সোমবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইরানি নতুন বছরের নাম ঘোষণা করলেন আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী, রুহানির শুভেচ্ছা

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ২২, ২০১৮ 

news-image

নওরোয তথা ইরানি নববর্ষ ১৩৯৭ এর সূচনালগ্নে বাৎসরিক দেয়া ভাষণে নতুন বছরের নাম ঘোষণা করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল ‘উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী। এছাড়া নববর্ষ উপলক্ষ্যে ইরানি ও বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। নওরোযের ভাষণে ২০ বা ২১ মার্চ শুরু হওয়া ফার্সি নববর্ষকে ইরানির পণ্য সামগ্রীর জন্য একটি সম্ভাবনাময়ী বছর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার এক বাণীতে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ইরানি নতুন বছর ১৩৯৭’কে ইরানি পণ্য উৎপাদনের জন্য সম্ভাবনাময়ী বছর তথা ‘‘দ্য ইয়ার অব সাপোর্ট ফর ইরানিয়ান প্রোডাক্ট’’ হিসেবে ঘোষণা করেন। নতুন বছরে ইরানের জাতীয় উৎপাদনের মধ্য দিয়ে তার দেশের অনেক অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়াতুল্লাহ।

নববর্ষ উপলক্ষ্যে দেয়া ওই ভিডিও বার্তায় সর্বোচ্চ নেতা বিগত বছরের আশীর্বাদগুলোর কথাও তুলে ধরেন। গেল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক মাত্রায় ভোট প্রদান এবং ১১ ফেব্রুয়ারি কুদস দিবসের বর্ণাঢ্য র‌্যালির কথা স্বানন্দে তুলে ধরেন তিনি। তার দেশ অধিক অগ্রগতি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিটি আঞ্চলিক হুমকিকে সফলতার সাথে যেভাবে সুযোগে পরিণত করেছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন আয়াতুল্লাহ। এছাড়া অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অর্জনে গেল  বছরের প্রচেষ্টাগুলোতেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি টেলিভিশনে নওরোযের ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণে তিনি সদ্য বিদায় নেওয়া ফার্সি বছর ১৩৯৬ সালকে সফলতার বছর হিসেবে অভিহিত করেন। বলেন, শত্রুদের অশুভ কামনা সত্ত্বেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানি জাতি চমৎকার সফলতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘‘ইরানি জাতির ঐক্য সকল শত্রুকে হতবাক করেছে এবং তারা আমাদের জনগণের মহত্বতাকে স্বীকার করে নিয়েছে।’’

সর্বোচ্চ নেতার মতো তিনিও নববর্ষকে জাতীয় উৎপাদন, ইরানি পণ্যসামগ্রীকে সমর্থন এবং কর্মসংস্থান ও অগ্রগতির বছর হিসেবে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘‘দেশের প্রতিটি প্রান্তে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ইরানের মহত জাতিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’’ এছাড়া প্রতিবেশী যেসব দেশ নওরোয উদযাপন করবে সেসব দেশকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, ইরানে ফার্সি বছরের প্রথম দিনকে নওরোজ বলা হয়। নওরোজ মানে নতুন দিন। নওরোজের মাধ্যমে নতুন বছরের পাশাপাশি শুরু হয় বসন্ত ঋতু। ফলে প্রকৃতি রাজ্যের মতো মানুষের মনেও নববসন্তের আমেজ দেখা দেয়। এই বসন্ত মহান আল্লাহর অসীম শক্তি ও ক্ষমতারই নিদর্শন। চিরায়ত সুন্দর, ভালোবাসা আর নব-যৌবনের প্রতীক এ বসন্ত । এ উপলক্ষে দেশটির সব প্রতিষ্ঠানেই চলছে টানা চার দিনের ছুটি। নওরোজ বিশ্বের প্রাচীনতম উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রায় তিন হাজার বছর ধরে নওরোজ পালিত হয়ে আসছে। জনপ্রিয় এ উৎসব ইরানের পাশাপাশি আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, তুরস্ক ও ইরাকসহ বেশ কয়েকটি দেশে উদযাপিত হয়। এ উৎসব কম-বেশি পালিত হচ্ছে জর্জিয়া, পাকিস্তান ও ভারতেও।- মেহর নিউজ।