বৃহস্পতিবার, ২৭শে জুন, ২০১৯ ইং, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইউরোপ এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লব

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ২৯, ২০১৫ 

news-image

ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর সারা বিশ্বে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার মতো ইউরোপেও ইসলামী বিপ্লবের বিরাট প্রভাব আমরা দেখতে পাই।

খ্রিস্টীয় বিশ্বে ৬০-এর দশকের শেষের দিক এবং ৭০-এর দশককে ধর্মানুরাগের ক্ষেত্রে ‘অন্ধকার যুগ’ বলা হয়। এই সময়ে খ্রিস্টীয় বিশ্বে উল্লেখযোগ্য হারে ধর্মীয় শিক্ষালয় এবং ধর্মযাজকদের সংখ্যা কমতে দেখা যায়। মানুষের মাঝেও ধর্মের প্রতি উৎসাহ কম দেখা যায়। কিন্তু ৮০-এর দশকে এসে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এ সময়ে আবার জনগণের মাঝে ধর্মানুরাগ বৃদ্ধি পায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

ইসলামী বিপ্লবের পরে কার্ডিনাল র‌্যাটসিং-এর নেতৃত্বে খ্রিস্টবিশ্বের ১২ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ১৯৮৫ সালে এক আন্তর্জাতিক বিৃবতি প্রদান করেন। এ বিবৃতির প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পাদনে চার বছর সময় লাগে। বিবৃতির বিষয়বস্তু ছিল বিশ্বাস, ধর্মীয় অনুশাসন, আদেশ-নিষেধ এবং উপাসনা। বিবৃতিতে সামাজিক ক্ষেত্রে চার্চের ব্যাপক কর্মকাণ্ডের নিশ্চয়তা বিধান করা হয় এবং খ্রিস্টীয় এই প্রশাসন (ক্যাথলিক) নিজেদেরকে মানবজাতির মুক্তিদাতা হিসাবে ঐ বিবৃতিতে উল্লেখ করে।

ধর্মানুরাগকে নিয়ে ইউরোপে এর আগে অনেক বই লেখা হয়েছে বিভিন্ন ভাষায়। ইতালীয় ভাষায় এরকম একটি  বইয়ের নাম Torento Statement । এই বই সম্পূর্ণ করতে সময় লেগেছিল তিন বছর। তবে এ সকল বই ছিল অঞ্চলভিত্তিক।

ক্যাথলিক পণ্ডিতদের আন্তর্জাতিক বিবৃতিতে চার্চের সামাজিক ভূমিকা রাজনৈতিক পরিমণ্ডল অবধি সম্প্রসারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ পোল্যান্ডের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। খ্রিস্টান ধর্মগুরু পোপ পোল্যান্ডের কম্যুনিস্ট প্রশাসনকে উৎখাত করে ধার্মিক প্রশাসনকে ক্ষমতায় বসাবার জন্য তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিগানের সাথে সহযোগিতা করেছিলেন।

ইরান বিপ্লবের পর ইউরোপীয় জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মের প্রতি অনুরাগ বৃদ্ধি পায়। ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর পরে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট কুর্ট ওয়ার্ল্ডহাইম একবার বলেছিলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব তাঁকে একজন ধার্মিক খ্রিস্টান বলে ভাবতে শিখিয়েছে। এছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পরিপ্রেক্ষিতে অঙ্গ রাষ্ট্রগুলো দীর্ঘ ৭০ বছরের কম্যুনিস্ট শাসনের কবল থেকে মুক্ত হয়ে ধর্মের কাছে ফিরে এসেছে।

ধর্মকে বাদ দিয়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের আড়ালে ইউরোপে উৎকট স্বাদেশিকতা আন্দোলন শুরু হয়, যৌন বিকৃতি প্রসার লাভ করে এবং নীতিহীনতা প্রকট হয়ে ওঠে। পাশ্চাত্য সমাজে এসবই ছিল ধর্মকে প্রতিরোধের জন্য ষড়যন্ত্র।

ঐতিহ্যবাহী ধর্মবিশ্বাসে প্রত্যাবর্তনের ফলে জনসমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল প্রকার ধর্মীয় চিন্তাধারা বিকাশ লাভ করছে এবং ইউরোপীয় সমাজে পারলৌকিক জীবনের চেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইউরোপীয় সমাজ পার্থিব লোভ-লালসার বাইরে অন্য এক জগতের প্রতি স্বভাবতই আকৃষ্ট হচ্ছে।

ইউরোপীয় সমাজে ইসলামের প্রতি জনগণের আকর্ষণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পূর্ব ইউরোপীয় মুসলমানরা প্রধানত স্বল্প আয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এরা বহু শতাব্দী ধরে এ এলাকায় বসবাস করছে। কিন্তু পশ্চিম ইউরোপে বসবাসরত মুসলিম জনগণ প্রধানত উন্নত জীবনের আশায় মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত। এদের বেশির ভাগই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পশ্চিম ইউরোপে অভিবাসী হয়।

