগুলো ছিল ইরানের জন্য স্মৃতিবহ সময়। যে সময়ে এসে ইরানি জাতি চূড়ান্তভাবে অপসারণ করেছে আড়াই হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসন ব্যবস্থাকে। আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, জাতীয় সক্ষমতা ও অগ্রগতির প্রকৃত সোপান। এই বিপ্লবের মাধ্যমে বিজাতীয়দের কর্তৃত্ব খর্ব হয়েছে। জনগণের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছি। ঈমানী চেতনা, ইরানি স্বার্থ ও দেশপ্রেমকে কেন্দ্র করে ইরানের বৃহত্তর জনসাধারণের ঐক্যই আমাদেরকে সকল ষড়যন্ত্র ও অপকৌশল থেকে মুক্ত রেখেছে। বলদর্পী শক্তি কখনো একতাবদ্ধ জাতির কোন ক্ষতি করতে পারে না।
বিশিষ্ট নাট্যকার, বুদ্ধিজীবী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এনামূল হক বলেন, ইরান একটি শক্তিশালী দেশ। আমরা যেমন যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তারাও বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে এগিয়েছে। হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ পারস্য সভ্যতা-সংস্কৃতির দেশ ইরান শিল্প-সংস্কৃতিতে পিছিয়ে নেই। ইরান শুধু ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিপ্লব এবং রাজনৈতিক বিপ্লবই করে নি, সাংস্কৃতিক বিপ্লবও করেছে। পারস্য সাহিত্য যেমন সমৃদ্ধ এবং বিশ্ব আসরে সমাদৃত, তেমনি ইরান বিশ্বসেরা চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছে। চলচ্চিত্র হচ্ছে একটি সৃজনশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যম। এর মাধ্যমে ফুটে ওঠে কোন দেশ ও জাতীর মানুষ ও সমাজ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, আচার-আচরণ, জীবনবোধ। ইরানের ইসলামি বিপ্লব মূলত একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব। ইরানের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম সময়েও তারা শিল্প-সংস্কৃতির কার্যক্রমে অবহেলা করে নি। স্বতন্ত্র ঐতিহ্য তৈরি করেছে ইরানি চলচ্চিত্র এবং বিশ্বময় স্থান করে নিয়েছে। পেয়েছে অস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার। ফরাসি চলচ্চিত্র উৎসব, ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব, কান চলচ্চিত্র উৎসবসহ অনেক উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে ইরানি সিনেমা এবং পুরস্কার লাভ করেছে। আমাদের বাংলাদেশে এসেও ইরানি সিনেমা পুরস্কার বিজয় করেছে। প্রতি বছর দুই শতাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয় তা প্রবন্ধকার উল্লেখ করেছেন। এসব সিনেমার অভিনয়, সংলাপ, চিত্রধারণ অসাধারণ। শিল্পনৈপুণ্য প্রশংসার দাবিদার। ইরানি চলচিত্রের রয়েছে নানা ডাইমেনশন। বিভিন্ন বিষয়কে শক্তিশালী চিত্রনাট্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। ইরানি নির্মাতা আসগার ফারহাদির সিনেমা ‘সেল্সম্যান’ এবং ‘সেপারেশন’ দুটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র। এছাড়া ‘দোখতার’ বা ‘কন্যা’ সিনেমাটিও ভালো একটি সিনেমা। আসগার ফারহাদি ছাড়াও মজিদ মাজিদী, মরহুম আব্বাস কিয়োরোস্তমী সহ আরো অনেক সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা জন্মগ্রহণ করেছেন ইরানে।
ইরান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ডেফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ইরানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ, যেমন : কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ইরানের পাঠাগার ও জাদুঘর দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। পাঠাগারগুলোতে রয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন বই। আর জাদুঘরগুলোতে রয়েছে সাত হাজার বছরেরও পুরোনো ইতিহাসের নানা স্মৃতি। ইরানি জাতি শিক্ষা-সংস্কৃতিতে কত অগ্রসর এটা তার একটি ক্ষুদ্র নমুনা মাত্র।
তিনি বলেন, গণমানুষের স্বাধীনতা যেমন ব্যক্তিজীবনকে উন্নত করে তেমনি জাতীয় জীবনকে সমৃদ্ধ করে। ইরানের পথের ধারের একজন মুচিরও শো-রুম আছে এবং সে কম্পিটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর মাধ্যমেই বোঝা যায় বিপ্লব ইরানি জনগণকে কোথায় নিয়ে গেছে!
