মঙ্গলবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইমাম আলী ইবনে মূসা আর রেযা (আ.)

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ৬, ২০১৬ 

সংকলন : আব্দুল কুদ্দুস বাদশা

ভূমিকা
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বংশের সন্তান ও সত্যান্বেষীদের অষ্টম ইমাম হযরত আলী ইবনে মূসা আর-রেযা (আ.) এক জ্যোতির্ময় সারসত্যের নাম। আরব ভূখ-ের বাইরে একমাত্র মাসুম ইমাম, যিনি ইরানের খোরাসানে সমাহিত রয়েছেন, তাঁর অনুপম সুন্দর ব্যক্তিত্ব ও জ্ঞানের উজ্জ্বল দ্যুতি শুধু শিয়া মাযহাবের মধ্যেই নয়, আহলে সুন্নাতের অপরাপর ফেরকা ও মাযহাবের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে, শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষে উক্ত ইমামের স্তুতি ও প্রশংসা বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছে। আহলে সুন্নাতের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহে অনুসন্ধান, অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার মাধ্যমে একথা সহজে জানা যায়। যদিও এসব গ্রন্থে আলে মুহাম্মাদ (সা.)-এর এ মহামনীষীর সত্যিকার মর্যাদা যথার্থ রূপে বর্ণিত হয়নি, তথাপি প্রত্যেকেই বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ও ভিন্ন ভিন্ন বিবরণে ইমাম রেযা (আ.)-এর ব্যক্তিত্বের মহিমাকে স্বীকার করেছেন।
একদিকে দূর-দূরান্ত থেকে খোরাসানের মাশহাদ নগরীতে অবস্থিত ইমাম রেযা (আ.)-এর পবিত্র মাযার অভিমুখে বছর জুড়ে অগণিত ভক্তকুলের স্রোতের ঢল, ইমাম রেযা (আ.) সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট না থাকা ও তাদের ইতস্তত-বিক্ষিপ্ত মত-অভিমত প্রকাশ এবং পথভ্রষ্ট উগ্রপন্থী চক্র কর্তৃক আহলে বাইত (আ.)-এর ব্যক্তিত্ব হরণ ও তাঁদের মাযারসমূহ বিশেষ করে ইমাম রেযা (আ.)-এর নূরানি মাযার ধ্বংস করার মর্মে ফেতনা সৃষ্টিকারী ফতোয়াবাজি, অপরদিকে এ সম্পর্কিত কোন পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট গবেষণা বিদ্যমান না থাকাÑ এ সবকিছু মিলিয়ে আজ এ মহান ইমামকে নতুন করে জানার আবশ্যকতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই ইমা রেযা (আ.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী স্মরণে প্রস্ততকৃত এ প্রবন্ধে মূলত তিনটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রাখা হয়েছে। যথা: ইমাম রেযা (আ.)-এর ব্যক্তিত্বের বহুমাত্রিকতা সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারার প্রকরণের সাথে ব্যাপক ও বাস্তবভাবে পরিচিতি লাভ, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এ বংশধরকে ঘিরে শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের অনুসারীবৃন্দের মাঝে সহমর্মিতা সৃষ্টি ও যুক্তিসঙ্গত মৈত্রী ও নৈকট্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। আর সবশেষে শিয়া ও সুন্নি- এ দু’মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে গোলযোগ ও নাশকতামূলক কর্মকা-ের প্রতিরোধ ও নিবারণ করা।
