মঙ্গলবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

English

আনন্দ ও সংযোগের ৩ হাজার বছরের ঐতিহ্য নওরোজ

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ২৩, ২০২২ 

news-image

এবছর ফারসি নববর্ষ বা নওরোজ উদযাপন শুরু হয় সোমবার (২১ মার্চ)। নববর্ষ উপলক্ষে ইরানিরা কীভাবে ১৩ দিনের দীর্ঘ ছুটি উদযাপন করে এবং তিন হাজার বছর পরেও কেন এই উদযাপনটি এত জনপ্রিয় তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।২১ মার্চ ২০২২ বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষের কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। তবে এটি ইরান এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশের জন্য একটি বিশেষ দিন। এদিন থেকে শুরু হয়েছে ১৩ দিনের দীর্ঘ ছুটি। তিন হাজার বছর ধরে চলে আসছে এই ঐতিহ্য, যার নাম নওরোজ। এই প্রাচীন ঐতিহ্যটি কী এবং কেন এটি ইরানি মানুষ এবং বিশ্বের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর কাছে এত প্রিয়, তা আজ তুলে ধরব।ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এবছর ২১ মার্চ নওরোজ বা ফারসি নববর্ষ ১৪০১ সালের প্রথম দিন উদযাপন করছেন। ইরানে প্রায় ১৫ দিন ধরে চলবে ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব। নওরোজ উদযাপনের কারণে থেমে গেছে রাজধানী তেহরানের সব ব্যস্ততা। জনবহুল তেহরান শহর এখন একেবারেই ফাঁকা।নওরোজ হলো স্থানীয় বিষুব দিবস এবং উত্তর গোলার্ধে বসন্তের সূচনাকে নওরোজ হিসেবে গণ্য করা হয়। আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে, সূর্য আকাশের বিষুবরেখা অতিক্রম করে এবং রাত ও দিনের সমান করে নেওয়ার মুহূর্তটিকে ইরানি ক্যালেন্ডারে নওরোজের প্রথম দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই কারণেই বড়দিনের চেয়ে ভিন্নভাবে নওরোজ দিন বা রাতের বিভিন্ন সময়ে পালিত হয়। এদিন পরিবারের সাথে একত্রে আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে জড়ো হয় ফারসি ভাষাভাষীরা।তবে নওরোজ সম্পর্কে কিছু চটকদার কুসংস্কারও রয়েছে। কিছু মানুষের বিশ্বাস, এসময় হাসিখুশি সময় পার করতে না পারলে সারা বছর একটি দুর্ভাগ্যময় সময় কাটাতে হবে।নওরোজ যে অনেক ইরানি মানুষের হৃদয় ও স্মৃতিতে একটি বিশেষ স্থান ধারণ করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইরানি নববর্ষের বিস্ময়কর বিষয় হলো এটি শুধু ইরানেই উদযাপিত হয় না। প্রতিবেশী আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান এবং তুরস্কের মতো সিল্ক রোডের পাশের অনেক দেশ নওরোজ উদযাপন করে। দীর্ঘকাল ধরে এই সংস্কৃতি কেবল টিকেই নয় বরং ২১ শতাব্দীতেও ভালভাবে বিকাশ লাভ করেছে। নওরোজ এত ব্যাপক, বৈচিত্র্যময় যে এর সমস্ত বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ঐতিহ্য ও রীতিনীতি সর্বত্র একটি সুখের অনুভূতি দেয়।নওরোজ আসলে ইউনেসকো স্বীকৃত মানবজাতির জন্য একটি অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ইরানের উদ্যোগে এবং আজারবাইজান, ভারত, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং উজবেকিস্তানের যৌথ সহযোগিতায় ২০০৯ সালে এটি ইউনেসকোর তালিকায় প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ২০১৬ সালে নওরোজ সংস্কৃতির সাথে আফগানিস্তান, ইরাক, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান – আরও পাঁচটি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১০ সালে নওরোজের আন্তর্জাতিক দিবসকে স্বীকৃতি দেয়। দিবসটিকে ইরানি বংশোদ্ভূত বসন্ত উৎসব হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ১৫ মার্চ ২০১০ সালে নওরোজের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ৩৮৪-২ ভোটে নওরোজ রেজোলিউশন পাস হয়।নওরোজকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালন করে প্রায় ডজনখানেক দেশের ১৮৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ। সত্যিই বিশ্বের কাছে একটি সত্যিকারের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে পরিণত হয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক নওরোজ অর্থ কী।‘নওরোজ’ শব্দটি ফারসি। ‘নও’ শব্দের অর্থ ‘নব’ বা ‘নতুন’ এবং ‘রোজ’ শব্দের অর্থ ‘দিন’। নওরোজ ইরানি বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন। এটি উদ্‌যাপিত হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক গণনার দ্বারা নির্ণীত মহাবিষুবের দিনে, যা সাধারণত ২১ মার্চ বা তার পূর্বাপর দিনে ঘটে। যেদিন সূর্যকিরণ নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে এসে পড়ে ও দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয় সেই দিনটিকে প্রতিবছর জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্যে নির্ণয় করে সমস্ত ইরানি পরিবার একত্রিত হয়ে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালন করে।ইরানের গোলাপ খুব বিখ্যাত। ইরানের সংস্কৃতি খুবই সমৃদ্ধ। ইরানের সঙ্গীত ও কাব্যও সারা বিশ্বের রসিকজনের নজর কেড়েছে। সেই ইরানের নববর্ষ একটা আলাদা আবেদন তৈরি করে। বসন্ত মানেই উজ্জ্বল দিন, সুনীল দীপ্ত আকাশ। চারিদিকে পলাশ, আরও নানা ফুলের মেলা, ফুলগন্ধময় মনোরম এক আবহাওয়া। এই পারস্যে পালিত হয় নববর্ষ। যা নওরোজ নামে পরিচিত।ইরানি পুরাণে নওরোজের বিভিন্ন কাহিনী আছে। এই সময়ে বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিষ্টি বিনিময় করেন ইরানিরা। হার্ব রাইস ও মাছ ভাজা খাওয়ার একটা রীতি আছে সেখানে। সূর্য বিষুবরেখা অতিক্রম করলে ১৩ দিন ধরে সেখানে পালিত হয় উৎসব। নওরোজ ইতিহাস ৩০০০ বছর পুরোনো। সূত্র: মেহের নিউজ, পার্সটুডে।