প্রবন্ধকার ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, ইমাম আলী (আ.)-এর বংশে জন্মগ্রহণকারী অর্থাৎ মূসা কাযেম (আ.)-এর বংশে জন্মগ্রহণকারী আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ রুহুল্লাহ খোমেইনী (র.)-এর নেতৃত্বে ইরান সা¤্রাজ্যবাদী পরাশক্তির তাঁবেদারি থেকে মুক্ত হয়ে কৃষি, শিল্প-বাণিজ্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়েছে। বিপ্লবের পর ৩৮ বছরে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ, অবরোধ, স্বজাতি-বিজাতি ষড়যন্ত্রের পর দেশের অভ্যন্তরে নগর ও গ্রামগুলো উত্তরোত্তর উন্নতি সাধন করেছে। নির্মিত হয়েছে রাস্তা ঘাট, রেলপথ। কৃষিকাজের জন্য উন্নত বাঁধ নির্মিত হয়েছে। শিক্ষার হার শতকরা সাতান্নব্বই ভাগ। ইরান এগিয়েছে পরমাণু বিজ্ঞানে, জেনেটিক সাইন্স, সাইবার সাইন্স ও ন্যানো টেকনোলজিতে। ইরান থেকে আমাদেরও অনেক কিছু শেখার আছে।

আমিন আল আসাদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রগতি শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ৩৯তম বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রগতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এফ এম এ এইচ তাকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. রেযা সামিযাদে এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী, এতে বক্তব্য রাখেন রাবি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শামীম খান, প্রফেসর ড. মো. নূরুল হুদা এবং প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর ড. মো. শফিউল্লাহ, সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আতাউল্যাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এফ এম এ এইচ তাকী বলেন, এতদঞ্চলে ফারসি ভাষার আগমন ঘটেছে তুর্কিদের মুসলিম বিজয়ের পরেই। যদিও ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজীর ভারত বর্ষে আগমনের মাধ্যমে ফারসি চর্চা শুরু হয়েছে বলা হয়ে থাকে। কিন্তু ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, কিছু কিছু সুফি সাধক এর পূর্বেই ইসলাম প্রচারের জন্য এতদঞ্চলে আগমন করেছিলেন। যাদের মাধ্যমে ফারসি চর্চা অব্যাহত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সুলতানি ও মোগল আমলে ফারসি ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে। এমনকি প্রায় ছয়শ’ বছরের অধিককাল ফারসি উপমহাদেশের রাষ্ট্রভাষার আসনে সমাসীন ছিল। এ সময় আপামর জনগণ ফারসি ভাষা ব্যবহার করতেন। অফিস-আদালতসহ সকল দাপ্তরিক কাজে ফারসির প্রভাব ছিল। এদেশের মানুষ ফারসি ভাষা, সাহিত্য, ইরানি কবি-সাহিত্যিকের সাথে পরিচিত। বাংলাদেশে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর হতে ফারসি চর্চার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। আমাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও স্বতন্ত্র মর্যাদায় ফারসি চর্চা শুরু হোক। অবশেষে ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ নামে স্বতন্ত্র বিভাগের মাধ্যমে ফারসি চর্চার ধারা সূচিত হয়েছে। তৎকালীন মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভবপর হয়েছে। অনুষদের ডীন হিসেবে আমি এর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলাম।
তিনি বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর এদেশে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য চর্চায় এক নব দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি বিভাগ প্রতিষ্ঠা এক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করছে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বলেন, এ বিভাগের অগ্রগতি অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই একজন বিদেশি শিক্ষক নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কোনো ভাষা শিখতে হলে সেই ভাষাভাষীদের কাছ থেকে শিখলে যতটা ফলপ্রসূ হয় তা অন্য কোনোভাবে হয় না। তাই প্রফেসর ড. রেযা সামিযাদের-এর আগমনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৭টি বিভাগের মধ্যে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ একটি শ্রেষ্ঠ বিভাগ, কারণ অন্য কোনো বিভাগে বিদেশি ভিজিটিং প্রফেসর নেই। এ জন্য আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তিনি ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রচেষ্টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরানিয়ান স্টাডিজ রুম প্রতিষ্ঠা, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ প্রতিষ্ঠা, ইরানি শিক্ষক