বুধবার, ১৬ই আগস্ট, ২০১৭ ইং, ১লা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

ইমাম খোমেইনী এবং ইসলামি জাগরণ প্রবণতাইমাম খোমেইনী এবং ইসলামি জাগরণ প্রবণতা

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ১০, ২০১৭ 

news-image

মোহাম্মদ আলী তাসখিরি
ইসলামি জাগরণ সম্পর্কে আলোচনা, যা সবচেয়ে সুন্দর বিষয়গুলোর অন্যতম, আর তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়। কারণ, ইসলামি জাগরণ হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য এমনই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ঘটনা যা এই উম্মাহর উজ্জ্বল ইতিহাসে মোড় পরিবর্তনকারী হিসেবে পরিগণিত।এই প্রবন্ধে ইমাম খোমেইনী (র.)-এর দৃষ্টিভঙ্গি তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে- সত্য সম্পর্কে অবগতি, কারণসমূহ এবং কীভাবে অব্যাহত রাখা যাবে (অনবরত ঝুঁকির মোকাবিলা সত্ত্বেও)। এই প্রবন্ধে এই তিনটি বিষয়ের মধ্যকার সম্পর্কও উন্মোচন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সত্য সম্পর্কে অবগতি এবং ইসলামি জাগরণ

একটি সর্বসাধারণ ধারণা হিসেবে ইসলামি কাঠামোর উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই; তবে ইসলামি জাগরণের সত্যকে বোঝার জন্য মূল নীতি হিসেবে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়া এখানে সহায়ক হবে।একটি ধর্মবিশ্বাস হিসেবে ইসলাম মানুষকে জীবন দান করেছে। এই ক্ষেত্রটি মানব জীবনের সকল দিককে শামিল করার উদ্দেশ্যে ইসলামের সামাজিক কাঠামোকে অনুসরণ করেছে। সুতরাং একজন সত্যিকার জাগ্রত ও সচেতন মুসলমান নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করে :প্রথমত, প্রকৃতি ও ইসলামের সত্যতা সম্পর্কে তার গভীর উপলব্ধি রয়েছে;দ্বিতীয়ত, ধর্মের প্রতি তার বিশ্বাস হলো যৌক্তিক;তৃতীয়ত, তার আবেগ বিশ্বাস দ্বারা পূর্ণ এবং তার সংবেদনশীলতা ও অনুভূতি সম্পূর্ণরূপে এই বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।চতুর্থত, ইসলাম তার ব্যবহারিক ও বাস্তব জীবনে দৃশ্যমান।

ইসলাম সম্পর্কে উপলব্ধি

এই কারণের দুটি দিক রয়েছে : ১. ইসলামের তাত্ত্বিক নীতি এবং কাঠামোকে অনুধাবন; ২. কার্যনির্বাহী ও ব্যবহারিক দিক। এখানে ইসলামের তুলনামূলক উপলব্ধির অর্থ হলো লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসম্বলিত ইসলামিক নির্দেশমালাকে অনুধাবন করা। ইসলাম অনুসারে ইসলামি শাসক এই দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধ। এই উপলব্ধির সর্বোচ্চ ধরন হলো অন্তর্জ্ঞান এবং পরবর্তী পর্যায়ে যা সঠিক ও প্রকৃত ইজতিহাদের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

