মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

আরবাইন, কারবালার মহাবিপ্লবের স্মৃতিতর্পণ

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ২৯, ২০১৮ 

news-image

মুজতাহিদ ফারুকী :  মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইনের (আ:) শাহাদাত থেকে চল্লিশ দিন পর তাঁর কারবালার মাজারে ভক্ত অনুসারীদের সমাবেশ দিবসটি পালনই হলো আরবাইন। আরবাইন আরবি শব্দ ও এর মানে হচ্ছে চল্লিশ। ফার্সি শব্দ চেহলম বা উর্দু চেহলাম শব্দের অর্থও চল্লিশ যা আমাদের দেশে বাংলায় চল্লিশা হিসেবে পরিচিত। এ দিনটিতে কারবালায় ইমাম হোসাইনের (আ:) মাজারটি ভক্তদের অংশগ্রহণে এক মহা জনসমুদ্রে পরিণত হয় যেটি আসলে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ।

হযরত ইমাম হোসাইন (আ:) এর কালজয়ী মহাবিপ্লব নানা কারণে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে এবং এইসব কারণে এই মহাপুরুষ ও তাঁর সঙ্গীরা মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলে ভালবাসা আর শ্রদ্ধার অক্ষয় আসন করে নিয়েছেন। এই কারণগুলোর মধ্যে সবার আগে বলতে হয়, মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী আন্তরিক চিত্তে যথাসময়ে জরুরিতম দায়িত্বটি পালন করা ও এ জন্য নিজের সন্তান ও জীবনসহ সব কিছু বিলিয়ে দেওয়ার মত সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার। তাই মহান আল্লাহ তাঁর একনিষ্ঠ এই খোদাপ্রমিক ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য বিশ্বের সব যুগের মু’মিন মানুষের হৃদয়ে দান করেছেন অনন্য মমত্ববোধ আর শ্রদ্ধা। ইমামের অতুলনীয় বীরত্ব, সাহসিকতা ও আপোসহীনতাও এক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

ইয়াজিদের মত বর্বর ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির শাসকের আনুগত্য অস্বীকার করার পরিণতি কি হতে পারে তা ভেবে যখন অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব আতঙ্কিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েছিলেন এবং তারা যখন আপোষ বা নীরবতার পথ বেছে নিয়েছিলেন তখন ইমাম হোসাইন (আ:) প্রকাশ্যেই এই চরম জালিম ও তাগুতি শাসকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। একইসঙ্গে তিনি জনগণকে এই উমাইয়া শাসকের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তুলতে সচেষ্ট হন। এ সময় ইমামের প্রতি সহানুভূতিশীল অনেক সাহাবি ও এমনকি তাঁর এক সৎ ভাইও বিপ্লবী তৎপরতা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন মুসলিম উম্মাহর এই অমর ত্রাণকর্তাকে। হযরত আলীর (আ:) আরেক পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া কোনো নির্দিষ্ট শহরে বেশি দিন না থেকে দূরে কোথাও চলে যেতে ইমামকে পরামর্শ দেন যাতে সংঘাত ও রক্তপাত এড়ানো যায় এবং জাতির সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তির প্রাণহানি না ঘটে।

জবাবে ইমাম হোসাইন (আ:) বলেছিলেন, ‘ভাই আমার! তুমি ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্যের শপথ এড়ানোর জন্য আমাকে এক শহর থেকে আরেক শহরে সফরের পরামর্শ দিচ্ছো। কিন্তু তুমি এটা জেনে রাখ যে, সারা বিশ্বের কোথাও যদি কোনো আশ্রয়স্থল না থাকে তাহলেও আমি মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের হাতে বাইয়াত করব না।’
ত্যাগ-তিতিক্ষা, ন্যায়বিচার, সত্যনিষ্ঠা, সাম্য ও ইবাদতের ধর্ম ইসলামকে দামেস্কের উমাইয়া শাসকরা যখন ভোগ-বিলাস, অসত্য ও অন্যায়ের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেছিলো, প্রতারণা, ধাপ্পাবাজি, অনৈতিক রাজনীতি ও রাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের চোরাবালিতে যখন ইসলামকে ডুবিয়ে দিতে উদ্যত হয়েছিলো তখন মহানবীর (সা.) প্রবর্তিত প্রকৃত ইসলামের ঝাণ্ডা ওড়াতে যিনি সব বাধা বিঘ্ন উপক্ষো করে নির্ভীক চিত্তে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি ইমাম হোসাইন (আ:)।