পূর্ব ইউরোপের যুগোশ্লাভিয়া, বুলগেরিয়া এবং আলবেনিয়ার মুসলমানদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং তা প্রাক্তন তুর্কি সাম্রাজ্যের সাথে সম্পর্কিত। তুর্কি মুসলমানদের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত এসব এলাকার মুসলমানরা যুগ যুগ ধরে ওখানে বসবাস করছে। এলাকার অন্যান্য জাতির সাথে ওরাও মিশে আছে। কোন কোন এলাকা, যেমন আলবেনিয়া, বোসনিয়া, হার্জেগোভিনায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে থেকেও এখানকার মুসলমানরা তাদের ইসলামী স্বকীয়তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পশ্চিম ইউরোপের মুসলিম অভিবাসনের ইতিহাস মাত্র ৬০ বছরের পুরোনো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এই এলাকায় সংখ্যালঘু মুসলমানদের সংখ্যা তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিম ইউরোপে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে অভিবাসী হয়ে আসে।

যুদ্ধ পরবর্তীকালে ইউরোপে জনশক্তির চাহিদার কারণে অনেক বিদেশী সহজেই ইউরোপে আসার সুযোগ পায়। বর্তমানে অভিবাসী মুসলমানরা ইউরোপীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এখন সামাজিকভাবে বেশ সক্রিয়। নিজ দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি নিয়েও তারা বেশ সজাগ। এ ব্যাপারে ইউরোপীয়দের মাঝেও একটি ভয় ঢুকেছে যে, মুসলমানদের সচেতনতায় ইউরোপে নব্য নাজী ও ফ্যাসিস্ট আন্দোলন বৃদ্ধি পেতে পারে। ইসলাম এবং মুসলমানদের সম্পর্কে ভুল ধারণার কারণে ইউরোপে মুসলমানদের প্রতি এরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে।

মাতৃভূমির যে কোন প্রকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ইউরোপের অভিবাসী মুসলমানদের মাঝে বিরাট প্রভাব রাখে। এরকম একটি ঘটনা হলো ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর ইউরোপে এর বিরাট প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

ইউরোপীয় মুসলমানদের মাঝে ইসলামী চেতনায় ফিরে যাওয়ার যে প্রবণতা তার সাথে ইউরোপীয় সরকারগুলোর দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এবং ফ্রান্সের স্কুলে ইসলামী পর্দা ও ইসলামী আচার-আচরণের বিরোধীতা শুরু হয়। বিভিন্ন দেশে ইসলামী পুনর্জাগরণ এবং ইউরোপের সংখ্যালঘু মুসলমানদের মাঝে তার প্রভাব এ বিরোধকে আরো জাগিয়ে তোলে। কুখ্যাত ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ গ্রন্থের প্রকাশনা এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেইনী (রহ.) কর্তৃক এ গ্রন্থের লেখক সালমান রুশদীকে মৃত্যুদ- প্রদান প্রভৃতির কারণে ইউরোপীয় মুসলমানদের ইসলামী মানসিকতায় বিরাট পরিবর্তন সাধিত হয়। ইসলামী পুনর্জাগরণের চেতনায় এরা উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে।

ইউরোপে ইসলামী চেতনার উন্মেষ, ইসলামী ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা, মসজিদ নির্মাণ, ব্রিটেনে মুসলিম পার্লামেন্ট গঠন, মুসলিম রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাশ্চাত্য বুদ্ধিজীবীর ইসলাম গ্রহণ, যেমন রজার গারোদী (ফ্রান্স), মনসুর মন্টি (ফ্রান্স), আহমদ হোবার (অস্ট্রিয়া) প্রভৃতি; বিভিন্ন ইসলামী সম্মেলনের আয়োজন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসলামী সাময়িকী ও দৈনিকের আত্মপ্রকাশ, ইসলামী টিভি এবং রেডিও স্টেশন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতিকে ইউরোপে ইসলামী চেতনার বিকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলা যায়।

তৃতীয় বিশ্বে ইসলামী আন্দোলনের প্রসারে ইউরোপের উৎকণ্ঠা : ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ধর্মের কাছে ফিরে আসার আহ্বান সারা পৃথিবীতে বিরাট আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। খ্রিস্টবিশ্বও এ প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। ল্যাটিন আমেরিকায় ও আফ্রিকায় ধর্মতাত্ত্বিক স্বাধীনতার উন্মেষ এ প্রভাবেরই ফলশ্রুতি।

