সোমবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

‘ইরানকে তেল উৎপাদন কমানোর আহবান অযৌক্তিক’

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬ 

news-image

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বলেছে, তেল উত্তোলন না কমিয়ে বরং নিষেধাজ্ঞার আগের অবস্থায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তেহরান যাতে তার বাজারের অংশ বুঝে নিতে পারে। সৌদি আরব ও রাশিয়া তেল উত্তোলন কমানোর জন্য ইরানকে অনুরোধ করার একদিন পর তেহরান এ কথা জানায়। তেহরান আরো বলেছে, ইরানকে তেল উত্তোলন কমানোর আহ্বান জানানো অযৌক্তিক।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে ইরান প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তা কমে অর্ধেকে নেমে আসে। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ইরান তার নিজের অবস্থান ফিরে পেতে চায়। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তেহরান তেল উত্তোলন বাড়িয়ে দিয়েছে এবং দৈনিক দশ লাখ ব্যারেল বাড়তি তেল উত্তোলন করার লক্ষ্য ঠিক করেছে।

সৌদি আরব ও রাশিয়া বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় তারা তেল উত্তোলন কমাবে। একইভাবে ইরানকেও তেল উত্তোলন কমানোর আহ্বান জানায় এ দুটি দেশ। ইরান বলছে, তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো দেশ তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছিল যার কারণে তেলের দাম পড়ে গেছে। এজন্য ইরান দায়ী নয়; তেহরান তার কোটা ফিরে পেতে চায়। যেসব দেশ তেল উৎপাদন বাড়িয়েছে তারা এখন কমিয়ে দিলেই সব ঠিক হবে।

কাতারের রাজধানী দোহায় সৌদি আরব, রাশিয়া, কাতার ও ভেনিজুয়েলার তেল মন্ত্রীরা আলোচনায় তেলের পড়ে যাওয়া দর বৃদ্ধি করতে ইরানকে তেল উৎপাদন হ্রাস করার প্রস্তাব দেয়। গত এক দশকে তেলের দর কমে তা এখন সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। সৌদি আরবের তেল মন্ত্রী আলি আল-নাইমি বলেন, তেলের উৎপাদন কমিয়ে আনতে উৎপাদক দেশগুলো সাহায্য করবে। তবে ভেনিজুয়েলার তেল মন্ত্রী ইউলোগিও ডেল পিনো বিষয়টি নিয়ে ইরাক ও ইরানের সঙ্গে আরো আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কাতারের তেল মন্ত্রী মোহাম্মদ আল সাদা বলেন, ইরান ও ইরাক ছাড়াও অন্যান্য তেল উৎপাদক দেশগুলোকে উৎপাদন হ্রাস করতে এগিয়ে আসতে হবে। তবে ইরাক দীর্ঘদিন ধরে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলে আসলেও ওপেক ও ওপেকের বাইরের তেল উৎপাদক দেশগুলো যদি তেল উৎপাদন হ্রাসে একমত হয় তাহলে তা মেনে নেবে।

গত ১৮ মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে আসতে থাকার পর দোহায় তেল উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি তেলের দর ব্যারেল প্রতি ১১৫ মার্কিন ডলার উঠে যাওয়ার পর তা কমতে কমতে বর্তমানে ৩০ ডলারে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল তেল কোম্পানি শেল, সৌদি আরব ও ওপেকের কিছু দেশ যারা একযোগে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করার পর তেলের দর পড়তে থাকে। সৌদি আরব বলে আসছে যে ওপেকের অন্যান্য দেশ তেল উৎপাদন কমালে দেশটিও তা হ্রাস করবে। কিন্তু দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ রাশিয়া তাতে সায় দেয়নি। রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে যে সব ক্ষেত্র থেকে তেল উৎপাদন হয় তাও ওপেক সীমানার বাইরে। কিন্তু গত জানুয়ারি মাসে তেলের দর ব্যারেল প্রতি ৩০ ডলার নেমে আসার পর রাশিয়ার মনোভাব পরিবর্তন হয় এবং সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটি তেল উৎপাদন হ্রাসে রাজি হয়েছে।

তেলের দর কমে আসায় ভেনিজুয়েলার মত দেশকে যে শুধু রফতানি আয় নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় তা নয়, বরং রাশিয়ার মত দেশেও বাজেট ভারসাম্য সংকট সৃষ্টি হয়। সৌদি আরব এর বাইরে নয়। গত বছর সৌদি আরবের বাজেট ঘাটতি দাঁড়ায় ৯৮ বিলিয়ন ডলার। অবশেষে সৌদি আরব তেলের অতিরিক্ত উৎপাদন থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। ওপেকের সঙ্গে সহযোগিতার করার ব্যাপারে আলোচনার পাশাপাশি রাশিয়াও তেলের উচ্চহারে উৎপাদন থেকে সরে আসল। সূত্র: তেহরান টাইমস, আইআরআইবি