সত্যের পথে সংগ্রামের ঘটনা বিশ্বে বিরল নয়। তার পরও কারবালার ঘটনার আলাদা তাৎপর্য অব্যশ্যই আছে। কেবল মুসলমানদের জন্য নয়, বরং ইহলৌকিক, নাস্তিক্যবাদী জীবনাচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়া নীতি-নৈতিকতাহীন বিশ্বব্যবস্থার কারণে মানব জীবন যখন বিপর্যস্ত, বিশ্ব মানবতা যখন লাঞ্ছনা অপমানে গুমরে কাঁদছে তখন কারবালার আত্মত্যাগের তাৎপর্য যে কোনও ধর্মের যে কোনও মানুষের জন্য অনুসন্ধান করা জরুরী।
কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (আ:) শুধুই কি স্বৈরাচারী শাসক ইয়াজিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হতে চেয়েছিলেন? তা নয়, বরং তিনি অনৈসলামী কার্যকলাপে নিমজ্জিত ইসলামকে ভেতর থেকে সংস্কার করে তাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্যই মূলত সংগ্রাম করেছেন।
ইমাম হোসাইনের ৭২ জন অনুসারীর ওপর যে নির্যাতন ও যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ নেমে এসেছিল এবং সত্যের আদর্শ রক্ষায় যে ত্যাগ ইমাম করে গেছেন আরবাইনের দিনে বিশ্ববাসী তা স্মরণ করেন। ঘটনার পরের বছর অর্থাৎ ৬৮১ খ্রিস্টাব্দ, হিজরি ৬১ সাল থেকেই প্রতি বছর আরবাইন পালিত হয়ে আসছে এবং তা চলছে আজ অবধি যা নিরন্তর জারি থাকবে হয়তো রোজ কিয়ামতের আগ পর্যন্ত। কারবালার প্রান্তরে মর্মান্তিক ওই হত্যাযজ্ঞের পর বেঁচে যাওয়া ইমামের কয়েকজন ভক্ত অনুসারী ইমাম হোসাইনের (আ:) মাজারে প্রথম জমায়েত হন যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ’র নেতৃত্বে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আতিয়া ইবনে সা’দ। তাঁর সঙ্গে আরো ছিলেন মুহাম্মদ (সা:) এর পরিবারের নারী সদস্যরা ও হোসাইনের (আ:) পুত্র, ইমাম জয়নুল আবেদীন। তাদেরকে স্বৈরাচারী ইয়াজিদের নির্দেশে বন্দি করে দামেস্কে নিয়ে যাওয়া হয়।


বিশ্বের বৃহত্তম শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ : আরবাইন উপলক্ষে প্রতি বছর কারবালার ময়দান অভিমুখে শোকযাত্রা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘বিশ্বের বাৎসরিক সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ মিলনমেলা’ হিসেবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে স্বীকৃতি পেয়েছে। যেমন, উইকিপিডিয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসের সর্ববৃহৎ মানব-জমায়েতের তালিকায় দু’ নম্বরে রয়েছে ২০১৫ সালের আরবাইনের অবস্থান- যেখানে জঙ্গী হামলার হুমকি উপেক্ষা করে অন্তত দুই কোটি ৬০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, মানবেতিহাসের সর্বোচ্চ মানব-জমায়েতের তালিকায় ‘আরবাইন’ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বাৎসরিক সর্বোচ্চ মানব-জমায়েতের তালিকায় এর অবস্থান প্রথমে। কেননা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কুম্ভমেলা- যা মানবেতিহাসের সর্বোচ্চ জনসমাগম (২০১৩), সেটি প্রতি তিন বছর অন্তর একবার করে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।