উল্লেখ্য যে, আহলে সুন্নাতের বিভিন্ন গ্রন্থের অংশবিশেষে প্রসঙ্গক্রমে ইমাম রেযা (আ.)-এর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। আহলে সুন্নাতের আলেমগণের মধ্যে যাঁরা তাঁদের গ্রন্থসমূহে ইমাম রেযা (আ.)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন তাঁদের কয়েকজন হলেন :
১. মুহাম্মাদ ইবনে তালহা শাফেয়ী (৬২৫ হি.) : মাতালিবুছ ছাউল ফি মানাকিবি আলের রাসূল (সা.), ২. ইবনে সাব্বাগ মালেকি (৮৫৫ হি.) : আল ফুসুলুল মুহিম্মাহ ফি মা’রিফাতিল আয়িম্মাহ, ৩. উমর ইবনে শুজাউদ্দীন মুসেলী শাফেয়ী (৬৬০) : আন নায়িমীল মুকিম লি-ইতরাতিন নাবাঈল আযীম (আ.), ৪. মুহাম্মাদ খাজা পারসায়ী বুখারী হানাফি (৮২২ হি.) : ফাসলুল খিতাব লি ওয়াসলিল আহবাব, ৫. নুরুদ্দীন আবদুর রহমান জামী হানাফী (৮৯৮ হি.) : শাওয়াহিদুন নবুওওয়াহ, ৬. মীর খন্দ শাফেয়ী (৯০৩ হি.) : তারিখু রাওদাতুস সাফা, ৭. খুনজি ইসফাহানি হানাফি (৭২৭ হি.) : ওয়াসিলাতুল খাদিমি ইলাল মাখদুম দার শারহে সলাওয়াতে চাহারদাহ্ মাসুম (আ.) ও মেহমান নামা বোখারা, ৮. ইবনে তুলুন দামেশকি হানাফি (৯৫৩ হি.) : আল আয়িম্মাতুল ইছনা আশার (আ.), ৯. খন্দ আমীর শাফেয়ী (৯৪২ হি.) : তারিখু হাবিবিস সিয়ার ফি আখবারি আফরাদি বাশার, ১০. ইবনে হাজার হায়ছামি শাফেয়ী (৯৭৪ হি.) : আস-সাওয়ায়িকুল মুহরিকাহ্, ১১. কারমানি দামেশকি (১০১৯ হি.) : আখবারুদ দুওয়াল ওয়া আছারুল উওয়াল, ১২. শিব্রাওয়ী শাফেয়ী (১১৭২ হি.) : আল ইতহাফ ফি হুব্বিল আশরাফ, ১৩. কুন্দুজি হানাফি (১২৯৪ হি.) : ইয়ানাবিয়্যুল মাওয়াদ্দাহ্ লি যাবিল কুরবা (আ.), ১৪. শাবলাঞ্জি শাফেয়ী (১২৯৮ হি.) : নুরুল আবসার ফি মানাকিবি আলে বাইতিন নাবিয়্যিল মুখতার (আ.), ১৫. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ তাহের হাশেমী শাফেয়ী (১৪১২ হি.) : মানাকিবি আহলুল বাইত (আ.) আয দিদগাহে আহলুস সুন্নাহ।
এসব প-িত মূলত আহলে সুন্নাতভুক্ত বিভিন্ন মাযহাব, যেমন শাফেয়ী, মালেকি, হাম্বালি, হানাফি ও যাহেরী মাযহাবের আলেম ও অনুসারী ছিলেন, হিজরি দ্বিতীয় শতক থেকে অদ্যাবধি। সুতরাং জাল ও বেদআতমূলক দল, যেমন ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের কথা এখানে বলা হয়নি, যারা স্বয়ং আহলে সুন্নাতের ঘোষণা মোতাবেক তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
বংশ পরিচয়
শামআনি শাফেয়ী ইমাম রেযা (আ.) এর বংশ পরিচয় এভাবে বর্ণনা করেছেন : ‘আলী ইবনে মূসা ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হোসাইন ইবনে আলি ইবনে আবি তালিব (আ.)।

