রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে মেহমানদের উদ্দেশ্যে রাহবারের বক্তব্য

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২০, ২০১৬ 

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা এবং ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ ‘উয্মা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী বর্তমান যুলুম-অবিচার, বৈষম্য ও সহিংসতায় বিক্ষুব্ধ বিশ্বের মানুষের কাছে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাকামী ইসলামের সঠিক চেতনা ও আধ্যাত্মিকতা তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে তেহরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের প্রদত্ত সাক্ষাতে গত ১৭ই রবিউল আউয়াল মোতাবেক ২৯শে ডিসেম্বর (২০১৫) এ আহ্বান জানান।

ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী প্রথমেই রাসূলে আকরাম হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও হযরত ইমাম জাফর সাদেক (আ.)-এর জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্কে এবং বিশেষভাবে ইরানী জনগণকে ও সমাবেশে উপস্থিত সকলকে মোবারকবাদ জানান।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী উল্লেখ করেন যে, রাসূলে আকরাম হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্ম ও নবুওয়াতের দায়িত্বে অভিষিক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে জীবনের যথার্থ তাৎপর্য ও প্রকৃত আধ্যাত্মিকতা প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং অতীতের বিষদুষ্ট পৌত্তলিক বিশ্বের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যায়। তিনি বলেন, আজকের দিনে মুসলিম জাহানের কাঁধে, বিশেষ করে ইসলামী পণ্ডিত, চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের কাঁধে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তা হচ্ছে, তাঁদেরকে যুলুম, অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও সহিংসতায় নিমজ্জিত এ বিশ্বের জনগণের কাছে ইসলামের সঠিক চেতনা ও আধ্যাত্মিকতাকে তুলে ধরার জন্য দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সাথে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, আজ মুসলিম জাহানের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক উপকরণাদি ব্যবহার করে এবং সেই সাথে যুক্তি, বিচারবুদ্ধি, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও অন্তর্দৃষ্টি কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক ইসলামী সভ্যতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের পালা এসেছে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, হযরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর জন্ম বার্ষিকী উদ্যাপন বিশ্বের মুসলমানদের কাছ থেকে একটি ন্যূনতম প্রত্যাশিত বিষয়, কিন্তু আজকের দিনে ইসলামী উম্মাহ্র দায়িত্ব কেবল রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী ও তাঁর নবুওয়াতে অভিষিক্ত হওয়ার উপলক্ষ উদ্যাপনের মধ্যেই সীমিত নয়। বরং মুসলিম জাহানকে অবশ্যই একটি আধুনিক ইসলামী সভ্যতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপনীত হবার জন্য চেষ্টা চালাতে হবে। তিনি বলেন, একটি আধুনিক ইসলামী সভ্যতার মানে পাশ্চ্যত্য সভ্যতা যা করেছে সেভাবে বিভিন্ন ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানো, লোকদের অধিকার পদদলিত করণ এবং জাতি সমূহের ওপর স্বীয় চরিত্র, আচরণ ও সংস্কৃতি জোর করে চাপিয়ে দেয়া নয়; বরং এর মানে হচ্ছে মানব প্রজাতিকে ঐশী মর্যাদা উপহার প্রদান এবং তারা যাতে নিজেরাই মানবতার মাধ্যমে সঠিক পথ চিনে নিতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।

ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার স্মরণ করিয়ে দেন যে, পাশ্চাত্য জগৎ স্বীয় সভ্যতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ইসলামী জাহানের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনকে কাজে লাগিয়েছিল। তিনি বলেন, যদিও পাশ্চাত্য সভ্যতা প্রযুক্তিজাত সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ, গতির দ্রুততা, সহজতা ও মানুষের জীবন যাপনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের উপকরণ প্রদর্শন করেছে এবং মানুষের জীবন যাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে, কিন্তু এ সভ্যতা মানবজাতিকে শান্তি, স্বস্তি, সৌভাগ্য ও সুবিচার উপহার দিতে পারে নি; বরং এ সভ্যতা স্বীয় অভ্যন্তরীণ স্ববিরোধিতার কবলে নিপতিত হয়েছে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, পাশ্চাত্য সভ্যতা তার বাহ্যিক জাঁকজমক ও চাকচিক্য সত্ত্বেও বর্তমানে এমনভাবে নৈতিক ও চারিত্রিক দিক থেকে দুর্নীতি, অনাচার ও পঙ্কিলতার আবর্তে নিমজ্জিত হয়েছে এবং চিন্তাগত ও মানসিক দিক থেকে এমনভাবে অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়েছে যে, স্বয়ং পশ্চিমা জগতের লোকেরাই তা অনুভব করতে পেরেছে।

ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলামী জাহানের জন্য এখন আধুনিক ইসলামী সভ্যতার মজবুত ভিত্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের পালা এসেছে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে উপনীত হবার জন্য ইসলামী জাহানের রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক নীতি নির্ধারকদের ওপরে আশা করার কোনো কারণ নেই; বরং এ লক্ষ্যে সেই সব ওলামায়ে দীন এবং সত্যপন্থী চিন্তাবিদ ও বুদ্ধি বৃত্তিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে যাঁরা পাশ্চাত্যকে তাঁদের কিবলা হিসেবে গ্রহণ করে নেন নি; তাঁদের পক্ষ থেকে ইসলামী উম্মাহ্র মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী উল্লেখ করেন যে, ইসলামী জাহান অত্যন্ত উন্নত মানের ভূখণ্ড, সুবিধা জনক ভৌগোলিক অবস্থান, প্রভূত প্রাকৃতিক সম্পদ এবং প্রতিভা ও দক্ষতার অধিকারী জনশক্তি সহ বিরাট সম্ভাবনা ও সামর্থ্যরে অধিকারী। তিনি বলেন, এ সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে যদি প্রকৃত ইসলামী শিক্ষার সাথে সংমিশ্রিত করা হয় তাহলে ইসলামী উম্মাহ্র পক্ষে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কারিগরি, রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রসমূহে দক্ষতার সাথে স্বীয় সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো সম্ভব হবে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে এ মহান লক্ষ্যসমূহে উপনীত হওয়া সম্ভব হওয়ার বাস্তব দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের আগে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে ইরান ছিল পশ্চাদপদ, অন্যদিকে কূটনৈতিক দিক ছিল কোণঠাসা, আর জাতীয় মর্যাদার বিচারে এ দেশটি ছিল পুরোপুরি অন্যের তাঁবেদার। কিন্তু ইসলামের বদৌলতে আজ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান স্বীয় স্বাতন্ত্র্য প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে; এ দেশ আজ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অন্যান্য আধুনিক জ্ঞানে খুবই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে এবং এসব ক্ষেত্রে মাত্র অল্প কয়েকটি দেশ বাদে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হয়েছে। তিনি বলেন যে, ইসলামী জাহানের সকল দেশের পক্ষেই এ ধরনের উন্নতি ও অগ্রগতির অধিকারী হওয়া সম্ভবপর। তিনি বলেন, তবে এ ধরনের অবস্থানে উপনীত হবার জন্য একটি শর্ত পূরণ করা অপরিহার্য। আর সে শর্ত হচ্ছে, মুসলিম জাতি সমূহের ওপর থেকে পরাশক্তিসমূহের ভারী ও অন্ধকার অপছায়া অপসারণ করতে হবে। অবশ্য তা করতে হলে যথেষ্ট মূল্য দিতে হবে। কারণ, মূল্য প্রদান করা ছাড়া কোনো বিরাট লক্ষ্যই অর্জিত হতে পারে না।

ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, পাশ্চাত্য সভ্যতার বিপরীতে ইসলামী সভ্যতা কোনো দেশকেই শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে স্বীয় আধিপত্যের অধীনে নিয়ে আসে না।

তিনি বলেন, আধুনিক ইসলামী সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করতে গিয়ে আমাদেরকে কোনোভাবেই পশ্চিমাদের প্রতি দৃষ্টি দিলে চলবে না এবং আমরা যেন তাদের মৃদু হাসি ও মুখ ভার করাকে গুরুত্ব না দেই। বরং আমাদেরকে আমাদের নিজেদের শক্তি, সামর্থ্য ও সম্ভাবনার ওপরে নির্ভর করতে হবে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী স্মরণ করিয়ে দেন যে, আধুনিক ইসলামী সভ্যতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ইসলামের দুশমনরা যেসব হাতিয়ার ব্যবহার করছে তার অন্যতম হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, আমেরিকান সরকারের নীতি নির্ধারকদের অভিধানে যখন ‘শিয়া ও সুন্নি’ বিষয়টি স্থান লাভ করে তখনই চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ ও বিশ্লেষকগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। কারণ, তখনই এটা সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তারা একটি নতুন এবং আগেরটির চেয়েও অধিকতর বিপজ্জনক একটি ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকানরা সামগ্রিকভাবে ইসলামের বিরোধী, সুতরাং তারা যে মুসলমানদের মধ্যকার কতক র্ফিকার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে তখন তা দেখে কারোরই প্রতারিত হওয়া উচিত নয়।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা বলেন, এর আগে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এগারোই সেপ্টেম্বরের ঘটনার পরে ক্রুসেড যুদ্ধের কথা বলেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁর সে উক্তি ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে বলদর্পী বিশ্বের যুদ্ধেরই নিদর্শন। আর মার্কিন সরকারের বর্তমান কর্মকর্তারা যে মুখে মুখে ইসলামের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছেন প্রকৃত পরিস্থিতির সাথে তার কোনোই মিল নেই; বরং তাঁদের এ ধরনের উক্তি সমূহ তাঁদের মুনাফেকির নিদর্শন মাত্র। তিনি বলেন, আমেরিকার বর্তমান প্রতিরোধ প্রকৃতপক্ষে ইসলামের বিরুদ্ধে; তারা মুখে যা বলছে তার বরখেলাফে কার্যত মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে, আমেরিকার তাঁবেদারদের অর্থে ও তাদের নীতির ফলে ইসলামের নামে দায়েশ (আইএস্) ও একই ধরনের অন্যান্য ফিরকার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে এবং তারা বর্তমানে ইসলামী জাহানে বিরাট বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, আমেরিকান সরকারের কর্তাব্যক্তিরা যে সুন্নিদের সমর্থন ও শিয়াদের বিরোধিতা করছে বলে দাবি করছে তা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেন, গাযার যে জনগণ এভাবে আগ্রাসন ও সীমা লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে তারা কি সুন্নি নয়? তেমনি পশ্চিম তীরের যে জনগণ এভাবে চাপের মুখে আছে তারাও কি সুন্নি নয়?

