মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

আল-কুদস দিবসে এবারের প্রেক্ষাপট এবং আমাদের প্রার্থনা

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ২৫, ২০১৯ 

মুজতাহিদ ফারুকী –

বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র মাহে রমযান। সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক কঠোর প্রশিক্ষণের মাস। দৈহিক ও আত্মিক সংযমের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল জাগতিক ও আধ্যাত্মিক যাবতীয় কল্যাণকর্মে সাফল্যের সোপানে সহজে আরোহণ করা সম্ভব।
বর্তমান ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর সামনে এখন বহুমুখী সঙ্কট কেবলই আবর্তিত হচ্ছে। মুসলমানেরা সারা বিশ্বে নানাভাবে নিগৃহীত। বিশ্বের দেশে দেশে তাদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সত্য-মিথ্যা নানা অজুহাতে বিপর্যয়কর, বিধ্বংসী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রতিদিন অসংখ্য মুসলমানকে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, চীন, ভারত, মিয়ানমার সর্বত্র চলছে মুসলিম নিগ্রহ। বাস্তবে তালিকা আরো দীর্ঘ ও সুবিস্তৃত। আসলে প্রশ্নটা বোধহয় এভাবে বলাই ভালো যে, বিশ্বের এমন কোন দেশ আছে যেখানে মুসলমানেরা শান্তিতে বসবাস করছে?
সেই সাথে আছে মুসলমানদের আত্মপরিচয় হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা। আধুনিক বিশ্বের নানামুখী চিন্তাধারার প্রভাব, ইসলাম স¤পর্কে জানার সুযোগ কম থাকা এবং ইসলামবিরোধীদের অব্যাহত চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মুসলমানেরা এখন নিজের ধর্ম থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে। তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিভেদ, অনৈক্য ও অজ্ঞানতার অন্ধকার।
এ প্রেক্ষাপটে এবারো পবিত্র মাহে রমযানের শেষ শুক্রবার যথারীতি মুসলিম বিশ্বে পালিত হয় আন্তর্জাতিক আল-কুদ্স দিবস। দীর্ঘ দিন ধরে ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলে থাকা মুসলমানদের প্রথম কিবলা বায়তুল মোকাদ্দাস পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় দিনটি।
১৯৭৯ সালে ইরানে সংঘটিত সফল ইসলামি বিপ্লবের পর মহান নেতা ইমাম খোমেইনী (রহ.) পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে কুদ্স দিবস ঘোষণা করেন। সেই থেকে ইরানসহ বিশ্বের বহু দেশে কুদ্স দিবস পালিত হয়ে আসছে এবং দিন দিন কুদ্স পালনকারী দেশের সংখ্যা বাড়ছে।
মহানবী (সা.)-এর নবুওয়াতের ঘোষণার পর থেকে মুসলমানদের কাছে বায়তুল মোকাদ্দাস পবিত্র স্থান হিসাবে গণ্য হতে থাকে। কুরআন শরিফে বায়তুল মোকাদ্দাসকে পবিত্র ভূমি বলে উল্লেখ করা হয়েছে- (স্মরণ করো, মূসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল) হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি নির্দিষ্ট করেছেন, এতে তোমরা প্রবেশ করো এবং পশ্চাৎপসারণ করো না, করলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ২১)।
ফিলিস্তিন ও পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দাস দখলদার ইহুদিবাদীদের হাত থেকে মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ মুক্ত করার জন্য মুসলমানদের জাগিয়ে তোলাই আল-কুদ্স দিবসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ ছাড়াও মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা ইহুদিবাদী শাসন, শোষণ, নিপীড়ন ও তাদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটানো এবং বায়তুল মোকাদ্দাসকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনি জাতির নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাও এ দিবসের আরেকটি বড় লক্ষ্য।
মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের পোশাকধারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর নব্য ক্রুসেড মোকাবেলার জন্য মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম বা প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইসলামি শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যও এ দিবস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে- কেন আল-আকসা মসজিদ এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করা মুসলমানদের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?
একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই আমরা বুঝতে পারব কেন বায়তুল মোকাদ্দাস, আল-আকসা মসজিদ এবং ফিলিস্তিন স্বাধীন করা মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় ও সর্বপ্রধান দায়িত্ব। এটা শুধু মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব বা মান-সম্মান ফিরিয়ে আনার প্রশ্ন নয়, বিশ্বব্যাপী সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যও এটা জরুরি। কারণ, বায়তুল মোকাদ্দাস ও ফিলিস্তিন হচ্ছে রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিক কৌশলগত দিক থেকে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা- এ গুরুত্বপূর্ণ তিন মহাদেশের প্রবেশদ্বার। এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটি সাম্রাজ্যবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে আজ তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের প্রধান তিন মহাদেশের ওপর কর্তৃত্ব করা সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য সহজ হয়েছে।
এরপর রয়েছে পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দাস শহর ও আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে ওই অঞ্চলের ইতিহাস খুব সংক্ষিপ্তভাবে হলেও জেনে রাখা দরকার।
বায়তুল মোকাদ্দাস শহর নির্মিত হয়েছিল হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর মাধ্যমে কাবা শরিফ নির্মাণের ১১০০ বছর পর তথা হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মের ৯৭০ বছর আগে। তাই ইবরাহীম (আ.)-এর বংশধর হজরত দাউদ (আ.)-এর মাধ্যমে নির্মিত আল-আকসা মসজিদ তৌহিদপন্থীদের দ্বিতীয় হারামে পরিণত হয়।
হযরত মূসা (আ.)-এর জীবদ্দশাতেই ইহুদিরা তৌহিদবাদ বা আল্লাহর একত্বের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে মূর্তিপূজা শুরু করেছিল এবং আল্লাহর শাস্তি হিসেবে তারা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিল। এরপর ইহুদিরা অনেক নবীকে হত্যা করেছিল।
এরপর মসজিদুল আকসা ছিল বিশ্বনবী (সা.)-এর নবুওয়াতের প্রথম চৌদ্দ বছর পর্যন্ত মুসলমানদের প্রথম কিবলা। ইহুদিদের কিবলার দিকে মুখ করে মুসলমানেরা নামায আদায় করত বলে ইহুদিরা মুসলমানদের উপহাস করত। শেষ নবী (সা.) কেন ইহুদি বংশে জন্ম নিলেন না, এটাই ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে ইহুদিদের ক্ষোভের একটা বড় কারণ। এ অবস্থায় হিজরতের দ্বিতীয় বছরে আল্লাহর নির্দেশে মুসলমানরা পবিত্র কাবাকে নামাযের কিবলায় পরিণত করে। দ্বিতীয় খলিফার সময় বা ১৫ হিজরিতে বায়তুল মোকাদ্দাস মুসলমানদের হস্তগত হয়। পরবর্তীকালে এ শহরের বেশির ভাগ বাসিন্দাই ছিল আরব মুসলমান। আর তাদেরই বংশধর হলো আজকের ফিলিস্তিনি মুসলমানেরা। এরপর খ্রিস্টীয় ১০৯৫ সালে ইউরোপীয়রা বায়তুল মোকাদ্দাস দখলের জন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড শুরু করে। প্রায় ২০০ বছর পর্যন্ত ইউরোপীয় খ্রিস্টানরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাত-আটটি ক্রুসেড পরিচালনা করে। সালাহউদ্দিন আইয়ুবির হাতে ক্রুসেডাররা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল।
বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদ এবং তার আশপাশের এলাকা বহু নবীর স্মৃতিবিজড়িত। এই পবিত্র নাম শুধু একটি স্থানের সাথে জড়িত নয়, বরং এই নাম সব মুসলমানের ঈমান ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানে রয়েছে অসংখ্য নবী-রাসূলের মাযার। ওহি ও ইসলামের অবতরণস্থল এ নগরী নবিগণের দ্বীন প্রচারের কেন্দ্রভূমি। তাই এ পবিত্র নগরীর প্রতি ভালোবাসা প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত।
প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বা ‘জুমাতুল বিদা’র দিনে সারা বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান বায়তুল মোকাদ্দাস তথা আল-কুদ্সে ইহুদিদের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেন এবং ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের কবল থেকে পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে মুক্ত করার জন্য নতুন শপথ গ্রহণ করেন। এটি হলো ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বরূপ তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর দিবস। আল-কুদ্স মুক্তির লক্ষ্যে সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের একতাবদ্ধ হওয়ার দিবস। ইসরাইলের পতন কামনার দিবস।
কিন্তু এবারের আল-কুদ্স দিবস যখন পালিত হতে যাচ্ছে তখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিস্থিতি ভিন্ন। ইরানের সম্ভাব্য হুমকির স¤পূর্ণ মিথ্যা অজুহাতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর সামরিক হামলার অজুহাত খুঁজছে। এরই মধ্যে পারস্য উপসাগর এলাকায় জঙ্গিবিমানসহ বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে। বি-৫২ বোমারু বিমান জড়ো করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত।