বলা বাহুল্য, ইমাম রেযা (আ.) হলেন মহানবী (সা.)-এর বংশধর। যেমনটা হাকিম নিশাবুরি শাফেয়ী এ প্রসঙ্গে ইশারা করে বলেন : আলী ইবনে মূসা আর-রেযা (আ.)-এর একটি বড় গৌরব ও মর্যাদা হলো এটা যে, তিনি হলেন মহানবী (সা.)-এর বংশধর এবং এ বিষয়টি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা-বিশ্বাসের অংশ। হিজাজের সকল ফকীহ এ ব্যাপারে একমত। যারা এ কথার সাথে ভিন্ন মত পোষণ করে, তারা কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং সত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। আর কিয়ামত পর্যন্ত বেহেশতের যুবকদের সম্রাটদ্বয় সম্পর্কে বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করলো।

কুনিয়াত ও লকব
এ মহান ইমামের নাম ‘আলী’ এবং আহলে সুন্নাতের দৃষ্টিতে তিনি মহানবী (সা.)-এর আহলে বাইতের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি, যাঁর নাম ইমাম আলী (আ.) ও ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.)-এর পরে ‘আলী’ রাখা হয়। আর তাঁর কুনিয়াত হলো আবুল হোসাইন। স্বয়ং তাঁর পিতা ইমাম মূসা কাযিম (আ.)ও এ মর্মে বলেন : ‘আমার পুত্রের কুনিয়াত আর আমার কুনিয়াত একই।’
গিয়াসউদ্দীন শাফেয়ী ওরফে খন্দে আমীর বলেন : ‘তিনি অনেক লকবের অধিকারী’। যথা : রেযা, হাশেমী, আলাভী, হোসাইনী, কারাশী, মাদানী , ওয়ালী, হাফী, সাবের, যাকি, কায়িম । এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ লকবটি হলো ‘রেযা’।
‘রেযা’ লকবটি কার দেওয়া?
‘রেযা’ লকবটি কে ইমামকে দেন এবং এর অর্থ কী-
আহলে সুন্নাতের একদল লোক খলিফা মামুনকেই ‘রেযা’ লকবের মূল নামকরণকারী বলে মনে করেন। অর্থাৎ যখন মামুন ২০১ হিজরিতে যুবরাজের পদ ইমামের ওপর চাপিয়ে দেন, তখন ইমামকে ‘রেযা’ লকবটি প্রদান করেন। কিন্তু ইমাম মুহাম্মাদ তাকী (আ.) থেকে বর্ণিত আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নাস্র বাযানতির রেওয়ায়াতে এ বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। সেখানে এভাবে বর্ণিত হয়েছে :
ইবনে আবি নাস্র বাযানতি ইমাম মুহাম্মাদ তাকী (আ.)-এর কাছে আরয করেন, আপনাদের কতিপয় বিরোধী লোক ধারণা পোষণ করে যে, মামুন ‘রেযা’ লকবকে যুবরাজের পদ গ্রহণ করার বিপরীতে আপনার পিতাকে প্রদান করেছেন! ইমাম মুহাম্মাদ তাকী (আ.) উত্তরে বলেন : ‘আল্লাহর শপথ! তারা মিথ্যা বলছে। মহান আল্লাহ ‘রেযা’ লকবটি এ কারণে আমার পিতাকে প্রদান করেছেন যে, তাঁর সপক্ষের ও বিপক্ষের সকলেই তাঁর প্রতি রাযি (সন্তুষ্ট) ছিল…।’
আবার, জুওয়াইনী শাফেয়ী এবং আবদুর রহমান জামি হানাফি এর ন্যায় আহলে সুন্নাতের কেউ কেউ এ অর্থই গ্রহণ করেছেন। অন্যরা আবার এ বিষয়টিকে এভাবে কবিতার ছন্দে বেঁধেছেন :
ইমাম আলী নামটি উচ্চ বংশমর্যাদার আজমের আশ্রয় যিনি, আরবের নেতা
তাঁর থেকে সন্তুষ্ট থাকুন জগৎ স্রষ্টা তাই তো তাঁর লকব হয়েছে ‘রেযা’।

পিতামাতা
তাঁর মহান পিতা হলেন হযরত মূসা ইবনে জাফর, ইমাম কাযিম (আ.)। তবে তাঁর প্রিয় মাতার নাম নিয়ে মতপার্থক্য বিদ্যমান।
ইমামের মাতা ছিলেন একজন কানিজ (দাসী), যাঁর বিভিন্ন নাম বর্ণিত হয়েছে। যথা: সাকিনা , আরওয়া , খিযরান মুরাইসিয়াহ নাজমাহ্ । আর তাঁর লকব ‘শাকরাউন নাউবিয়্যাহ’ অথবা ‘উম্মুল বানিন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুহাম্মাদ খাজা পরসায়ে বুখারী হানাফী ইমাম রেযা (আ.)-এর মায়ের প্রশংসায় এবং এ মহীয়ষী নারীর আধ্যাত্মিক মর্যাদার কথা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন : ‘তাঁর (্ইমামের) শ্রদ্ধেয়া মাতা আজমের সম্ভ্রান্তদের মধ্য থেকে ছিলেন এবং বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মভীরুতার দিক থেকে তিনি ছিলেন তাঁর যুগের নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম।’
ইমাম রেযা (আ.)-এর জন্ম
ইমাম রেযা (আ.) মদীনায় ইমাম সাদিক (আ.)-এর শাহাদাতের এক বছর পরে শুক্রবারে ভূমিষ্ঠ হন। তাঁর জন্মের সন ও মাস সম্পর্কে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ তাঁর জন্মের সন ১৪৩ হি. ,১৪৮ হি. , ১৫১ হি. , ১৫৩ হি. আবার কেউ কেউ তাঁর জন্মের তারিখ ৬, ৭ অথবা ৮ শাওয়াল বলে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম রেযা (আ.)-এর জন্মগ্রহণ সম্পর্কে বিভিন্ন বিস্ময়কর ঘটনাবলি আহলে সুন্নাতের গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম (আ.)-এর ওফাত নাকি শাহাদাত?
ইমাম রেযা (আ.)-এর শাহাদাতের তারিখ নিয়ে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। যেমন:
-শনিবার, ২০৩ হিজরির সফর মাসের শেষ ভাগে, আব্বাসী খলিফা মামুনের খেলাফত কালে। (আধিকাংশ আহলে সুন্নাতের মত অনুসারে)
– পহেলা সফর, ২০৩ হিজরি।
– শাবে জুমআ (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত), রমযান মাস, ২০৩ হিজরি।
– ৫ যিলহজ, ২০৩ হিজরি।
– ১৩ জিলকদ, ২০৩ হিজরি।
– ২০২ হিজরি।