দ্বারা ফারসি ভাষা ও সাহিত্য প্রমোশন কোর্স পরিচালনা এবং একজন ভিজিটিং প্রফেসর আনার কার্যক্রমের সফলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামী দিনে এ বিভাগ পঠন-পাঠন ও গবেষণায় আরো উত্তরোত্তর উন্নতি ও সমৃদ্ধি লাভ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বিভাগীয় ছাত্র-ছাত্রীদের ইরান ভ্রমণের সুযোগ প্রদান ও বিভাগের পক্ষ থেকে গবেষণা পত্রিকা প্রকাশের আশাবাদ ব্যক্ত করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. রেযা সামিযাদে বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবে বিশ্বজুড়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য নব উদ্যমে বিস্তৃতি লাভ করেছে। উপমহাদেশে, এমনকি বাংলাদেশেও এর প্রভাব অপরিসীম। অনুবাদ, গবেষণা, পঠন-পাঠন প্রভৃতি ক্ষেত্রে এর ভূমিকা প্রসংশনীয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক ড. কলিম সাহসারামী ‘খেদমানগোযারানে ফারসি দার বাংলাদেশ’ ফারসি ভাষায় রচনা করেছেন, যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি গ্রন্থ। বাংলাদেশে ফারসি চর্চার একটি পরিচিতি একসাথে অবহিত হওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ফারসি এতদঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা ছিল। মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দুরাও এ ভাষা চর্চা করত। আমাদের শিয়া ও সুন্নি পার্থক্য করা উচিত নয়। মুসলমান শাসনামলে কোথাও শিয়া-সুন্নি মতভেদ ছিল না। এটা মূলত ইহুদি-খিস্টানদের চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। ইমাম খোমেইনীও সর্বদা মুসলমানদের ঐক্যের কথা বলেছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, যারা শিয়া-সুন্নির মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে তারা মুসলমান নয়; বরং সা¤্রাজ্যবাদের দালাল। তিনি সম্প্রতি ইরান সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যেশে বলেন, ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও টেকনোলজিতে বর্তমান বিশ্বে গৌরবময় স্থানে উন্নীত হয়েছে। আমি ইরানে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে স্বচক্ষে তা অবলোকন করেছি। যখনই আমি ইরানে পৌঁছলাম তখন মাশহাদ ফেরদৌসী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর নিজে আমাকে সম্বর্ধনা জানান, যা উন্নত সভ্যতা, সংস্কৃতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইরানের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, একজন ইরানি মহিলা আমার গাইডের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। যে অনুবাদ সাহিত্যে অনার্স ডিগ্রিধারী এবং এই আন্তর্জাতিক সেমিনারে অতিথিদের অনুবাদ গাইড হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের পক্ষ থেকে বিনা সম্মানীতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়োজিত হয়েছে। তা থেকেই বুঝা যায়, যে জাতি নিজের দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য এতটুকু উৎসর্গ করতে পারে সে জাতিকে কোনো স্বড়যন্ত্র, প্রতিবন্ধকতা দাবিয়ে রাখতে পারবে না, তারা উন্নতির শিখরে আরোহণ করবেই।
আলোচকের বক্তব্যে প্রফেসর ড. শামীম খান বলেন, বাংলাদেশে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য চর্চার অগ্রগতির ক্ষেত্রে ইরানি ভিজিটিং প্রফেসরগণের ভূমিকা অপরিসীম। প্রফেসর ড. নূরুল হুদা বলেন, ফারসি চর্চায় ইরানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে। ফারসি ভাষা কোর্স, আন্তর্জাতিক সেমিনার, গ্রন্থ প্রকাশ প্রভৃতি ক্ষেত্রে গৌরবময় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ইসলামি বিপ্লবোত্তরকালে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণাও তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষকগণের পিএইচডি অভিসন্দর্ভ প্রণয়ন, গবেষণামূলক গ্রন্থ, প্রবন্ধ রচনা ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ এ কার্যক্রমকে গতিশীল করেছে। বাংলা একাডেমিও অনুবাদ, গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে এক্ষেত্রে যুগোপযোগী ভূমিকা পালন করছে।
পরিশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আতাউল্যাহ উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, শিক্ষকম-লী, সুধিম-লী ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আগামী দিনে ভিজিটিং প্রফেসর, ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিভাগ উত্তরোত্তর উন্নতির দিকে ধাবিত হবে ইনশাল্লাহ।

খুলনায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৩৯তম বিপ্লব বার্ষিকী পালিত

আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ও ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে নগরীর ১২, আলতাপোল লেনস্থ মসজিদ-এ-ওয়ালী আসরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৩৯তম বিপ্লব বার্ষিকী পালিত হয়। বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ইসলামী বিপ্লব এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল-মোস্তফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাস্থ সম্মানিত প্রতিনিধি বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন ড. শাহাবুদ্দীন মাশায়েখী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সরকারী পাবলিক লাইব্রেরীর উপ-পরিচালক ড. মোঃ আহসান উল্লাহ ও খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোল্লা মশিউর রহমান নান্নু।
ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলীল রাজাভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাংবাদিক ড. মোঃ জাকির হোসেন। এছাড়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। উপস্থিত মেহমানদের উদ্দেশ্যে স্বাগত ভাষণ দেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষা বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ড. মোঃ আলী মোর্তজা।
প্রধান অতিথি ড. মাশায়েখী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের জনগণকে বিপ্লব বার্ষিকীর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন যে, ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বিশ্বময় নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকেছে। ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের জনগণকে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বিপ্লবের প্রতি পাশ্চাত্য বিশ্বের বৈরী মনোভাব এবং নানা রকম নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বিশ্বের নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর জন্য তার দায়িত্ব পালন করে যাবে ইনশাআল্লাহ। আর এটাই হচ্ছে ইসলামি বিপ্লবের মূল প্রেরণা।
অনুষ্ঠানে ইসলামি সংগীত পরিবেশন করে ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের ছাত্রবৃন্দ।

বগুড়ায় ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ৩৯তম বিজয় বার্ষিকী উদ্যাপন

বগুড়া শেখ সাদী কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ৩৯তম বিজয় বার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়।
ইমামিয়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবু জাফর মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং শেখ সাদী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক প্রভাষক মো. শাহীনুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জনাব মো. নুরুল ইসলাম খান। বক্তব্য রাখেন বগুড়া আল-মাহদী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম মো. মোজাফফর হোসেন, অধ্যক্ষ, জনাব টিপু সুলতান, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, আলহাজ আ. জ.ম মনিরুল ইসলাম সহযোগী অধ্যাপক, সরকারি এ্যাডওয়াড কলেজ, পাবনা ও রাজশাহী সুগার মিলস্ লিঃ এর সাবেক জিএম এবং কৃষিবিদ আলহাজ মীর সিদ্দিকুর রহমান।
হুজ্জাতুল ইসলাম মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, ইরানে ইসলামি বিপ্লব একটি ঐশী বিপ্লব। যে বিপ্লবের মূলে রয়েছেন একজন বিশেষজ্ঞ আলেম।
জনাব আ.জ.ম মনিরুল ইসলাম বলেন, ইমাম খোমেইনী (র.) ইরানে এমন এক ইসলামি বিপ্লব প্রতিষ্ঠিত করলেন যা বিশ্বের সকল পরাশক্তি শত চেষ্টা করেও ধ্বংস করতে পারছে না। এর পিছনে কী কারণ রয়েছে? এক দিকে খোদায়ী শক্তি অন্য দিকে শয়তানি শক্তি। শয়তানি শক্তির ওপর খোদায়ী শক্তির বিজয় হয়েছে। এটি ইমাম মাহদী (আ.)-এর বিপ্লবের সাথে মিলিত হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি রেযা শাহ পাহলভী সম্পর্কে বলেন, রেযা শাহ নিজেকে মুসলমান দাবি করলেও তার কর্মকা- ছিল ইসলামবিরোধী। ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে। ইরানে ইসলামি বিধিবিধান বলবৎ হয়েছে, নারীরা তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে এবং আলেমরা সম্মানের স্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