উইকিপিডিয়ায় `List of Largest peaceful gathering in history’ শীর্ষক নিবন্ধে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায় যে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বছরগুলোতে কারবালায় আরবাইনে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা যথাক্রমে ২০০৯ সালে এক কোটি থেকে এক কোটি ৪০ লাখ, ২০১০ সালে এক কোটি, ২০১১ সালে দেড় কোটি, ২০১২ সালে দেড় কোটি, ২০১৩ সালে দেড় কোটি থেকে এক কোটি ৮০ লাখ, ২০১৪ সালে দুই কোটি থেকে দুই কোটি ৬০ লাখ এবং ২০১৫ সালে দুই কোটি ৬০ লাখ। তাকফিরি জঙ্গিদের হুমকি, হামলা ও আগ্রাসন উপেক্ষা করে সারা দুনিয়া থেকে ছুটে আসেন হযরত ইমাম হোসাইনের প্রেমিকগণ এবং প্রতি বছর তাঁদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। উল্লেখ্য, এই আরবাইন ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলীর অনুসারী শিয়া মুসলমানদের ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও এ উপলক্ষে কারবালায় ছুটে আসেন অসংখ্য সুন্নি মুসলমান, খ্রিস্টান, হিন্দু, ইয়াযিদি, যরথুস্ত্র এবং সাবেয়ি ধর্মের অনুসারী ইমাম হোসাইন-প্রেমিকগণ।
হাফিংটনপোস্টে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ মাহদি আল মুদাররেসি তাঁর নিজ কলামে কারবালার পথে আরবাইনের পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, “নারী-পুরুষ এবং শিশুদের পদযাত্রা যেন তুষারধসের মত (এগিয়ে চলেছে)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, কালো চাদরে ঢাকা নারীদের অবস্থান- দিগন্তের একমাথা থেকে আরেক মাথা অবধি বিস্তৃত।”
তাঁর আরবাইন শীর্ষক কলাম (World’s Biggest Pilgrimage Now Underway, And Why You’ve Never Heard of it!) যেটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, তাতে এটিও জানা যায় যে, বসরা থেকে কারবালা পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৪২৫ মাইল পথ দু’ সপ্তাহের প্রচেষ্টায় পায়ে হেঁটে পার করেন অনেক শোকযাত্রী।
মাহদি আল মোদাররেসি বলেছেন, “তীর্থযাত্রীদের জন্য যাত্রাপথের অন্যতম আকর্ষণ হলো অস্থায়ী রান্নাঘরযুক্ত হাজার হাজার তাঁবু, যেগুলো পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীরা তীর্থযাত্রীদের খেদমতের জন্য স্থাপন করেন। তাঁবুগুলোতে তীর্থযাত্রীগণ দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন। স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে বিশ্রামের স্থান পর্যন্ত সবই। বিদেশে ফোন-যোগাযোগের সুবিধা, বাচ্চাদের ডায়াপার- সবই বিনামূল্যে। ৪২৫ মাইল যাত্রাপথে তীর্থযাত্রীদের এককথায় কোন কিছুই নিজ থেকে বহন করতে হয় না। এরচেয়েও অভাবনীয় হচ্ছে, যেভাবে তীর্থযাত্রীদের খাদ্যগ্রহণে নিবেদন করা হয় সেটি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে যাত্রীদের পথরোধ করেন এলাকাবাসী ইমাম-ভক্তগণ এবং বিনামূল্যে খাদ্যগ্রহণে বাধ্য করেন তাঁরা। তবে তার আগে ক্লান্ত-শ্রান্ত যাত্রীর পা ম্যাসেজ করে দেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এরপর তাঁরা পদযাত্রীকে বিশ্রাম নিতে অনুরোধ করেন- ততক্ষণ তারা (স্বেচ্ছাসেবিগণ) তাঁর (যাত্রীর) জামা-কাপড় ধুয়ে-শুকিয়ে ইস্ত্রী করে দেন।