ইমাম রেযা (আ.) আনুমানিক পঞ্চাশ বছর বয়সে শাহাদাতবরণ করেন। অবশ্য, তাঁর শাহাদাতের সময়ে সঠিক বয়স কত ছিল তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ লিখেছেন ৪৪ বছর, আবার কেউ কেউ ৪৭, ৪৯, ৫০ ও ৫৩ বছরই ইমামের শহীদ হওয়ার বয়স বলে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম রেযা (আ.) আব্বাসী খলিফা মামুনের আমলে তূস নগরীর নওকন এলাকার অন্তর্গত ‘সানাবাদ’ নামক গ্রামে শাহাদাতবরণ করেন এবং মামুনের নির্দেশে খলিফা হারুনের কবরের পাশে সমাধিস্থ হন।
উল্লেখ্য, ইমাম রেযা (আ.) কীভাবে শহীদ হন এবং এ সম্পর্কে ইমামের ভবিষ্যদ্বাণী এবং তাঁর শাহাদাতের পর যেসব ঘটনা সংঘটিত হয়, সেসব ব্যাপারে বিস্ময়কর বিবরণ এসেছে।
আহলে সুন্নাতের আলেমগণের দৃষ্টিভঙ্গি
ইমাম রেযা (আ.) তাঁর পবিত্র জীবদ্দশায় বিভিন্ন অধ্যায়ে স্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘আমি বিষ প্রয়োগে নিহত ও বিদেশের মাটিতে সমাহিত হব’ এবং খলিফা মামুনকেই তাঁর হত্যাকারী বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। আর এ কথাটি আহলে সুন্নাতের প-িতবর্গও বর্ণনা করেছেন। ড. কামিল মুস্তাফা শাইবী বলেন : ‘যেমনটা অধিকাংশ ঐতিহাসিকই অভিমত প্রকাশ করেছেন, ইমাম রেযা (আ.) বিষক্রিয়ায় দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।’
কিন্তু, এসত্ত্বেও কেউ কেউ এ সত্য ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়েছেন এবং অবাঞ্ছিত কিছু কথাবার্তা এ মর্মে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম (আ.)-এর শাহাদাতের ঘটনাকে বিভিন্ন রূপে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন।
শাহাদাত পরিভাষাটি
একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো হাকেম নিশাবুরি শাফেয়ী, ইবনে সাব্বাগ মালেকি এবং ফায্ল ইবনে রুযবাহান খুঞ্জি ইসফাহানি হানাফি ইমাম রেযা (আ.)-এর ওফাতের প্রসঙ্গে ‘শাহাদাত’ পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন।
হাকেম নিশাবুরি শাফেয়ী বলেন : ‘ইমাম রেযা (আ.) তূস নগরীর অন্তর্গত সানাবাদে শাহাদাতবরণ করেন…’
ইবনে সাব্বাগ মালেকি লিখেছেন : ‘ইমাম রেযা (আ.) শাহাদাতবরণ করেন…’
ফায্ল ইবনে রুযবাহান খুঞ্জি ইসফাহানি হানাফি বলেছেন : ‘অষ্টম ইমাম বিষক্রিয়ায় শাহাদাতবরণ করেন…’
কাজী বাহ্জাত আফেন্দী শাফেয়ী স্পষ্টতই ইমাম রেযা (আ.)-কে শহীদ বলে মনে করেন এবং মামুনকে ইমামের হত্যাকারী বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন : ‘মামুন ইমাম (আ.)-এর জ্ঞান ও হেদায়াতের আলো বিতরণ করা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অবশেষে বিষপ্রয়োগে ইমামকে শহীদ করেন এবং তার এ ধৃষ্টতাপূর্ণ কাজ দ্বারা প্রমাণ করে দেন যে, ন্যায় ও অন্যায়, হক ও বাতিল এবং জ্ঞান ও অজ্ঞতা একত্রিত হবার নয়।’