জনাব মীর সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মুত্তাকী লোকের এই পৃথিবী পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কিন্তু বিপ্লবের পূর্বে রেযা শাহ পাহলভী ও সেক্যুলাররা আলেমদেরকে বিভিন্নভাবে অপমানিত-লাঞ্ছিত করত, এমনকি হত্যা করতেও দ্বিধা করত না। ইমাম খোমেইনী নির্বাসনে থেকেও বিপ্লবকে পরিচালিত করতে থাকেন। শাহের বাহিনীর গুলির বিপরীতে বিপ্লবীরা তাদেরকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। সরকারি বাহিনী জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে শাহ দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। ইমাম খোমেইনী দেশে ফিরে আসেন এবং বিপ্লব চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
সভাপতি জনাব আবু জাফর ম-ল বলেন, ইমাম খোমেইনী (র.) সম্পর্কে তৎকালীন কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান মন্তব্য করেছিলেন যে, ইমাম খোমেইনী এমন একজন মানুষ যিনি পৃথিবীর কোন আইনই মানেন না, তিনি আরশের আইন মানেন। ইমাম খোমেইনী যেমনিভাবে যুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন আমাদেরকেও তেমনিভাবে সোচ্চার হতে হবে।

সাতক্ষীরায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকী উদযাপন

ইরানের ইসলামি বিল্পবের ৩৯তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহরের আল রাজী পাঠাগারের হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আল রাজী পাঠাগারের পরিচালক জনাব আতাহার আলী খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (অব.) উপ পরিচালক ডা. মাসুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক এবং সাতক্ষীরা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ড. আব্দুল লতিফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, ইমাম খোমেইনীর সুযোগ্য নেতৃত্বে সংঘটিত ইসলামি বিপ্লবের বৈশ্বিক বড় অবদান হলো ইসলামি উম্মাহর ঐক্যের চেতনাকে শাণিত করা। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ‘ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ’ পালন এর একটি কার্যকরী প্রক্রিয়া।
ডা. আব্দুল লতিফ বলেন, ইমাম খোমেইনী সুদীর্ঘ ১৩ বছর ইরাক, তুরস্ক ও ফ্রান্সে নির্বাসনে থেকেই এই বিরাট বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন ও শাহের পতনের পর ইরানের জনগণকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি যুগিয়েছেন। তিনি বিপ্লবের বিগত ৩৮ বছরে ইরানে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও টেকনোলজির অভূতপূর্ব সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবে জনগণের সর্বস্তরের সম্পৃক্ততা ছিল এ বিপ্লবের অনন্য বৈশিষ্ট্য। ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ শিক্ষিত সকলেই অংশগ্রহণ করেছেন। বিপ্লবের সময় মিছিলের অগ্রভাগে দেখা যেত শিশুদের কোলে নিয়ে মায়েদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, এ বিপ্লব ছিল মহানবী (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের আধ্যাত্মিক শিক্ষায় সিঞ্চিত, যে আহলে বাইতের শানে নামাযের শেষ বৈঠকে আমরা দরুদ পড়ে থাকি।

ফিলিস্তিনের সংগ্রাম শুধু মুসলিমদের নয়, বরং এটি সকলের অধিকারের সংগ্রাম- ড. সলিমুল্লাহ খান
যে কোন মূল্যে জেরুজালেমের অখ-তা রক্ষা করতে হবে। কারণ, এটি সকলের জন্য পবিত্র শহর। জেরুজালেম নিয়ে ফিলিস্তিনের সংগ্রাম শুধু মুসলিমদের নয়; বরং এটি সকলের অধিকারের সংগ্রাম; এটা মনে রাখতে হবে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় মডেল ওআইসি ক্লাব আয়োজিত ‘জেরুজালেম সংকট; সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমাধান’ শীর্ষক এক অ্যাকাডেমিক সেমিনারে কী নোট ¯িপকার হিসেবে এসব কথা বলেন ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্স থিওরি’র পরিচালক ও ইউল্যাব বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান।
মডেল ওআইসি ক্লাবের সভাপতি এস এইচ এম মিনহাজ উদ্দীনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ টি এম শামসুজ্জোহা, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনিস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম।
সেমিনারে ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, জেরুজালেমের কোন অর্থনৈতিক গুরুত্ব না থাকলেও এর ধর্মীয় গুরুত্ব তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এটি শুধু মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভাবলে ভুল হবে। বরং এটি হযরত ইবরাহীমের ধর্মের অনুসারী মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি সকলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, যায়নবাদীদের হাত থেকে জেরুজালেমকে দখলমুক্ত করার জন্য মুসলিম শক্তিসহ ওআইসি এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে এক হতে হবে। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান সম্প্রদায় সবসময় ফিলিস্তিনিদের সাথে আছে। তারাও চায় জেরুজালেমের ওপর যায়নবাদী কর্তৃত্বের অবসান ঘটুক। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন হাতছাড়া হওয়ার ব্যাপারে আরব সুলতানদের ও ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকাও কম নয়। তিনি বলেন, ওআইসিভুক্ত অধিকাংশ দেশেই রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও সামরিকতন্ত্র বিদ্যমান, এ অবস্থায় তারা ফিলিস্তিন মুক্তিতে কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখবেন! এসময় তিনি বলেন, তবে আশার কথা হলো ইসরাইল এখনো বিশ^জনমতকে গায়ের জোড়ে পাল্টাতে পারে নি। শুধু আরেকটি যুদ্ধ কখনোই জেরুজালেমের জন্য মঙ্গল ডেকে আনবে না; বরং শান্তির জন্য সমাধানে আসতে হবে।
তিনি জেরুজালেমের এক কিলোমিটার পবিত্র ভূমিকে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের হাতে হস্তান্তর করার প্রস্তাব করেন যেখানে ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম সবার অংশীদারিত্ব থাকবে। এসময় জেরুজালেম সঙ্কটের জন্য তিনি ফিলিস্তিনি নেতাদের অদূরদর্শিতার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী বলেন, ১৯৯৩ সালে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনের মধ্যে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের অবসান হওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল এর মাধ্যমে জেরুজালেম বা বায়তুল মোকাদ্দাস পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনের শরণার্থী সমস্যা, ইসরাইলি বসতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সীমানা নির্ধারণের মতো বিষয়ের একটা স্থায়ী সমাধান হওয়ার। কিন্তু ঐ চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছর পর বিশ্ব আজ ফিলিস্তিনের মাটিতে ইসরাইলের আগ্রাসন ও ইহুদিদের জন্য অতীতের চেয়ে আরো বেশি বসতি নির্মাণকেই প্রত্যক্ষ করছে। এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যে আমেরিকা ঐ চুক্তির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল সেই আমেরিকাই এখন জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেছে এবং তাদের দূতাবাসকে তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করতে যাচ্ছে। অতএব, অসলো চুক্তির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের যে আশার আলো দেখা দিয়েছিল তার পুরোটাই এখন ভেস্তে যেতে চলেছে।
ইস্তাম্বুল ফাউন্ডেশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচার এর প্রতিনিধি জনাব সালাউদ্দিন সায়েদী বলেন, ফিলিস্তিন মুক্ত করতে মুসলমানদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে কার্যকরী পক্ষ হতে হলে জ্ঞানগত দীনতা, অর্থনৈতিক অক্ষমতা ও অনৈক্যের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক সুফি উৎসব

‘সম্প্রীতির জন্য সঙ্গীত’ প্রতিপাদ্যে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সুফি উৎসব সমাপ্ত হয় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। আল্লামা রুমি সোসাইটি ও হাটখোলা ফাউন্ডেশনের যৌথ এ আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির নন্দন মঞ্চে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশ নেয় বাংলাদেশ, ভারত, ইরান ও তুরস্কের শিল্পীরা। ১১৯ জন সুফি, লোকসঙ্গীত শিল্পী ও সাধক এ উৎসবে অংশ নেন। দেশের বাইরের অংশগ্রহণকারী দল ছিল পাঁচটি। ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নন্দন মঞ্চে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রতিদিন মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৫টায় ও শেষ হয় রাত ১০টায়।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষ মিলে আমরা এখানে বসবাস করছি। এই সম্প্রীতির বলে দেয় জাতি হিসেবে আমরা অসাম্প্রদায়িক। লালন, হাসন, রাধা রমণেরা সারা জীবন গানে গানে এই সম্প্রীতির বাণীই প্রচার করেছেন। এই সম্প্রীতিই সুফিবাদের মূল কথা। এরকম উদার চিন্তা ও আদর্শকে আমরা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে চাই।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দেবরিম ওজতার্ক। স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী ও আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি মো. আবদুল করিম।