আমেরিকান সরকারের জনৈক নীতি নির্ধারক যে বলেছেন, ‘আমেরিকার দুশমন হচ্ছে ইসলাম-প্রবণতা’Ñ এর উল্লেখ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকানদের কাছে শিয়া ও সুন্নিতে কোনো পার্থক্য নেই; যে কোনো মুসলমানই ইসলামের আহ্কাম ও আইন-বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করতে চাইবে তার বিরুদ্ধেই তারা লড়াই করবে, তারা তারই বিরোধিতা করবে। তিনি বলেন, মুসলমানদের সাথে আমেরিকানদের আসল সমস্যা হচ্ছে এই যে, মুসলমানরা ইসলামের আহ্কাম ও বিধি-বিধানের অনুসরণ করার চেষ্টা করছে এবং ইসলামী সভ্যতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, এ কারণেই যখন ইসলামী জাগরণ শুরু হয় তখন তারা উদ্বিগ্ন ও দিশাহারা হয়ে পড়ে এবং তা রোধ করার জন্য চেষ্টা করে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে তারা কতগুলো দেশে সফল হয়, কিন্তু ইসলামী জাগরণ ধ্বংস হবার নয়; বরং আল্লাহ্ তা‘আলার অনুগ্রহে এ জাগরণ তার লক্ষ্যে উপনীত হবে।
আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, বিশ্বের বলদর্পী শক্তিবর্গের জোটের আসল লক্ষ্য হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয়া এবং সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া প্রভৃতি দেশের অবকাঠামোসমূহ ধ্বংস করে দেয়া। তিনি বলেন, এ ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় নীরব হয়ে বসে থাকা ও আত্মসমর্পণ করা ঠিক হবে না; বরং দূরদৃষ্টির অধিকারী হয়ে এবং প্রতিরোধের হেফাযত করে এসব ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় রুখে দাঁড়াতে হবে।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বাহরাইনের মুসলমানদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং প্রায় এক বছর যাবত যে ইয়েমেনের মুসলিম জনগণের ওপর দিন-রাত বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে তার মোকাবিলায় ইসলামী জাহানের নীরবতার সমালোচনা করেন। এছাড়া তিনি সিরিয়া ও ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নাইজেরিয়ার সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেন। তিনি স্বনামখ্যাত শিয়া আলেম শায়খ্ ইবরাহীম আল-যাক্যাকী-র আটকের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিবেদিতপ্রাণ একজন সুযোগ্য ও খাঁটি মুমিন আলেমের ওপর কেন এভাবে বিপর্যয় চাপিয়ে দেয়া হলো? এতে প্রায় এক হাজার লোক নিহত হলো ও তাঁর সন্তানরা শহীদ হলেন, অথচ এ ধরনের একটি বিপর্যয়কর ঘটনার মোকাবিলায় মুসলিম জাহান নীরবতা অবলম্বন করল!

ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, ইসলামের দুশমনদের লক্ষ্য সমূহ অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তাই তার মোকাবিলায় দূরদৃষ্টির পরিচয় দেয়া ও সচেতন থাকা সকল মুসলমানেরই দায়িত্ব এবং বিশেষ করে ওলামায়ে ইসলাম এবং সত্যপন্থী চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিবৃত্তিকদের দায়িত্ব সাধারণ জনগণের সাথে ও জাগ্রতবিবেক রাজনীতিবিদ ও নীতি নির্ধারকদের সাথে আলোচনা করে তাঁদের সকলের সামনে প্রকৃত বিষয়গুলো তুলে ধরা।

হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, ধনী ও শক্তিমত্তার অধিকারী বিশ্ব যখন তার সমস্ত সামর্থ্য সহকারে ইসলামী জাহানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তখন কারো জন্যই ঘুমিয়ে থাকার ও প্রকৃত পরিস্থিতির প্রতি মনোযোগী না হওয়ার অধিকার নেই।

অনুবাদ: নূর হোসেন মজিদী