অবশ্য এ মুহূর্তেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আক্রমণ চালাবে কি না সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভিন্নমত রয়েছে। আর মার্কিন কংগ্রেসও ইরানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রা¤পকে অনুমতি দেয় নি। কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি অর্থাৎ ভোটের হিসাবে গড়বড় দেখা দিলে ট্রা¤প নিজের নির্বাহী ক্ষমতায় আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন কি না, সেটা সময়েই বোঝা যাবে।
তবে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিষয়টি ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আরো বিস্ফোরক পরিস্থিতি অপেক্ষা করে আছে। ইসরাইলের একটি পত্রিকার বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤প একটি চুক্তি করেছেন। এটিকে বলা হচ্ছে, ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’। ইসরাইল-ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ-বিষয়ক এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিন নামে কোনো দেশ থাকবে না।
ফিলিস্তিনের নতুন নাম হবে নিউ প্যালেস্টাইন। চুক্তিটি স্বাক্ষরের আগে ফিলিস্তিনি নেতাদের সাথে কোনো আলোচনাই করেন নি ট্রা¤প; বরং প্রকাশিত চুক্তিতে দেখা যায়, ট্রা¤েপর এই চুক্তি না মানলে প্রয়োজনে ইসরাইল ফিলিস্তিনি নেতাদের হত্যা করতে পারবে। চুক্তিটি বাস্তবায়নে ট্রা¤প সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে তার পাশে পেয়েছেন বলে ইসরাইলি পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে। ফিলিস্তিনি নেতারা ট্রা¤েপর এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
চুক্তিতে বলা হয়েছে- ইসরাইল, পিএলও এবং হামাসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং ফিলিস্তিন নামে কোনো দেশ থাকবে না। চুক্তি অনুযায়ী নতুন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের নাম হবে নিউ প্যালেস্টাইন। গাজা উপত্যকা, জিহুদিয়া পার্বত্য এলাকা এবং পশ্চিম তীরের সামারিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত হবে এ রাষ্ট্রটি। তবে পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর ওপর এ রাষ্ট্রের কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না। এসব বসতির সার্বভৌমত্ব থাকবে ইসরাইলের হাতে। নিউ প্যালেস্টাইনের কোনো সামরিক বাহিনীও থাকতে পারবে না।
চুক্তি অনুযায়ী, জেরুসালেম নগরী ভাগ হবে না, এটি হবে উভয় দেশের রাজধানী। নগরীর আরব বাসিন্দারা নিউ প্যালেস্টাইনের নাগরিক হবেন এবং ইহুদিরা ইসরাইলি নাগরিক হিসেবে সেখানে বসবাস করবেন। ইহুদিরা আরবদের এবং আরবরা ইহুদিদের বাড়িঘর কিনতে পারবেন না। জেরুসালেমে নতুন আর কোনো এলাকা দখল করা হবে না। পবিত্র স্থানগুলোর বিদ্যমান অবস্থা বজায় থাকবে। তবে জেরুসালেমের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইসরাইলের জেরুসালেম পৌরসভার হাতে। তবে সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। জেরুসালেম পৌরসভার কাছে ট্যাক্স ও পানির বিল প্রদান করবে নিউ প্যালেস্টাইন সরকার।
ভয়াবহ ওই চুক্তি মেনে নেয়া ফিলিস্তিন বা তার প্রতি সহমর্মী ইরান, তুরস্কের পক্ষে সম্ভব নয়- এটা বুঝতে কোনো অসুবিধা কারো হওয়ার নয়। চলতি রমজানের পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই চুক্তির ভিত্তিতে তথাকথিত শান্তিপ্রক্রিয়া শুরু করবে বলে খবরে জানানো হয়েছে। চুক্তি যারা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ এবং প্রয়োজনে হত্যা করতে পারবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। মুসলিম বিশ্বের পবিত্রতম দুই কেন্দ্র কাবা ও রাসূল (সা.)-এর রওজা মোবারকের খাদেম সৌদি আরব ওই চুক্তির পক্ষে থাকার অর্থ হলো, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের অন্য যেসব সদস্য সৌদি আরবের মিত্র তারাও চুক্তির
পক্ষে থাকছে। এদের মদদ নিয়েই ইসরাইল এখন ফিলিস্তিনিদের নির্বিচার হত্যায় মেতে উঠলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এতে করে আরব তথা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আরেকটি বিভাজনের সূত্রপাত অবশ্যম্ভাবী এবং সেই টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া মুসলিম বিশ্বের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করার কোনো উপায় থাকবে, এমনটি আশা করা বাতুলতা মাত্র।
এরপরও মুসলমানেরা সব সময় ঈমানের শক্তিতেই নির্ভর করেছে, পরম করুণাময় আল্লাহর রহমতের ওপর আস্থা রেখেছে। এবারের আল-কুদ্স দিবস হয়তো মুসলমানদের সেই ঈমানি শক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিতে যাচ্ছে। আল-কুদ্স দিবসে এবার প্রার্থনা হোক- হে আল্লাহ, তোমার কুদরতের ঝলকানিতে অতীতের মতো এখনো তোমার দ্বীন ও দ্বীনের ধারকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ইহুদি-নাসারাদের সব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে দাও।