একজন স্বেচ্ছাসেবীর ভাষায়, ‘ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে জানতে চাইলে, কতিপয় জঙ্গির দিকে নজর না দিয়ে বরং আরবাইন উপলক্ষে নিঃস্বার্থ ত্যাগের নজিরগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।’
আরবাইন উপলক্ষে ভক্তরা কারবালা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন কেউ বা ৫৫ মাইল দূরের নাজাফ শহর থেকে আর কেউ বা ৪২৫ মাইল দূরের বসরা শহর থেকে। এই বিশাল দূরত্বে পদে পদে পুঁতে রাখা বোমার ভয়, অপহৃত হওয়ার ভয়। সেই ভয়ভীতি জয় করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী, পুরুষ, শিশু, যুবক,মৃত্যুপথযাত্রী কিংবা গুরুতর পঙ্গু-বধির-অন্ধ ভক্তরা সমস্বরে স্লোগান তোলেন, ‘যদি তারা দেহ থেকে আমাদের পা এবং হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, তবুও আমরা এই পবিত্র ভূমির পানে ছুটে আসবই!’
কেন এই দু’কোটি ষাট লাখ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মিলন? যেখানে কোন তীর্থব্যবসা নেই! নেই কোন চটকদার দুনিয়াবী ট্যুরিস্ট আকর্ষণ!
কী উদ্দেশ্যে হুইলচেয়ারে কিংবা ক্রাচে নির্ভর পঙ্গু কিংবা হাতে লাঠি নিয়ে একজন অসহায় অন্ধ ৪২৫ মাইল পার হয়ে কারবালায় ছুটে আসেন? কী জন্য একজন বৃদ্ধ পিতা তাঁর প্রতিবন্ধী সন্তানকে কাঁধে করে বসরা থেকে কারবালা অবধি ছুটে আসেন? কী জন্য মিম্বরের সাদা পাগড়ি পরা আলেম সাহেব স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে রাস্তায় বসে তীর্থযাত্রীদের মাঝে ফল বিতরণ করেন কিংবা তাদের জুতো পালিশ করেন? কেন ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়া থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষ কারবালায় ছুটে আসেন! শুধু ইমাম হোসাইনের প্রেমে। যখন এই তীর্থযাত্রা মোটেও কোনো অবশ্যপালনীয় ধর্মীয় আচার নয়!
না! মিডিয়ায় মুহররম বলতে চাকু দিয়ে নিজের পিঠে আঘাত করে যে রক্তপাত দেখানো হয় সেই উদ্দেশ্যে এই তীর্থযাত্রা নয়। শুধু ক্রন্দন কিংবা ‘ইয়া হোসাইন’ বলে বুক চাপড়ানোও উদ্দেশ্য নয়। এই বিপদসংকুল পদযাত্রার পেছনে কোনো ‘বিষাদ সিন্ধু’ শ্রেণির কাহিনী প্রেরণা-দর্শন হিসেবে নিহিত নেই।
মানবতার জাগরণই এর একমাত্র অভিমুখ।
আরবাইনে চলার পথে কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনাবলী নিশ্চয়ই মানুষের মানসপটে ভাসতে থাকে। তারা জানে, ইমাম হোসাইন (আ:) যে পথ দেখিয়ে গেছেন, তা মুসলমানদের জন্যে সকল অন্যায়, অসাম্য, অবিচার-অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিজের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা নিয়ে প্রচ-ভাবে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা, যা এই বিক্ষুব্ধ দুনিয়ায় শান্তি, ন্যায় ও বৈষম্যহীন এক সমাজ তৈরি করতে পারে।

পবিত্র আশুরা ও আরবাইনের শিক্ষা : আরবাইন থেকে মানুষ সেই শিক্ষা নিয়ে ফেরে যে, না, অন্যায়কে কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। মানুষ কিভাবে আরেক মানুষের কাছে এগিয়ে আসে তার প্রয়োজনে এবং তা কেবলই ইমাম হোসাইনের (আ:) সেই বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয়, যেমন তিনি কুফার উদ্দেশে রওয়ানা হবার আগে মদিনায় তার সৎ ভাই মোহাম্মদ ইবনে হানাফিয়ার কাছে অসিয়তনামা লিখে রেখে এসেছিলেন: “আমি যশ বা ক্ষমতার লোভে কিংবা ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার জন্যে বিদ্রোহ করছি না। আমি আমার নানার উম্মতের মধ্যে সংস্কার করতে চাই, আমি চাই সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করতে এবং অসৎকাজে বাধা দিতে। সর্বোপরি, আমার নানা এবং বাবা হযরত আলী (রা:) যে পথে চলেছেন সে পথেই চলতে চাই।” (দ্র: মাকতালু খারাযমী ১/১৮৮)
শহীদদের নেতা ইমাম হোসাইন মৃত্যুর মত বিপদকে আলিঙ্গন করেছেন, সক্রিয় ছিলেন ন্যায়ের পথে, সবকিছুই ব্যবহার করেছিলেন পূর্ণ মনোযোগের সাথে সদুপদেশ দেওয়ার জন্যে।