ধর্মতাত্ত্বিক স্বাধীনতাকে তৃতীয় বিশ্বের জনগণের সাম্য ও ন্যায়ের জন্য ঐতিহাসিক দাবি হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত কতিপয় ধর্মতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্বের উদ্ধৃতি প্রণিধানযোগ্য, ‘খরভব‘Life Cannot Exist Only for Me’ গ্রন্থের লেখক নাইরোবীতে অনুষ্ঠিত খ্রিস্টীয় চার্চের এক কনফারেন্সে উল্লেখ করেন, ‘জনগণ এখনও এমন একটি সমাজের প্রত্যাশী যেখানে সকলেই ন্যায়বিচার ভোগ করবে। খোদায়ী মুক্তির এই ঐতিহাসিক পথ ধরেই আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।’

‘The History of Church in Latin America’ এবং ‘The Libaration Philosophy’ গ্রন্থের প্রণেতা এটরিক ডে সেল বলেন, ‘মার্কসবাদের আগেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বজায় ছিল, এর পরেও তা থাকবে।’

‘বেকারত্ব এবং পরিবেশ সংরক্ষণ প্রভৃতির মতো তৃতীয় বিশ্বের ইস্যুগুলোর ব্যাপারে পুঁজিবাদ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ কারণেই আমার মতে ধর্মতাত্ত্বিক মুক্তির চিন্তা বিকাশ লাভ করেছে।’

এল সালভাদরের জনৈক লেখক জন সুপারনিও থিওলডগ বলেন, ‘স্বাধীনতার সাথে শোষণ-বঞ্চনার একটি সম্পর্ক রয়েছে। তৃতীয় বিশ্বে শোষণ, বঞ্চনা ও অন্যায়-অবিচার দীর্ঘদিন থেকে বিকশিত হয়ে আসছে। ধনী এবং দরিদ্র দেশসমূহের ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে। এখন বঞ্চিতদের আহাজারি আগের চেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে ধর্মতাত্ত্বিক পরিমণ্ডলে এর সমাধান খুঁজে বেড়াচ্ছে মানুষ এবং এর অর্থই হলো ধর্মতাত্ত্বিক মুক্তি।’

ধর্মতাত্ত্বিক মুক্ত চিন্তা খ্রিস্টীয় চার্চের কর্তৃপক্ষের মাঝে সাড়া জাগাতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে এই মুক্ত চিন্তা চার্চের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে।

অপরদিকে তৃতীয় বিশ্বে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী আন্দোলনের ফলে এ সকল দেশে এবং ইউরোপে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার বিষয়ে পাশ্চাত্যের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয়। আলজেরিয়ার নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের বিজয়ের প্রতি পাশ্চাত্যের অসহযোগিতা, সেখানকার সামরিক জান্তার প্রতি ইউরোপের সমর্থন প্রভৃতি ইসলামী জাগরণের প্রতি ইউরোপের বিরূপ মনোভাবেরই পরিচায়ক।

ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী জাগরণের প্রতি ইউরোপের বিরোধিতা সুস্পষ্ট। নিম্নলিখিত কর্মকাণ্ডগুলোর মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়। যেমন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিরোধিতা করে একে ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেয়া, বিভিন্নভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, মধ্য এশিয়ার স্বাধীনতার পথে অগ্রসরমান মুসলমানদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা যাতে জাগতে না পারে সেজন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, আফগানিস্তানের শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সে উদ্দেশ্যে সেখানকার বিভিন্ন দল-উপদলের মাঝে বিরোধ লাগিয়ে দেয়া। পাকিস্তানে, ভারতে এবং লেবাননে ধর্মান্ধতাকে জাগিয়ে দেয়া, মুসলমানদের মাঝে জাতীয় বিরোধ সৃষ্টি করে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয়া, ইসলামী আন্দোলনগুলোকে দমন করার জন্য স্থানীয় প্রতিক্রিয়াশীল ও তাঁবেদার দলগুলোকে সাহায্য-সহযোগিতা করা, মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্য ধর্মাবলম্বীদের উসকে দেয়া, যেমন বাবরী মসজিদ ষড়যন্ত্র। পারস্য উপসাগরে এবং আফ্রিকা শৃঙ্গে ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি, সুদানের ওপর চাপ প্রয়োগ, ফিলিস্তিনে এবং লেবাননে ইহুদি যুলুম-নির্যাতনের প্রতি অব্যাহত সমর্থন প্রদান, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া এবং মিশরের দালাল সরকারগুলোর প্রতি সমর্থন দান প্রভৃতি।

উপরিউক্ত কর্মকাণ্ডগুলো থেকেই প্রমাণিত হয় ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের প্রভাবে ইউরোপ ও পাশ্চাত্যে ইসলামের বিরোধিতা কত ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে! সেই সাথে এটাও প্রমাণিত হয় ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর সারা বিশ্বে প্রকৃত ইসলামের পুনর্জাগরণের জোয়ার শুরু হয়েছে।