ইসলামি জাগরণের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিশ্বাস

বিভিন্ন সমাজে ইসলামি জাগরণের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত বিশ্বাস এমন একটি বিষয় যার ওপর ইমাম খোমেইনী অনেকবার গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং তিনি মানুষকে এ বিষয়টি বিশ্বাস করানোর জন্য সবসময় চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তিনি সবসময় নিশ্চিত ছিলেন যে, এই জাগরণের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল হবে। স্বাভাবিকভাবেই এরকম একটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস আমাদের সংকল্পকে শক্তিশালী করবে। এ ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে, ইমাম খোমেইনী (র.) সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং এমন এক সময়ে তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের কোন চিহ্নই ছিল না। তিনি ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের কাছে তাঁর বিখ্যাত চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন। এই চিঠিটি ছিল বিশ্বনেতাদের কাছে ইমাম খোমেইনী কর্তৃক পাঠানো অল্প সংখ্যক কয়েকটি চিঠির অন্যতম। এই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন : ‘এখন থেকে কমিউনিজ্ম নিয়ে গবেষণা করতে হলে বিশ্বজাদুঘরে যেতে হবে।’ এই চিঠিটি এ বিষয়ের একটি বিরাট দলিল যে, একজন ঈমানদার ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহে ভবিষ্যৎ কিছু বিষয় দেখতে পারেন।

মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন ধরনের জাগরণ ও সেগুলোর প্রাপ্তি

উপনিবেশবাদী দেশগুলো সবসময় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ইসলামি জাগরণের গভীরতা ও তার অগ্রগতিকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করে আসছে। এমনকি আমরা পাশ্চাত্যমনা লোকদের ক্ষেত্রেও মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ইসলামি জাগরণের বিষয়টিকে অস্বীকার করতে দেখি। এখন প্রশ্ন হলো, এই বিদ্বেষের পেছনে কারণ কী আর সত্যকে অস্বীকার করার পেছনেই বা কী কারণ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তারা মানুষকে সত্য ঘটনা জানার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছে, অন্যথায় ইসলামি জাগরণ তাদেরকে ধ্বংস ডেকে আনবে। ইমাম খোমেইনী এই বিষয়টি জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। ইমাম খোমেইনী মুসলিম উম্মাহর জাগরণ ও এ প্রাপ্তি সম্পর্কে মানুষকে অবগত করার যে কোন সুযোগকে কাজে লাগাতেন এবং এ ব্যাপারে জোর গুরুত্ব আরোপ করতেন।

ব্যাপকভিত্তিক আন্দোলন ও কার্যকলাপ

ইমাম খোমেইনী অন্যতম যে বিষয়ের ওপর সবসময় গুরুত্ব আরোপ করতেন তা হলো বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনগণের আন্দোলন ও তাদের কার্যকলাপ। এগুলোর মধ্যে একটি ছিল ফিলিস্তিনের ব্যাপকভিত্তিক ইসলামি গণজাগরণ। আমরা সবাই জানি যে, ইমাম খোমেইনী সবসময় ফিলিস্তিন সংকটের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং তিনি এই সংকটের সমাধানের জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ইমাম খোমেইনী কখনই ফিলিস্তিনের ব্যাপারে তাঁর এই নীতি-আদর্শ থেকে পেছনে সরে আসেন নি। তিনি তাঁর মৃত্যুর পরও যেন আমরা এই আদর্শ ধারণ করে চলতে পারি তার উপদেশ দিয়েছেন। ইমাম খোমেইনীর মতে যায়নবাদী সরকার একটি টিউমার, যার অবশ্যই মূলোৎপাটন করা উচিত; এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরোধীতা সত্ত্বেও মুসলমানরা সংগ্রাম করতে পারে এবং এই অপশক্তিকে পরাজিত করতে পারে। ইমাম খোমেইনী ফিলিস্তিনের ইসলামি জাগরণ সম্পর্কে খুব আশাবাদী ছিলেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে, যায়নবাদী সরকারের হাত থেকে ফিলিস্তিনীদের মুক্তি অর্জনের একমাত্র পথ হলো ইসলামি জাগরণ।ইমাম খোমেইনী রমযান মাসের শেষ শুক্রবারকে ‘আল কুদ্স’ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বিশ্বের সকল মুসলমানকে ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণের পক্ষে মিছিল করার আহ্বান জানান। ব্যাপকভিত্তিক আন্দোলনের আরেকটি নমুনা ছিল তৎকালীন শক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগান মুসলমানদের উত্থান।

উপনিবেশবাদী ধারণার বিপরীত ধারণা প্রতিষ্ঠা

ইসলামি জাগরণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উপনিবেশবাদের ষড়যন্ত্র ও ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে জ্ঞানের ব্যাপক প্রসার এবং উপনিবেশবাদী ধ্যান-ধারণার মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। উপনিবেশবাদী ধারণার অন্যতম হলো ইসরাইলের অপরাজেয় থাকার ধারণা। এর পাশাপাশি আরো কিছু ধারণার কথা উল্লেখ করা যায়, যেমন : সুখ-শান্তি লাভের জন্য পথ হলো কেবল সমাজতন্ত্র বা সাম্রাজ্যবাদ, অথবা ধর্মের অনুসরণ মানুষকে দুর্বল করে ফেলে, অথবা ধর্মীয় প্রবণতা ও বিপ্লবের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ধারণা এবং বিশ্বকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য- এই দুই ব্লকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলার ধারণা ইত্যাদি।

বিজয়ের মহান চিহ্ন

মুসলিম সমাজে ইসলামি জাগরণের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে ইমাম খোমেইনীর মন্তব্যসমূহ পড়লে বোঝা যায় যে, সেগুলোর মধ্যকার অনেকগুলো এখন দৃশ্যমান। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় :

ক্স ইসলাম ধর্ম ও এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সম্পর্কে পরিচিতি অর্জনের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানকালে মানুষ যেসকল বিপদাপদ ও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করে, ইসলাম ধর্মকেই সেগুলো থেকে পরিত্রাণের একটি পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করতে শুরু করেছে, যেখানে উপনিবেশবাদী শক্তি সবসময় উম্মাহকে ইসলাম ধর্ম ও এর নিয়মকানুনকে বিস্মৃত করার জন্য সবধরনের কর্মকা- ও প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

  • ক্স বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একটি তুলনামূলক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দেখেছে যে, সাম্রাজ্যবাদে মুসলমানদের ব্যক্তিত্ব ও পরিচিতি ধ্বংসের জন্য অনেক ক্ষেত্র রয়েছে।ক্স মুসলিম জতিগুলো নিজেদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে অনুধাবন করছে এবং এর ঐতিহাসিক ভিত্তি খুঁজে পেয়েছে।
  • ক্স বিভিন্ন মুসলিম জাতির মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন গড়ে উঠেছে।
  • ক্স মুসলমানদের দ্বারা মহান ইসলামি গৌরব ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য ও বিশ্বব্যাপী একটি সমন্বিত মুসলিম দেশ গঠন করার উত্তম পরিকল্পনা প্রণয়ন।

ইসলামি জাগরণের বিভিন্ন কারণ

ইমাম খোমেইনীর দৃষ্টিকোণ থেকে সমসাময়িক ইসলামি জাগরণের কারণসমূহের পর্যালোচনা কোন ব্যক্তিকে হয়তো দ্বিধায় ফেলতে পারে যে ব্যক্তি এগুলোকে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ফেলে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এটি স্বাভাবিক যে, আমরা একটি সামাজিক প্রপঞ্চের ব্যাপারে কথা বলছি যা মানুষের সাথেই সংশ্লিষ্ট ও তার সহগামী। সুতরাং এই প্রপঞ্চ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং মানুষের দ্বারাও সমভাবে প্রভাবিত হয়। আর এভাবে নিজেকে শক্তিশালী করে। যেমন একজন সচেতন এবং ধৈর্যশীল নেতার কথা চিন্তা করুন যিনি উন্নয়ন-অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, কিন্তু এই উন্নয়ন-অগ্রগতিও বিপরীতক্রমে একজন নেতাকে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লক্ষ্যে আরও অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী নেতায় পরিণত হওয়ার জন্য প্রভাবিত করে।

ইমাম খোমেইনীর কাছে আন্দোলনের বিজয়ের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল :

  • ক্স ঐশী নিশ্চয়তা;
  • ক্স একজন সুপরিচিত নেতার উপস্থিতি;
  • ক্স মানুষকে শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য একদল পণ্ডিত ও চিন্তাবিদ;
  • ক্স অগ্রগতি সাধনে জনসাধারণের প্রস্তুতি;
  • ক্স শাসকদের নির্যাতন ও অত্যাচার;
  • ক্স উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইসলামের শক্তি ও ব্যবস্থাপনা।

ঐশী নিশ্চয়তা

ইমাম খোমেইনী অনেক বার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, ঐশী অনুগ্রহ ও মনোযোগ ইসলামি আন্দোলনকে সাহায্য করেছে।

নেতৃত্ব

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, এমনটি বহুবার ঘটেছে যে, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অনেক জাগরণ সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু নেতৃত্বের অভাবে বা দুর্বল নেতৃত্বের কারণে সেসব জাগরণ দ্রুতই হারিয়ে গেছে। এদিক থেকে ইসলামি আন্দোলনের নেতা সবসময় ইসলামি জাগরণের শত্রুদের হুমকির মধ্যে থাকেন।

আন্দোলন বিজয়ের জন্য আত্মনিবেদিত পণ্ডিতগণের প্রয়োজনীয়তা

যেহেতু ইমাম খোমেইনী জনগণকে পথনির্দেশনা প্রদান ও সত্যিকার আন্দোলন সংঘটনে পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কে পূর্ণরূপে সচেতন ছিলেন সেজন্য তিনি তাঁদেরকে সম্বোধন করে কথা বলতেন এবং তাঁদেরকে তাঁদের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন। যে সকল পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবী নিপীড়িত মানুষদের ক্ষমতায় বিশ্বাস করত না তিনি তাঁদেরকে প্রত্যাখ্যান করতেন। তিনি এসব লোককে সমালোচনা করতেন এবং তাদেরকে পরিহার করার জন্য জনগণকে সতর্ক করতেন।

উন্নয়ন-অগ্রগতি ও ইসলাম ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি মানুষের আকর্ষণ

প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল ধর্মীয় পণ্ডিত ও নেতৃবৃন্দের সংগ্রাম- যাঁরা ইসলামকে এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে, মানুষের অন্তরকে প্রভাবিত করায় সাহায্য করেছিলেন এবং তাদেরকে প্রতিহিংসা থেকে রক্ষা করেছিলেন। ইসলাম ধর্ম মানুষের মধ্যে লুক্কায়িত যোগ্যতা ও সক্ষমতাগুলোকে অনুধাবন করতে এবং তাদের আত্মার ভেতরের সম্পদকে প্রকাশ করতে সক্ষম।যদি অভ্যন্তরীণ ও প্রাকৃতিক জ্ঞান বাহ্যিক জীবনের ওপর উদ্ভাসিত হয় তাহলে তার পূর্ণ মুক্তি অর্জিত হবে। এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ তখনই সক্ষম হন যখন তাঁরা তাঁদের আত্মাকে অস্থায়ী ও ভিত্তিহীন দুনিয়ার আনন্দ থেকে দূরে রাখবেন এবং নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে তাঁদের লক্ষ ও উদ্দেশ্যের প্রতি উৎসর্গ করবেন।

অত্যাচারী শাসক ও উপনিবেশিক আক্রমণের দ্বারা পরিচালিত নিপীড়নের তীব্রতা

যখন অত্যাচারী শাসক ও উপনিবেশিক আক্রমণের দ্বারা পরিচালিত নিপীড়নের বিষয়টি তীব্র হয় ও বিশেষ করে যখন মানুষ অনুভব করে যে, তারা ক্রমবর্ধমান নির্যাতনের মধ্যে আছে তখন তারা জেগে ওঠে এবং সামাজিক উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা বজায় রাখার জন্য তাদের যা কিছু আছে তা ব্যবহার করার চেষ্টা করে।

(ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘ইকো অব ইসলাম’ থেকে সংগৃহীত)অনুবাদ : মো. আশিফুর রহমান