প্রথম সন্ধ্যায় সঙ্গীত পরিবেশন করে মাইজভা-ারী মরমি গোষ্ঠী, পারভেজ, শফি ম-ল, সামির কাওয়াল, রাফাত সুফি ও এসআই টুটুল। রাফাত গেয়ে শোনান ‘মুসাফির মন’, ‘ধন্য ধন্য মেরা সিলসিলা’, পারভেজ শোনান ‘বারে বারে আর আসা হবে না’, ‘কেন বান্ধ দালান ঘর’, হাজী শাহ মো. সমীর হোসেনের দল গেয়ে শোনায় ‘চল রে চল কাফেলা বেঁধে’, ‘আলী আলী মওলা আলী’সহ আরও কিছু গান। বাউল শফি ম-ল ‘মন মন্দিরে পূজা দেব, নামায পড়ব দিল কাবায়’, ও ‘ঘরে কে বা জাগে কে বা ঘুমায়’ গান গেয়ে শোনান।
দ্বিতীয় দিন বেলা ৩টায় সুফিবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী পুলক, শিরিন, রাজ্জাক, কিরণ চন্দ্র রায়, চন্দনা মজুমদার, সুফি বাউরা, তুর্কি সুফি দল, টুনটুন বাউল ও হানিফ বাউল। উৎসবের শেষ সন্ধ্যায় আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন শিল্পী হায়দার, হারুন, ইকবাল হায়দার, দীপংকর, সুনীল কারাকার, সিরাজ বাউল, ইরানি সুফি দল যেরইয়ব, ভারতীয় রোহিনি সিস্টার্স ও জলের গান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের নবীন বরণ

গত ৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের এম.এ. (৭ম ব্যাচ)-এর শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের মাননীয় রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী, বিভাগের অধ্যাপক ও এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. কে. এম. সাইফুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. কুলসুম আবুল বাশার মজুমদার। সভায় নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্বমূলক বক্তব্য প্রদান করেন যথাক্রমে লাবনী আক্তার ও জামিউল হাসান এবং সুমাইয়া সুলতানা। আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা গ্রুপ ফটোসেশনে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. আব্বাস ভায়েজী সমাজজীবনে ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন। তিনি বলেন, মাওলানা রুমীর মসনভী ফেরদৌসী। শাহরিয়ার, নিমাইউশিজ এর কবিতায় ও দিওয়ানে ইমাম খোমেইনীতে কবিতার মূল ভাষা হচ্ছে প্রেম। তিনি বলেন, ফারসি আধ্যাত্মিকতার ভাষা, প্রেম ও আত্মিক সমৃদ্ধির ভাষা। জীবনের সবক্ষেত্রে প্রেমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেম মানুষের অস্তিত্ব ও অবস্থানকে শক্তিশালী করে। প্রেমিক খোদার নেয়ামতের অস্তিত্বকে বুঝতে পারে, তাঁর শক্তিকে দেখতে পায় এবং তা থেকে সে উপকৃত হয়। তিনি কবি হাফিযের ‘লিসানুল গায়েব’ থেকে উদ্ধৃত করে বলেন, হাফিয বলেছেন, যার মধ্যে প্রেম নেই সে মৃত। তার নামাযও মৃত নামায। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের ফারসির সৈনিক হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিনন্দন জানান।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. কে. এম. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ফারসি হলো মানবিকতা, দর্শন ও সংস্কৃতির ভাষা। তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির এই উন্নত ভাষার সম্প্রসারণে বাধার সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, সমকালীন পৃথিবীতে সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তনের মুখে আমাদের এই ভাষা ও সংস্কৃতির শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।
জনাব সাইয়্যেদ মুসা হোসেইনী নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সাহিত্য, দর্শন ও বিজ্ঞানের ইতিহাসে শীর্ষ ব্যক্তিদের পাঠ ও সংযোগ গড়ে তুলতে হলে ফারসি ভাষা একটি সমৃদ্ধ মাধ্যম। তিনি এ ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এক্ষেত্রে তিনি সুন্দর পরিকল্পনা নিয়ে ইরান সরকারের সহযোগিতায় কলা ভবনের হাফিয প্রাঙ্গনে নবগঠিত ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাফিয প্রাঙ্গন লাইব্রেরী, ইরান স্টাডিজ রুম ও ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের লাইব্রেরির সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ড. কুলসুম আবুল বাশার বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস ইরানে ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে সংঘটিত ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের মাস, আড়াই হাজার বছরের স্বৈরাচারী পাহলভী রাজবংশের পতনের মাস, আর বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাস। তিনি বাংলাদেশের সর্বত্র ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় নিয়ে স্ব স্ব ক্ষেত্রে উন্নত ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একটি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব ও অপরটি হলো ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব।