রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

অবরোধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরান

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ১৮, ২০১৬ 

খন্দকার মোঃ মাহফুজুল হক

১৯৭৯ সালে যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা ছিল বিংশ শতাব্দীর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি। তখন বিশ্বজুড়ে এমন একটা ধারণা বদ্ধমূল ছিল যে, পুঁজিবাদী ও সমাজতন্ত্রী দুই পরাশক্তির কর্তৃত্ব অস্বীকার করে কোন রাষ্ট্র বা শাসনব্যবস্থা টিকে থাকা তো দূরের কথা, মাথা উঁচু করারই সামর্থ্য রাখে না। এমনই এক সময়ে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দুই পরাশক্তিকে ভ্রুক্ষেপ না করে মরহুম ইমাম খোমেইনী (র) সু¯পষ্টভাবে ঘোষণা করলেন, ‘আমরা পাশ্চাত্যও চাই না, প্রাচ্যও চাই না, আমরা চাই ইসলামী প্রজাতন্ত্র।’ ফলে অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন ইসলামী বিশ্বাস ও চেতনাকে পুঁজি করে ধর্মীয় নেতারা স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এই বিপ্লবের আদর্শ বেশি দিন টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।
অবশ্য পরাশক্তিগুলো শুরু থেকেই ইসলামের নব জাগরণকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে নি। নতুন ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে অঙ্কুরেই ধ্বংস করে দেয়ার উদ্দেশ্যে তারা প্রকাশ্যে এবং গোপনে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল। এর পরিণতিতে বিপ্লব-পরবর্তী বছরগুলোতে ইরানে হত্যা ও গুপ্ত হত্যার অনেকগুলো ঘটনা ঘটে।
পরাশক্তিগুলোর পরোক্ষ কারসাজিতে পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন হয়ে পড়ে যে, দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণের এক ঘটনায় দেশটির ¯িপকারসহ ৭২ জন শীর্ষস্থানীয় বিপ্লবী নেতা শহীদ হন। এর কাছাকাছি সময়ে অপর আরেকটি ঘটনায় ইসলামী সরকারের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শাহাদাত বরণ করেন। এই অবস্থা সামলে ওঠার আগেই নব প্রতিষ্ঠিত এই ইসলামী রাষ্ট্রটির ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় ভয়াবহ যুদ্ধের দানব। যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকে দীর্ঘ আট বছর। ১৯৮৮ সালের আগস্ট মাসে জাতিসংঘের কূটনৈতিক তৎপরতায় ইরান যুদ্ধ-দানবের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর দেশটির ইসলামী সরকার যখন দেশ পুনর্গঠনের কাজে হাত দেয় ঠিক তখনই সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যকামী শক্তিগুলো নানা বাহানায় ইরানের ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামী ইরানকে একঘরে করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১৯৭৯ সালে বিপ্লব বিজয়ের পর ৩৭টি বছর গত হয়েছে, কিন্তু কোনভাবেই ইরানকে ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করা সম্ভব হয় নি। প্রচণ্ড চাপে ফেলেও ইরানকে বাগে আনা যায় নি। বরং নানা ক্ষেত্রে সফলতা ও উন্নতির বিশাল ঝাঁপি নিয়ে দেশটি গত ১১ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ৩৭তম বার্ষিকী উদ্যাপন করেছে। বিশ্ব আজ লক্ষ করছে পাহাড়সম বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছে ইরান। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও প্রযুক্তি, শিল্প ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের অভাবনীয় উন্নতি বৈরী রাষ্ট্রগুলোকে রীতিমত বিস্মিত করেছে। এসবের মধ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে বিশাল কূটনৈতিক সফলতা। একঘরে করে রাখার পশ্চিমা নীলনকশা থেকে ইরান নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে নিজস্ব কূটনৈতিক দক্ষতায়। যোগ্য ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও প্রত্যয়ী কোন জাতির উন্নতি ও অগ্রগতি যে কোন ভাবেই রোধ করা যায় না তারই বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি করেছে আজকের ইরান।
প্রায় চার দশক আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয় যেমন বিশ্বজুড়ে আলোচনা-পর্যালোচনার ঝড় তুলেছিল এবং ইমাম খোমেইনীর আধ্যাত্মিক ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছিল, ঠিক তেমনি আজ সাঁইত্রিশ বছর পর বিশ্বের ছয় প্রভাবশালী দেশের সাথে ইরানের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনা দুনিয়াজুড়ে আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ইরানের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয় নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা। এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমরা এই চুক্তির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব।
যুদ্ধ নয়, শান্তি ও কূটনীতির মাধ্যমেই অর্জন সম্ভব
দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গত বছরের জুলাই মাসে ইরান ও প্রভাবশালী ছয় রাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঐ সমঝোতার ভিত্তিতে গত ১৬ জানুয়ারি পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়। যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদ যখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলেছে ঠিক তখন ইরানের সাথে ছয় জাতির সমঝোতা চুক্তিকে শান্তির বিজয় হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। ফলে যায়নিস্ট ইসরাইল এবং ঈর্ষাকাতর কয়েকটি আরব রাষ্ট্র ব্যতীত বাদ বাকি বিশ্ব এই চুক্তি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই চুক্তির পর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ পদক্ষেপ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মঘেরিনিও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এটা একটা আশার প্রতীক, আন্তর্জাতিক স¤পর্কেও এর মাধ্যমে একটা নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এমনকি কলিন পাওয়েল ও ম্যাডেলিন অলব্রাইটের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই চুক্তিকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। অর্থনীতিবীদরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইরানের মতো শক্তিশালী দেশ পুনরায় স¤পৃক্ত হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাবস্থা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে। ইরানও এই চুক্তি থেকে লাভবান হবে এবং বিভিন্ন দেশে আটক থাকা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি স¤পদ আস্তে আস্তে ফেরত পাবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যায়নিস্ট লবির অযৌক্তিক লম্ফঝম্ফকে দেশটির বেশির ভাগ মানুষ পাত্তা দেয় নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জাভাদ জারীফ এ বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আপনি তাদেরকে বলুন, যুদ্ধ করে যা অর্জন করা সম্ভব হয় না, শান্তি ও কূটনীতির মাধ্যমে তা অর্জন সম্ভব।’
অবরোধ-পরবর্তী কৌশলগত ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ইরানের অবস্থান পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের কাছে আগে থেকেই পরিষ্কার ছিল। তবে বিশ্বের আপামর মানুষের কাছে এটা সু¯পষ্ট হতে থাকে ইরানের সাথে প্রভাবশালী ছয় রাষ্ট্রের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই। সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে অর্জিত সমঝোতার ভিত্তিতে গত ১৪ জুলাই ২০১৫ ইরান ও প্রভাবশালী ছয় রাষ্ট্র (জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্র ও জার্মানি) একটি সমঝোতা চুক্তি সই করে। আর ২৯ জুলাই ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিউস ইরান সফরে গিয়ে বলেন, পরমাণূ কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ নি®পত্তি হওয়ার পর এ দুই দেশের মধ্যে স¤পর্ক উষ্ণতর করার এখনই সময়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দু’টি বড় ও স্বাধীন দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের কারণে এ দু’টি দেশের মধ্যে শীতল স¤পর্ক বিরাজ করলেও চুক্তি স্বাক্ষরের পর এখন তা আর নেই। তিনি ইরানের সাথে অর্থনৈতিক স¤পর্ক জোরদার করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
এরপর আগস্ট মাসে সফর করেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি। তিনি ইরানের সাথে কূটনৈতিক স¤পর্ক জোরদারের পাশাপাশি অর্থনীতির নানা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ইউরোপের আরেক বড় শক্তি জার্মানি এই দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে চায় নি। গত ২ ফেব্রুয়ারি একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টেইন মেয়ার ইরান সফরে যান। তাঁর এই সফর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ইউরোপের প্রভাবশালী এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফরকালে নিজ নিজ দেশের সরকারপ্রধানের আমন্ত্রণপত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির হাতে তুলে দেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট রুহানি গত ২৫ জানুয়ারি ইতালি ও ফ্রান্স সফর করেন। তাঁর এই সফরকালে দেশ দু’টির সাথে বেশ কিছু অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইতালির সাথেই হয়েছে ১৮.৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি। ফ্রান্সের সাথে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির পাশাপাশি ইরান এয়ারবাসের সাথে ১১৮টি যাত্রীবাহী বিমান ক্রয় চুক্তি করেছে। এ জন্য ইরানকে পরিশোধ করতে হবে ১০.৫ বিলিয়ন ডলার।
চীন ও রাশিয়াকে ইরানের কৌশলগত ও পুরানো বন্ধু মনে করা হয়। স¤পর্কের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ায় এই দুই দেশের সাথে ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স¤পর্কে ভাটা পড়তে পারে বিশেষজ্ঞরা এমন কোন সম্ভাবনা দেখছেন না। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং গত ১৯ জানুয়ারি তেহরানে বলেছেন, তাঁর দেশ ইরানের সাথে স¤পর্কের এক নতুন অধ্যায় উন্মুক্ত করতে চায়। এ যাত্রায় তাঁর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ৬০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তিসহ ১৭ দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অপরদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী এক দশকে বেইজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের বাণিজ্যের পরিমাণ ৬শ’ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। রাশিয়ার সঙ্গেও ইরানের অংশীদারীর পরিসর বাড়তে পারে। আঙ্কারার সঙ্গে মস্কোর স¤পর্কের ক্ষেত্রে সম্প্রতি যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে মস্কো ইউরোপ থেকে পণ্য এবং তুরস্ক থেকে ফল ও সবজি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে রাশিয়া আবার সেই ঘাটতি মেটাতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জন্য ইরান ভালো বিকল্প হতে পারে।
ইরান কী ভাবছে?
অবরোধ উঠে যাওয়ার পর ইরানের সাথে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স¤পর্ক বিস্তৃত করতে যে কোন দেশের চেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। ইরানের প্রতি বিশ্বের এই প্রচণ্ড আগ্রহের বিষয়টি দেশটির নেতারা কিভাবে সামাল দেবেন তাই এখন দেখার বিষয়। ইতিমধ্যেই ইরানের অর্থনীতিবীদ এবং বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেছেন। তাঁরা দেশের নীতিনির্ধারকদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, অবরোধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সবকিছু যদি পরিকল্পিত ও সুসমন্বিতভাবে করা সম্ভব না হয় তাহলে অর্থনৈতিক অবস্থা অবরোধকালীন সময়ের চেয়ে খারাপ হবে। যে কোন ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও দেশীয় শিল্প-কারখানা ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে তেহরানের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এহিয়া আলে ইসহাক বলেছেন, অবরোধের সময়ের চেয়ে অবরোধ-পরবর্তী সময়ের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি কঠিন হবে। এ ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারকদেরকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল এবং সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলো এখন ইরানের বাজারে প্রবেশ করার জন্য হন্যে হয়ে আছে। কাজেই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আশংকা প্রকাশ করা হচ্ছে, অবরোধ উঠে যাওয়ায় ইরান হয়তো তেল উত্তোলনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে, পরিণতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দর আরেক দফা হ্রাস পাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানের পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। কারণ, ইরান পারতপক্ষে তার জাতীয় স¤পদ ক্ষতিগ্রস্ত করে কোন কাজ করবে না। তাছাড়া বর্তমানে তেল-বহির্ভূত খাতে ইরানের রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা দিয়ে দেশটি তার আমদানি ব্যয় মিটাতে প্রায় সক্ষম। ফলে অবরোধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরান নিয়ে যত আগ্রহ ও উদ্দীপনাই তৈরি হোক না কেন দেশটির নীতি নির্ধারকরা যে কোন সিদ্ধান্ত ধীরে সুস্থে ও পরিকল্পিতভাবেই গ্রহণ করবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

লেখক : মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক